ইতিকাফ: পুণ্যময় আমল

ফাতেহ ডেস্ক ‘আমি ইবরাহিম ও ইসমাঈলকে এ মর্মে আদেশ প্রদান করেছি যে, আমার ঘরকে পবিত্র রাখো তওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য।’ –সূরা আল বাকারা

ইতিকাফ শব্দের অর্থ স্থির থাকা ও আবদ্ধ থাকা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়তে মসজিদের বাধ্যতামূলক অবস্থানকে ইতিকাফ বলা হয়।–কুদুরি

বছরের যেকোনো সময় ইতিকাফ করা যায়। তবে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের ফজিলত ভিন্ন। এটা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত।

আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রমজানের শেষ দশকে নবী করিম (সা.) ইতিকাফ করতেন। -সহিহ বোখারি: ২৪৯

হজরত ‏আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) প্রতি রমজানে দশ দিন ইতিকাফ করতেন। যে বছর তিনি ইন্তিকাল করেন, ওই বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন। -সহিহ বোখারি: ২৬০

হজরত হোসাইন ইবনে আলী (রা.) তার পিতার কাছ থেকে বর্ণনা করেন যে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের দশ দিন ইতিকাফ করলো, সে যেন দু’টো হজ ও দু’টো উমরা করল। -বায়হাকি: ৬১৪

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) মসজিদে নববীতে ইতিকাফরত ছিলেন। তার কাছে এক ব্যক্তি এসে সালাম দিয়ে বসল। ইবনে আব্বাস (রা.) তাকে বললেন, হে ভাই! তোমাকে যে অনেক চিন্তিত দেখছি? সে বলল, হ্যাঁ, হে রাসূলের চাচাতো ভাই! আমার ওপর অমুকের ঋণ রয়েছে। এই ঋণ পরিশোধ করার সাধ্য আমার নেই। ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, আমি কি সেই ব্যক্তির সঙ্গে তোমার ব্যাপারে কিছু বলব? সে বলল, যদি আপনি ভালো মনে করেন তাহলে বলুন। ইবনে আব্বাস (রা.) তখনই জুতা পায়ে দিয়ে মসজিদ থেকে বের হলেন। লোকটি বলল, আপনি যে ইতিকাফে ছিলেন তা কি ভুলে গেছেন? তিনি বললেন, না, ভুলিনি।

কিন্তু এই কবরের অধিবাসী (মহানবী সা.) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রয়োজনে কোথাও যাবে, তার জন্য এই কাজটা দশ বছরের ইতিকাফের চেয়েও উত্তম। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এক দিন ইতিকাফ করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে তিন খন্দক পরিমাণের চেয়েও বেশি দূরে সরিয়ে দেবেন। আর প্রতিটি খন্দকের দূরত্ব পৃথিবীর পূর্ব প্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্তের দূরত্বের চেয়েও বেশি। কথাগুলো বলার সময় ইবনে আব্বাস (রা.)-এর চোখ যুগল ছিল অশ্রুসিক্ত। -তাবারানি: ৬১৫

উপরোক্ত হাদিসে এক দিকে ইতিকাফের সওয়াব ও অন্য দিকে মুসলিম ভাইয়ের বিপদে সাহায্য করার মহা পুরস্কারের বর্ণনা রয়েছে। জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির জন্য ইতিকাফ ও পরোপকার দু’টোই পুণ্যময় আমল। আল্লাহ আমাদেরকে তার সন্তুষ্টি মোতাবেক আমল করার তওফিক দান করুন। আমিন।

-এ