একদিনে শেষ ভর্তিপরীক্ষা: সমন্বয়হীনতায় ভুগছেন মাদরাসাছাত্ররা

মুসান্না মেহবুব

রাজধানীর মানসম্মত ও উল্লেখযোগ্য অধিকাংশ মাদরাসায় গতকাল একদিনে নেওয়া হয়েছে কওমি শিক্ষাধারার নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তিপরীক্ষা। প্রতিবছরই এই নিয়মে শাওয়ালের ৮/৯ তারিখে ভর্তিপরীক্ষা নেয় এসব মাদরাসা। ফলে কোটাপূরণের পর বা কাঙ্ক্ষিত নম্বর না পাবার কারণে অনেক ছাত্রই মানসম্মত অন্য কোনো মাদরাসায় ভর্তি হবার সুযোগ পান না। ভোগান্তির পাশাপাশি স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়ে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানের কোনো মাদরাসায় ভর্তি হতে হয় তাদের।

মফস্বল থেকে রাজধানীর মানসম্মত মাদরাসায় পড়তে আসা নতুন ছাত্রদের এই ভোগান্তিটা পোহাতে হয় বেশি। রাজধানীর মানসম্মত ও উন্নত দুটো মাদরাসার যেকোনো একটিতে ভর্তি হবার স্বপ্ন নিয়ে জামালপুর থেকে এসেছেন রফিকুল ইসলাম। বেফাকের শরহে বেকায়া জামাতের পরীক্ষায় মুমতাজ পেয়েছেন তিনি। এবার পড়বেন জালালাইন।

বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই এসেছিলেন রফিক—মালিবাগ কিংবা জামিয়া রাহমানিয়া—যেকোনো একটিতে তিনি চান্স পাবেনই। গতকাল ৮ শাওয়াল মালিবাগে ভর্তিপরীক্ষা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত নম্বর পাননি, তবে হাল ছাড়েননি তিনি, আজ গিয়েছিলেন জামিয়া রাহমানিয়ায়, কিন্তু ওখানে গিয়ে শোনেন ভর্তিকার্যক্রম শেষের পথে, নতুন করে আর কাউকে ফরম দেওয়া হবে না। এদিকে মানসম্মত অন্য সকল মাদরাসায়ও ভর্তিকার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে আজ। মফস্বল থেকে ভালো মাদরাসায় পড়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে রাজধানীতে আসা রফিকুল ইসলাম অনেকটাই ভেঙে পড়েন।

রফিকুল ইসলামের মতো অনেক শিক্ষার্থীই আছেন, রাজধানীর মানসম্মত মাদরাসাগুলোতে একই দিনে ভর্তিপরীক্ষা নেবার কারণে যাঁরা কোনো একটি মাদরাসায় ভর্তি হতে না পারলে দ্বিতীয়টিতে আবেদন করার সুযোগ পান না। অনেক সময় ভর্তিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পরও কোটা পূরণ হয়ে যাবার কারণে নির্দিষ্ট মাদরাসায় কেউ কেউ ভর্তি হতে পারেন না। ফলে ভোগান্তি ও হতাশার অন্ত থাকে না এইসব শিক্ষার্থীর।

সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যাপক আকারে ভর্তিপরীক্ষার এই প্রক্রিয়ায় না গিয়ে বেফাকের রেজাল্টের ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট মাদরাসাগুলো ভর্তি নিলে অন্তত বেফাকভুক্ত জামাতগুলোর ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা এমন ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে পারত। তাছাড়া মানসম্মত মাদরাসাগুলো যদি পারস্পরিক একটা বোঝাপড়ার ভিত্তিতে শাওয়ালের প্রথম দুই সপ্তাহে আলাদা আলাদা দিনে ভর্তিপরীক্ষার ব্যবস্থা করে তাহলে এই সংকট সহজেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।