চলছে হেফাজতের দুদিন ব্যাপী শানে রেসালত সম্মেলন, নাস্তিক-মুরতাদ ও কাদিয়ানিদের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকার আহ্বান বক্তাদের

বিশেষ প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে চলছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে দু’দিন-ব্যাপী শানে রেসালত সম্মেলন। গতকাল উদ্বোধনী দিবসে চার অধিবেশনে বিভক্ত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা নোমান ফয়জী মেখল, মাওলানা মোহাম্মদ ইদরিস নাজিরহাট ও মাওলানা লোকমান হাকীম মোজাহের উলুম। বক্তব্য রাখেন, জামেয়া পটিয়ার শায়খুল হাদিস আল্লামা মুফতি আহমদুল্লাহ, দারুল উলুম হাটহাজারীর সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা শায়খ আহমদ, তাহাফফুজে খতমে নবুয়তের মহাসচিব মাওলানা হাফেজ নুরুল ইসলাম, মাওলানা সাজেদুর রহমান বি বাড়িয়া, তাবলিগের দায়ী মুফতি নজরুল ইসলাম কাসেমী, ড.আ ফ ম খালিদ হোসেন, মুফতি কুতুবুদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা মোস্তাকুন্নবী কুমিল্লা, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী, মাওলানা আবু বকর বাশখালী, মাওলানা হাজী ইউসুফ, মাওলানা মাহববুর রহমান হানিফ প্রমূখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, মাওলানা মুঈনুদ্দিন রুহী ও মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, মাওলানা আ ন ম আহমদ উল্লাহ।

সম্মলেনে বক্তারা বলেছেন, নাস্তিক, মুরতাদ ও কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে এদেশের ধর্মপ্রাণ মানুশকে সর্বদা সোচ্চার ও সজাগ থাকতে হবে। আমাদের অবহেলা ও গাফলতির কারণে ইসলাম-বিরোধী চক্র যেন আমাদের ঈমান-আকিদা নিয়ে চিনিমিনি খেলতে না পারে।

মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন, মুসলমানদের ঈমান-আক্বিদা বিনষ্ট করার বহুমুখী চক্রান্ত চলছে। কাদিয়ানীবাদ মুসলিম উম্মাহর জন্য জঘণ্যতম ফিতনা। এই ফিতনা প্রতিরোধে আলেমসমাজ ও ধর্মপ্রাণ জনগনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মাওলানা সাজিদুর রহমান বলেন, সাস্কৃতিক আগ্রাসন দ্বারা আমাদের সন্তান-সন্ততিদের চরিত্র নষ্ট করা হচ্ছে। দুর্নীতি-সুদ-ঘুষ-ব্যাভিচার সমাজে মহামারী আকার ধারণ করেছে। মানুষের জীবন থেকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ এবং খোদাভীতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন-নাস্তিক, মুরতাদ ও ধর্মদ্রোহীরা মহান আল্লাহ ও তার রাসূল (সা:)-এর শানে বেয়াদবি করছে। আমরা তা সহ্য করতে পারি না।

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন, নাস্তিক, মুরতাদ ও কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে আজীবন আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। মুসলমানরা নিজের জীবনের চাইতেও মহানবী সা.-কে বেশি ভালোবাসেন। নবীপ্রেম ঈমানদার হওয়ার পূর্বশর্ত। আকীদায়ে খতমে নবুওয়ত অস্বীকারকারীরা কাফের। ভ-নবী মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর অনুসারী আহমদিয়া জামাত নাম দিয়ে সাধারণ মুসলমানদের ঈমান হারা করছে। কুরআন, হাদীস ও উম্মতের ঐক্যমত হলো কাদিয়ানী সম্প্রদায় মুসলমান নয়। তাই এদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে। তিনি বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের মাধ্যমে আমাদেরকে তাগুতি, কুফরী, সাম্রাজ্যবাদী, ইসলাম ও দেশ বিরোধী শক্তির মোকাবেলা করতে হবে।

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, ২০১৩ সালে ৫ই মে ঢাকার শাপলা চত্বরে যারা রক্ত দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, তারা কেবল মহান আল্লাহ ও প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সা. এর ভালবাসা নিয়ে ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। হেফাজতে ইসলাম যে ১৩ দফা দাবি নিয়ে সেদিন ময়দানে নেমেছিল সে দাবি আজও পূরণ হয়নি। ঈমান রক্ষার আন্দোলনে যারা শাহাদত বরণ করেছেন তারা আমাদেরই ভাই, তাদেরকে আমরা ভুলে যেতে পারি না। তিনি বলেন, হেফাজত কাফেলার মাতৃভূমি কিন্তু বাংলাদেশ। তারা এদেশের নাগরিক, আইন বিরোধী কোন কর্মকা-ে তারা জড়িত নয়, কোন দাগী আসামিও নয়, আলেমরা শান্তি প্রিয়, সমাজে তারা মর্যদাশালী। এরা কোন অন্যায় করেনা। আলেম ওলামাদের সাথে জুলুমের পরিনতি খুব ভয়াবহ। আল্লাহর অলিদের বিরুদ্ধে যারা বিদ্বেষ পোষণ করে, অন্যায় জুলুম করে অল্লাহ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

আল্লামা বাবুনগরী আরও বলেন, আল্লাহর জমিনে নাস্তিকদের থাকার স্থান নেই। শাপলা চত্বরের শহীদদের বিচার বাংলার সবুজ চত্বরে একদিন হবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের রাজনৈতিক কোন এজেন্ডা নেই, তাই ধর্মীয় ও ঈমানী কোনো বিষয়ে ছাড় দিতে পারি না। সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস, ধর্ম ও রাসূলের সা. অবমাননাকারী নাস্তিক-মুরতাদদের শাস্তির জন্য মৃত্যুদ-ের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস এবং কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে সরকারীভাবে অমুসলিম ঘোষণাসহ হেফাজতের তের দফা ঈমানী দাবী বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় যে কোন কঠিন আন্দোলনের জন্য তৌহিদী জনতা প্রস্তুত রয়েছে।

এইচ আর/