দেশে দেশে রমজান ও রমজানের পরিবেশ

ফাতেহ ডেস্ক

সিয়াম-সাধনার মাস মহিমান্বিত রমজান বাংলাদেশে আজ থেকে শুরু হলেও আরব দেশগুলোতে গতকাল ছিল পহেলা রমজান। চাঁদের ওপর ভিত্তি করে এ তারতম্যটা হয়। বিশ্বের প্রতিটা মুসলিম দেশে রমজান মাসে যেন আলাদা একটা আবহ ও আনন্দের আমেজ বিরাজ করে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনাচারে অসম্ভব পরিবর্তনের জন্ম হয়। সবার মধ্যেই কাজ ধর্মীয় একটি চেতনা।

ধর্মীয় চেতনা অভিন্ন হলেও দেশভেদে রমজানের আনন্দ ও আমেজে আছে তারতম্য। একেক দেশের মানুষ রমজানকে যাপন করে একেকভাবে। তবে সকলেই মহিমান্বিত এ মাসটি এলে আলাদা একটা আনন্দ অনুভব করে। এ অনুভবে কোনো ভিন্নতা নেই, হোক সে আরব কিংবা আজমের। মুসলিম-প্রধান কয়েকটি দেশের মানুষ রমজান কীভাবে কাটান, তাদের রমজানের সংস্কৃতি কী–এ নিয়ে সংবাদ সংস্থা আরব নিউজ একটি প্রতেবদন করেছে। প্রতিবেদনে উঠে আসে বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশের রমজান যাপনের চিত্র।

সৌদি আরবে রমজান আসে প্রতিটি বাড়িতে পবিত্রতার এক বার্তা আর রীতি নিয়ে। সূর্য যখন পাটে বসা শুরু হয়, সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির ভেতর থেকে এলাচের ঘ্রাণযুক্ত খাবার আর আরবের বিখ্যাত কফির ঘ্রাণ বেরিয়ে আসতে শুরু করে। শুকনো ময়দা দিয়ে দলা পাকানো হয় সমুসা তৈরির জন্য। গোলাপের ঘ্রাণযুক্ত চা-ও আছে তালিকায়। সৌদি আরবে যদি ঘোরেন তাহলে বিভিন্ন বাড়ি থেকে শুনতে পাবেন পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াত। আবার পরিবারের সদস্যরা প্রবীণদের জন্য পাঠিয়ে থাকেন নানা রকম মিষ্টি খাবারসহ বিভিন্ন পদের খাবার।

ইফতারের সময় হালকা খাবার খেয়ে থাকেন সৌদি আরবের মুসলিমরা। ইফতারের পরে তারাবিহ নামাজ আদায় করার আগে তারা কিছু মিষ্টি ও আরবের বিখ্যাত কফি পান করেন। পান করেন পবিত্র জমজমের পানি। টিনের তৈরি টুটুওয়া নামের ছোট্ট ছোট্ট কাপে তা পান করা হয়।

মিশরে রোজা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা আনন্দ করতে থাকে। তারা ছুটে যায় প্রতিবেশীদের দরজায়। ছোট ছোট ফানুস উড়িয়ে মজা করে। রমজানকে স্বাগত জানিয়ে গাইতে থাকে লোকগান ‘ওয়াহাইয়ি ইয়া ওয়াহাইয়ি’। রোজার আগমনে মিশরীয়রা তাদের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট সাজান ফানুস দিয়ে। তবে ইফতারে তারা ভারি খাবার খান। সেহরিতে খান হালকা খাবার। পরিবারের সদস্যরা ও বন্ধুবান্ধবরা মসজিদে একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় করেন একসঙ্গে। ইফতারের পর নামাজ আদায় শেষে তারা বাড়িতে বা কোনো ক্যাফেতে জমায়েত হন। সেহরির কিছু সময় আগে মেসাহারাতি হিসেবে পরিচিত লোকজন সবাইকে ডেকে তোলেন ড্রাম বাজিয়ে।

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চললেও রাতে অনেক মার্কেট মানুষে পরিপূর্ণ থাকে। তারা কেনাকাটা করেন। চা পান করেন। জনগণের উদ্দেশে বাজানো হয় প্রচলিত গান। পরিবেশন করা হয় লোকনৃত্য। আরেকটি রীতি হলো সেখানে গল্প বলা হয়। এটা হাকাওয়াতি নামে পরিচিত। পবিত্র কোরআন থেকে এবং বিভিন্ন লোককাহিনী থেকে সাহসী ও যোদ্ধাদের সম্পর্কে গল্প বলা হয়।

লেবাননে শতকরা ৪০ ভাগ মানুষ খ্রিস্টান। তবু সারা লেবাননে পবিত্র রমজান পালন করা হয় যথাযোগ্য মর্যাদায়। এ সময়ে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা, নাগরিক সংগঠন ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ইফতারের আয়োজন করে।

ইরাকে রাতের বেলা কারফিউ থাকলেও রমজানের রাতে যেন শহরগুলো জেগে ওঠে। জনসমাগমের স্থানগুলো মানুষে মানুষে ভরে ওঠে। সব বয়সের মানুষ যোগ দেন সেখানে। তারা মিষ্টি ও চা দিয়ে ইফতার করেন। কেনাকাটা করেন। শহর সাজানো হয় বিভিন্ন রঙের আলোতে।

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদচলতি বছরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাঁরা হজ করবেন, তাঁদের নিবন্ধনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ১৫ মে অবধি
পরবর্তি সংবাদবিএনপির পহেলা ইফতার ওলামা-মাশায়েখ-এতিমদের সম্মানে