পুলিশের বয়ান: যেভাবে শহিদ করা হয়েছে ডক্টর আদিল খানকে

ডক্টর আদিল খান

রাকিবুল হাসান:

পাকিস্তান জামিয়া ফারুকিয়া করাচির প্রতিষ্ঠাতা শাইখুল হাদিস, পাকিস্তান মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফকের সভাপতি, আল্লামা সলিমুল্লাহ খান রহ. এর ছেলে মাওলানা ডক্টর আদিল খান আততায়ীদের গুলিতে শহিদ হয়েছেন। গতকাল শনিবার জামিয়া দারুল উলুম করাচি থেকে জামিয়া ফারুকিয়ায় ফেরার পথে ২নং শাহ ফয়সাল কলোনীতে মোটরসাইকেল আরোহীর গুলিতে তিনি নিহত হোন। খবর দ্য ইন্টারন্যাশনাল নিউজ।

পুলিশ জানিয়েছে, করাচির শাহ ফয়সাল কলোনী এলাকায় প্রখ্যাত ধর্মীয় পন্ডিত মাওলানা আদিল খানকে তার চালকসহ গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শামা শপিং সেন্টারের বাইরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে একটি টয়োটা ভিগোতে তিনি বসে ছিলেন। তখন মোটরসাইকেলের আরোহীরা তাঁর কাছে এসে তাকে গুলি করে।

উমায়ের নামে তৃতীয় ব্যক্তিও মাওলানা আদিলের সাথে ছিলেন এবং এই ঘটনায় তিনি বেঁচে গেছেন। তিনি মিষ্টি কিনতে শপিং সেন্টারের ভিতরে গিয়েছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘মোটরসাইকেল চালকরা তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। দেখে মনে হয় তাকে সন্ত্রাসীরা অনুসরণ করছিল। ঘটনাস্থল থেকে ৫টি গুলির ৯ মিমি ক্যাসিং উদ্ধার করা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম নবী মেমন জানান, ‘মোটরসাইকেলে তিনজন ছিলেন। একজন নেমে গুলি করে। আমরা প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জবানবন্দি সংগ্রহ করছি। তবে এই পথে মাওলানা সচরাচর যাতায়াত করতেন না।’

ঘটনার পরপরই পুলিশ এবং সিন্ধু রেঞ্জার্সের একটি ভারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার সাহায্যে তদন্ত শুরু করে।

ফুটেজ বিশ্লেষণ করার পরে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) ইনচার্জ রাজা উমর খিতাব বলেছেন, ‘তিনজন লোককে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। ব্যাকআপ হিসাবে কাছাকাছি হয়তো আরও কেউ ছিলো। এটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা উস্কে দেওয়ার ষড়যন্ত্র।’

লিয়াকত জাতীয় হাসপাতালের সূত্রে দ্য ইন্টারন্যাশনাল নিউজ বলেছে, ‘মাওলানা আদিল দুটি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।’

এদিকে পুলিশ মহাপরিদর্শক মুশতাক মেহের সিন্ধু মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলী শাহকে এই ঘটনার প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। সিএম শাহের মুখপাত্রের মতে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মাওলানা আদিলের গাড়ি শপিং সেন্টারের কাছে এসে থামে এবং তার এক সঙ্গী কেনাকাটা করতে ভিতরে যান। তখন দুজন অজ্ঞাত সন্দেহভাজন তাকে গুলি করে গুলি করে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে পাঁচটি গুলি চালানো হয়েছিল। যে সহচর বেঁচে গিয়েছিল, উমাইর বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘কিছু উগ্রবাদী উপাদান শহরে শান্তি বিঘ্নিত করতে চায়।’

দ্য ইন্টারন্যাশনাল নিউজ থেকে অনূদিত

বিজ্ঞাপন