বাংলাদেশের শতবর্ষী পাঁচ মাদরাসা (দ্বিতীয় পর্ব)

রাগিব রব্বানি : 

বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষার ইতিহাস হাজার বছরের ঐতিহ্যসমৃদ্ধ। হাজার বছর পূর্বে ইসলামের আগমন ও বিস্তার এ অঞ্চলে হয়েছিল প্রধানত সুফি-সাধকদের মাধ্যমে। ইসলামের শাশ্বত বাণী ও একত্ববাদের প্রচার এই সুফি-সাধকরা করেছিলেন মূলত ইসলামি শিক্ষার বিস্তারের মধ্য দিয়ে। মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো দীর্ঘ একটা কাল এখানে সুফি-সাধক-আলেমদের খানকা কিংবা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছিল ইসলামি জ্ঞানের চর্চা। ছাত্ররা ইলম হাসেলের জন্য শিক্ষকের খানকায় কিংবা দরসগায় পড়ে থাকতেন। পরে উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের গোড়া পত্তনের পর ধীরে ধীরে ইলম অর্জনের চর্চা প্রাতিষ্ঠানিকতায় রূপ নেয়। বাংলা অঞ্চলে হাজার হাজার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

কিন্তু ইংরেজ শাসনামলে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো নানা বাহানা ও ছুতোয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। শিক্ষায় সমুজ্জ্বল উপমহাদেশের মুসলিমরা নিমজ্জিত হয় অশিক্ষার অন্ধকারে। এই অন্ধকার থেকে তাঁদেরকে মুক্ত করতে ১৮৬৬ সালে ভারতের দেওবন্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহাসিক দারুল উলুম মাদরাসা। এখান থেকে শিক্ষার আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে পরবর্তী অল্প কিছুদিনের ভেতর উপমহাদেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন একঝাঁক আলেম। তাঁদের চেষ্টা ও মেহনতের বদৌলতে স্থানে স্থানে দেওবন্দের আদর্শ ও আদলে গড়ে উঠতে থাকে নতুন নতুন মাদরাসা।

এই পরম্পরায় আঠারো শতকের গোড়ার দিকে এবং ঊনিশ শতকের সূচনালগ্নে বর্তমান বাংলাদেশ অঞ্চলেও গড়ে উঠেছিল বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কালের নানা ঝড়-ঝাপটা মুকাবেলা করে শতবর্ষ পর আজও যেগুলো দীনি শিক্ষার বিস্তারে অবদান রেখে চলেছে। ‘বাংলাদেশের শতবর্ষী পাঁচ মাদরাসা (প্রথম পর্ব)’ শিরোনামে সম্প্রতি এরকম পাঁচটি মাদরাসা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর। সেই ধারাবাহিকতায় এরকম আরও পাঁচটি মাদরাসা নিয়ে ‘বাংলাদেশের শতবর্ষী পাঁচ মাদরাসা (দ্বিতীয় পর্ব)’ সাজানো হলো।

১. জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া

তিতাস বিধৌত শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শতবর্ষী এ মাদরাসাটি দেশের অন্যতম দীনি বিদ্যাপীঠ। শতাব্দী কাল ধরে এ মাদরাসা অসংখ্য মনীষী আলেমের জন্ম দিয়ে এসেছে। ধন্য হয়েছে দেশ-বিদেশের দরবেশ আলেমদের পদধূলিতে। ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট অত্যন্ত চমকপ্রদ। মাদরাসাটির শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ থেকে জানা যায়, উনিশ শতকের প্রথম দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কাদিয়ানিদের প্রচারণা ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছিল। নানা কলাকৌশলে সরলমনা মুসলিম জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছাড়াচ্ছিল কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের লোকজন। কিন্তু এই বিভ্রান্তি মুকাবেলায় সেখানে না ছিল কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, না ছিলেন কোনো সমঝদার ধর্মবেত্তা।

এলাকার এমনই এক ক্রান্তি লগ্নে হাজার মাইল দূরে ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজাফফরাবাদের এক মনীষী আলেম, মাওলানা আবু তাহের ইউনুস রহ., একরাতে স্বপ্নযোগে মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামকে দেখতে পেলেন। নবিজি তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে সেখানে হিজরত করার নির্দেশ দেন এবং বলেন সেই এলাকায় তিনি যেন একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

মাওলানা আবু তাহের ইউনুস স্বপ্নযোগে নবিজির এই নির্দেশনা পাবার পর কালবিলম্ব না করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছুটে আসেন। এখানকার স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে পরামর্শ করে বর্তমান শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে দারুল উলুম দেওবন্দের আদর্শ ও আদল অনুসরণে বাহরুল উলুম নামে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

মাওলানা আবু তাহের ইউনুসের ইন্তেকালের পর মাদরাসাটির দায়িত্বে আসেন ফখরে বাঙাল তাজুল ইসলাম রহ.। তিনি দায়িত্বগ্রহণের পর হজরত আবু তাহের ইউনুসের হিজরত এবং ত্যাগকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে বাহরুল উলুম মাদরাসাটির নাম পরিবর্তন করে ‘জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া’ রাখা হয়। কালের পরিক্রমায় মাদরাসাটি আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ দীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

জামিয়া ইউনুসিয়া বিগত একশত বছরে অনেক মনীষী আলেমের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—

১. আল্লামা হেদায়েতুল্লাহ (মুহাদ্দিস সাহেব রহ.)। সাবেক প্রিন্সিপাল, জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ, ঢাকা।

২. শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ.। বুখারি শরিফের বঙ্গানুবাদক। প্রতিষ্ঠাতা ও শায়খুল হাদিস, জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া, ঢাকা।

৩. মাওলানা শেখ আব্দুল হক গাজীনগরী রহ. (সুনামগঞ্জ)। খলিফা, শায়খুল ইসলাম হযরত হোসাইন আহমাদ মাদানি রহ.।

৪. মুফতিয়ে আযম, মুফতি নুরুল্লাহ রহ.। সাবেক মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস, জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

৫. আল্লামা মুফতী ফজলুল হক আমিনী রহ.। সাবেক শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল, জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া, লালবাগ, ঢাকা৷ প্রাক্তন চেয়ারম্যান, ইসলামী ঐক্যজোট।

৬. মাওলানা মুতিউর রহমান রহ.। সাবেক নাযেমে তালিমাত, জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

৭. মাওলানা শাহ সৈয়দ মুছলেহ উদ্দিন রহ.। চেয়ারম্যান, নেজামে ইসলাম পার্টি। সাবেক ইমাম, শোলাকিয়া ঈদগাহ ও প্রিন্সিপাল হযরত নগর কামিল মাদরাসা, কিশোরগঞ্জ৷

৮. মাওলানা মুফতী রিয়াজুতুল্লাহ রহ.। সাবেক মুহতামিম, জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

৯. মাওলানা আলী আকবর রহ.। সাবেক মুরব্বি, বাংলাদেশ তাবলীগ জামাত।

১০. মাওলানা আব্দুর রহমান রহ.। শায়খে ধুলিয়া, হবিগঞ্জ। খলিফা, হযরত হুসাইন আহমদ মাদানি রহ.।

১১. অধ্যক্ষ মাওলানা আহমাদ হাসান চৌধুরী রহ.। সাবেক হেড মাওলানা, মাদরাসা-ই আলিয়া, ঢাকা। সাবেক প্রিন্সিপাল, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা।

এ ছাড়া আরো বহু কৃতি ও মনীষী ব্যক্তিত্বের জন্ম দিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রতিবছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে তিনশো’রও অধিক শিক্ষার্থী তাকমিল ফিল হাদিস সমাপ্ত করে মাওলানা ডিগ্রি অর্জন করছেন। (তথ্যকৃতজ্ঞতা : সাঈদ সালমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

২. আল জামিয়াতুল আরাবিয়া আল ইসলামিয়া, জিরি, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের প্রাচীনতম ও বৃহৎ দীনি বিদ্যাপীঠের অন্যতম আল জামিয়াতুল আরাবিয়া আল ইসলামিয়া, জিরি। হাটহাজারী মাদরাসা প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দের দিকে চট্টগ্রামের মনীষী আলেম মাওলানা আহমদ হাসান রহ. এই প্রতিষ্ঠানটির গোড়াপত্তন করেন।

২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের ২১, ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি মাদরাসাটি বিশাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করেছে। সেই সময়ে জামিয়াটির প্রধান মাওলানা শাহ মোহাম্মদ তৈয়্যব গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ অবধি ৮ সহস্রাধিক তালেবুল ইলম এ মাদরাসায় অধ্যয়ন করে আলেম ও মুফতি’র সনদ অর্জন করেছেন।

৩. জামিয়া মোহাম্মদিয়া হাড়িকান্দী, জকিগঞ্জ, সিলেট

সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জের ৩ নং কাজলসার ইউনিয়নের হাড়িকান্দী গ্রামে ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রাচীনতম এ দীনি বিদ্যাপীঠ।

১৯ শতকের শুরুর দিকে সিলেট অঞ্চলে ধর্মীয় শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনকার মতো এত ব্যাপক না থাকলেও সাধারণ মানুষদের মধ্যে ধর্মের প্রতি অগাধ ভক্তি এবং জরুরি মাসআলা-মাসায়েল জানতে বেশ আগ্রহ ছিল। স্থানীয় মসজিদগুলোর ইমামদের প্রতিও সে-সুবাদে ছিল অনেক সম্মান ও ভক্তি। কোনো কোনো গ্রামে মসজিদের ইমাম গ্রাম্য সালিশের বিচারকার্যও পরিচালনা করতেন। হাড়িকান্দীর লাগোয়া গ্রাম বর্তমান দরগাহাবাহারপুর। এই গ্রামের মসজিদেই ইমামতি করতেন তৎকালীন আসাম প্রদেশের কাছাড় জেলার এমন এক প্রভাবশালী মৌলভী। নাম তাঁর আবদুল আলী রহ.।

প্রতিবছর শীতের মৌসুমে গ্রামে গ্রামে হতো ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন। সেই ধারাবাহিকতায় হাড়িকান্দী গ্রামে একবছর ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহফিলে স্থানীয় ইমাম হিসেবে মাওলানা আবদুল আলীও ওয়াজ করেন। তাঁর ওয়াজে তিনি প্রস্তাব রাখেন এই এলাকায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে। মাদরাসা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাঁর প্রস্তাবে তাৎক্ষণিক সাড়া দেন এবং এর ফলশ্রুতিতে জন্ম নেয় শতাব্দীপ্রাচীন হাড়িকান্দী মাদরাসা।

শতবর্ষের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সেই ছোট্ট মাদরাসাটিতে এখন দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত ক্লাস নেওয়া হয়। খোলা হয়েছে মেয়েদের জন্য পৃথক শাখাও। সেখানেও দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। মাদরাসাটির অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয় সিলেটের প্রখ্যাত ও প্রয়াত আলেম মাওলানা আবদুল গণী হাড়িকান্দীর হাত ধরে। ইন্তেকালের আগ অবধি দীর্ঘদিন তিনি এ মাদরাসার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে পুরুষ-মহিলা উভয় শাখা দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত উন্নীত হয়।

বর্তমানে প্রায় পাঁচ শতাধিক ছাত্রছাত্রী সীমান্তবর্তী এলাকার প্রাচীনতম এ দীনি বিদ্যাপীঠ থেকে ইলমে দীন অর্জন করছে।

৪. জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম হেমু, জৈন্তাপুর

সিলেট অঞ্চলের জৈন্তাপুর উপজেলার ধর্মীয় সংস্কৃতি আলাদা এক মহিমায় প্রস্ফুটিত সেই প্রাচীন কাল থেকেই। ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে এই উপজেলার বর্তমান ফতেহপুর ইউনিয়নের হেমু মৌজায় প্রতিষ্ঠিত হয় আজকের শতাব্দীপ্রাচীন মাদরাসা জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম হেমু। দেওবন্দ মাদরাসা প্রতিষ্ঠার অল্প কিছুকাল পরেই দেওবন্দের আদর্শ অনুসরণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই প্রতিষ্ঠান। বর্তমান বাংলাদেশে শতবর্ষী মাদরাসাগুলোর মধ্যে এ মাদরাসাটাই সবচেয়ে প্রাচীন হিসেবে বিবেচ্য।

স্থানীয় দুই শিক্ষানুরাগী আলেম মাওলানা মাহফুজুর রহমান ও মৌলভী হাফিজুল্লাহর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় এ মাদরাসাটি।

১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে খলিফায়ে মাদানি হজরত কৌড়িয়া রহ.-এর দরসদানের মাধ্যমে এখানে সর্বপ্রথম দরসে হাদিসের সূচনা হয়। তারপর দীর্ঘদিন এ প্রতিষ্ঠানটিতে শায়খুল হাদিস হিসেবে দরস দিয়েছেন হেমু এলাকার কীর্তিমান আলেম ও সিলেটের জামিয়া গহরপুরের সদ্য প্রয়াত শায়খুল হাদিস আল্লামা আবদুস সাত্তার (হেমুর হুজুর) রহ.।

মাদরাসাটি বর্তমানে পুরুষ ও মহিলা দুটো শাখায় সমৃদ্ধ। উভয় শাখাই দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত। প্রায় সাত শো ছাত্র-ছাত্রী প্রতিবছর এখানে অধ্যয়ন করেন।

৫. ইছামতি ইসলামিয়া আরাবিয়া মাদরাসা, ওসমানীনগর সিলেট

সিলেট জেলার বর্তমান ওসমানীনগর উপজেলার প্রাচীন এ মাদরাসাটির অবস্থান শায়খুল হাদিস আল্লামা গহরপুরী রহ.-এর জন্মস্থান বৃহত্তর গহরপুর এলাকার পাশেই, ইছামতি গ্রামে।

১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে স্থানীয় আলেম মৌলভী হুরমতুল্লাহ রহ. গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। উপমহাদেশের অসংখ্য মনীষী আলেমের সুহবত ও পদচারণায় ধন্য হয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার কারণে মাদরাসাটি বৃহৎ কোনো জামিয়ায় রূপলাভ করতে পারেনি। বর্তমানে কওমি মাদরাসা শিক্ষাধারার সানাবিয়া আম্মাহ পর্যন্ত পাঠদান করা হয় এখানে।