বেসামাল যুক্তরাষ্ট্র, আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়ালো

ফাতেহ ডেস্ক

করোনা বা কভিড-১৯ এর কারণে বেসামাল হয়ে পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে প্রতিদিন বেড়েই চলেছ আক্রান্তের সংখ্যা। গতকাল মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ হাজার ৬৫৩ জন, আর আজ সেটা বেড়ে ১ লাখ ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটিতে মৃত প্রায় ১৭শ। আক্রান্তের সংখ্যা দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে চীন ও ইতালিকে পেছনে ফেলেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছে রেকর্ড একদিনে ৩১৫ জন। ভাইরাস দেশটিতে ছড়িয়ে পড়ার পর যা একদিনে সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবার মারা গিয়েছিল ২৫৩ জন। বুধবার মৃতের সংখ্যা ছিল ২৩৩ জন। মঙ্গলবার ছিল ১৬৪ জন।

ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে নিউইয়র্কে, ৪৪ হাজার ৮১০ জন। এরপর নিউ জার্সিতে ৮ হাজার ৮২৫। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ হাজার ৪৫৯, মিশিগানে ৩ হাজার ৬৫৭, ম্যাসাচুসেটে ৩ হাজার ২৪০, ওয়াশিংটনে ৩ হাজার ২০৭ ও ইলিনয়িসে ৩ হাজার ২৬ জন আক্রান্ত হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার কোটি ডলারের প্রণোদনা অনুমোদন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে, ২৪ ঘণ্টায় এত মৃত্যু ‍আগে কখনও দেখেনি ইতালি ও স্পেন। ইতালিতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে ৯১৯ জন। এনিয়ে, দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৯ হাজার ১৩৪ জন। আর স্পেনে মৃত্যু হয়েছে ৭৭৩ জনের, মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৮৫৮ জনে। ইউরোপের এই দুই দেশে মৃত্যুর মিছিল বিশ্বে কভিড-১৯ রোগে মৃতের সংখ্যাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইতালিতে রেকর্ড মৃত্যুর পরও দেশটির শীর্ষ স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রধান সতর্ক করেছেন, এই ভাইরাস সংক্রমণ এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেনি।

দেশটিতে নতুন করে ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে চার হাজার ৪০১ জনের, মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬ হাজার ৪৯৮ জনে।

অন্যদিকে স্পেনে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭ হাজার ৮৭১ জনের এই ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৫৯ জনে।

এছাড়া, ফ্রান্সে ২৯৯, ইরানে ১৪৪, যুক্তরাজ্যে ১৮১ জন মারা গেছে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। কভিড-১৯ মোকাবিলায় ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউনের সময় বাড়িয়েছে বেলজিয়াম। ভারতের মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জন। কেবল পাঞ্জাবেই কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে ৪০ হাজার মানুষকে।

বিশ্বের ১৯৯ দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। এতে মোট আক্রান্ত ৫ লাখ ৯৪ হাজারের বেশি মানুষ। এক লাখ ৩২ হাজারেরও বেশি সুস্থ হলেও, মারা গেছেন ২৭ হাজার ২শ ৫২ জন। প্রথম মৃত্যু হয়েছে, জর্ডান, উজবেকিস্তান, টোগো ও নিকারাগুয়ায়।

-এ

বিজ্ঞাপন