‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাদপন্থীদের ইজতেমা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে’

মোহাম্মদ এনামুল হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কালিসীমা ঈদগাহ মাঠে তাবলিগের বিতর্কিত পক্ষ সাদপন্থীদের ইজতেমা বন্ধ, টঙ্গী ইজতেমা ময়দান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মারকাজসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাবলিগের সাথিদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব চত্বরে এক বিশাল মানববন্ধন মুফতি আব্দুর রহীম কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ,মাওলানা আব্দুল হাফিজ,মাওলানা বোরহান উদ্দিন আল মতিন, মুফতী মোহাম্মদ এনামুল হাসান,হাজ্বী ইইয়াকুব আমিনী, মুফতি জাকারিয়া খান, মাওলানা ইউসুফ ভূঁইয়া, মাওলানা মঈনুল ইসলাম, মুফতি মনির হোসাইন আজিজী প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

মানববন্ধনে বক্তাগণ বলেন, ইসলামের সুমহান আদর্শ তুলে ধরার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন যাবত তাবলীগ জামাত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল রাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। যার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ইসলামের সৌন্দর্য ও মর্মবাণীর প্রচার প্রসার ঘটেছে। কিন্তু সম্প্রতি কিছুদিন যাবত দিল্লীর ভ্রান্ত সা’দ এমনকিছু বক্তব্য প্রদান করছেন যা তাবলিগ জমাতের মূল আদর্শ, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থীই শুধু নয় বরং ইসলামের মৌলিক আকিদা-বিশ্বাসের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

বক্তাগণ বলেন, সা’দের ভ্রান্ত মতবাদ প্রচার করতে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কালিসীমা ঈদগাহ মাঠে ইজতেমার নামে তাদের ষড়যন্ত্র সভা করতে অপচেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের তাওহিদী জনতা তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র মূলক কর্মসূচি প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বক্তাগণ আরও বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে কোথাও যদি তাদের ইজতেমা করার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই জনস্বার্থে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের নিকট কালিসীমা ঈদগাহ মাঠসহ সারাদেশে তাদের জঙ্গি পরামর্শসভা বন্ধ, টঙ্গী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মারকাজে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেড্ডা এলাকায় তাদের মার্কাজ নামক সন্ত্রাসী পরামর্শস্থল বন্ধের দাবীতে স্বারক লিপি প্রদান করা হয়।