ভূমিহীনদের ৬ মাসের খাবার, রপ্তানি খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা

ফাতেহ ডেস্ক

কভিড দুর্যোগ মোকাবিলায় রপ্তানিমুখী শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ অর্থ দিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়া করা হবে। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে এ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যবসায়-বান্ধব বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী জুন মাস পর্যন্ত কোনো গ্রাহককে ঋণ খেলাপি না করার ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বে মহামারী আকার ধারণা করা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষায় সরকার এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এসময় নিম্নবিত্তদের সহায়তায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা জনস্বাস্থ্যসহ বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছে। বাংলাদেশের ওপরও এ আঘাত আসতে পারে।

করোনা মোকাবিলাকে যুদ্ধের সামিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এ যুদ্ধে সবাইকে ঘরে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ নিয়ে যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো জানান, বাজারে কোন পণ্যের ঘাটতি নেই। দেশের ভেতন ও বাইরের সঙ্গে সরবরাহ চেইন অটুট আছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি না করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সঙ্কটময় সময়ে সবাইকে সহনশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ সঙ্কটময় সময়ে আমাদের সহনশীল এবং সংবেদনশীল হতে হবে। কেউ সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করবেন না। বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই। অযৌক্তিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করবেন না। জনগণের দুর্ভোগ বাড়াবেন না। সর্বত্র বাজার মনিটরিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যারা করোনাভাইরাস-আক্রান্ত দেশ থেকে স্বদেশে ফিরেছেন, তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন বা বাড়িতে ১৪দিন আলাদা থাকার নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলতে অনুরোধ করেন শেখ হাসিনা।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানান, নিম্ন আয়ের ব্যক্তিদের ‘ঘরে-ফেরা’ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা প্রদান করা হবে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ৬ মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এবারের স্বাধীনতা দিবস এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উদযাপিত হচ্ছে। প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গোটা বিশ্ব এখন বিপর্যস্ত। ধনী বা দরিদ্র, উন্নত বা উন্নয়নশীল, ছোট বা বড়- সব দেশই আজ কমবেশি নভেল করোনা নামক এক ভয়ঙ্কর ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত। আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশও এ সংক্রমণ থেকে মুক্ত নয়।

তিনি বলেন, এ পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আমরা এবারের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ভিন্নভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জনসমাগম হয় এমন ধরনের সব অনুষ্ঠানের আয়োজন থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। এই মুহূর্তে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার মানুষকে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা।

দেশে ১৪ হাজার আইসোলেশন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ গুজব ছড়াবেন না, গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

-এ