মাওলানা আদিল খান হত্যাকাণ্ড: পাকিস্তানি রাজনীতিবিদদের নিন্দা

রাকিবুল হাসান:

পাকিস্তান জামিয়া ফারুকিয়া করাচির প্রতিষ্ঠাতা শাইখুল হাদিস, পাকিস্তান মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফকের সভাপতি, আল্লামা সলিমুল্লাহ খান রহ. এর ছেলে মাওলানা ডক্টর আদিল খানকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাকে ‘নিন্দনীয়’ এবং ‘কিলিং টার্গেট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এক টুইট বার্তায় তিনি এ নিন্দা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব তৈরির জন্য সুন্নি ও শিয়া সম্প্রদায়ের লোকদের হত্যার [আলেমদের] টার্গেট করার বিষয়ে ভারতের প্রচেষ্টার ব্যাপারে সচেতন। আমরা গত কয়েকমাসে প্রিমিয়ারভাবে এ জাতীয় প্রচুর প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করেছি। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই হত্যার দোষীদের গ্রেপ্তার করবে।’

তিনি সকল সম্প্রদায়ের উলামাদের আহ্বান জানিয়েছেন, যেন পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার জন্য এই নিন্দিত ভারতীয় নকশার শিকার না হন।

অন্যান্য রাজনীতিবিদ এবং নাগরিকরাও এই আলেমের উপর হামলার নিন্দায় সরব হয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এক টুইট বার্তায় সিন্ধুর শিক্ষামন্ত্রী সাঈদ গনি বলেছেন, মাওলানা আদিলের মৃত্যুর কথা শুনে তিনি অত্যন্ত দুঃখিত হয়েছেন। তার দাবি, আলেমের উপর হামলা ‘সিন্ধু পরিস্থিতি বিশেষত করাচিকে বিশৃঙ্খল করার’ একটি ষড়যন্ত্র ছিল।

জামায়াতে ইসলামীর (জেআই) প্রধান সিরাজুল হকও ড. আদিলের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে টুইটারে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের শত্রুরা তার উপর হামলা করেছে।’ তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান।

ড. আদিলের মৃত্যুতে পিএমএল-এন নেতা আহসান ইকবাল শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ‘পাকিস্তান ও মুসলিম বিশ্বকে অত্যন্ত সম্মানজনক পণ্ডিত ব্যক্তিত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, পাকিস্তান জামিয়া ফারুকিয়া করাচির প্রতিষ্ঠাতা শাইখুল হাদিস, পাকিস্তান মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফকের সভাপতি, আল্লামা সলিমুল্লাহ খান রহ. এর ছেলে মাওলানা ডক্টর আদিল খান আততায়ীদের গুলিতে শহিদ হয়েছেন। গতকাল শনিবার জামিয়া দারুল উলুম করাচি থেকে জামিয়া ফারুকিয়ায় ফেরার পথে ২নং শাহ ফয়সাল কলোনীতে মোটরসাইকেল আরোহীর গুলিতে তিনি নিহত হোন।

ডন থেকে অনূদিত

বিজ্ঞাপন