মারিয়া কিলারা : খ্রিষ্টান মায়ের কোল থেকে যেভাবে উদ্ভাসিত হলেন ইসলামের আলোয়

মারিয়া কিলারা : খ্রিষ্টান মায়ের কোল থেকে যেভাবে উদ্ভাসিত হলেন ইসলামের আলোয়
প্রতীকী ছবি

ফিচার ডেস্ক :

মারিয়া কিলারা মাহমুদ। ক্যাথেলিক চার্চে পড়াশোনা করা এ নারীকে জন্মের পরই খ্রিস্টান শিশুদের মতো যথারীতি ব্যাপ্টাইজ করা হয়। খ্রিস্টান মা ও মুসলিম বাবার সন্তান মারিয়া কিলারা। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি। বর্তমানে ফিলিস্তিনি শিশুদের কুরআন শেখানোর কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

মারিয়া কিলারা মাহমুদের ইসলাম গ্রহণ স্বাভাবিক ছিল না। তার বাবা মাহমুদ ওয়াযবিজ ছিলেন ফিলিস্তিনি মুসলিম। আর মা ইলিদা ছিলেন প্যারাগুয়ান খ্রিস্টান। মা ইলিদা মনে প্রাণে চেয়েছিলেন মেয়ে মারিয়া কিলারা বড় হয়ে কোনো ক্যাথেলিক চার্চের সেবিকা হবেন। সে মতেই তাকে খ্রিস্টান শিক্ষা ও চার্চের দীক্ষা গ্রহণের পরিবেশে বড় করছিলেন।

মারিয়া কিলারা মাহমুদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় বৃহত্তম শহর শিকাগোতে জন্ম গ্রহণ করেন। তার শৈশব কেটেছে ফিলিস্তিন, প্যারাগুয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রে। খ্রিস্টান শিশুদের মতো ব্যাপ্টাইজ করার পাশাপাশি তার পড়াশোনাও হয়েছিল ক্যাথলিক চার্চ স্কুলে।

সর্বোপরি মারিয়া কিলারা পেয়েছেন সত্যের সন্ধান। তিনি ফিলিস্তিনি শিশুদের কুরআন মাজিদ শেখানোর পাশাপাশি ইসলামের দাওয়াতি মিশনের শিক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

মারিয়া কিলারা যেভাবে মুসলিম হন
মারিয়া কিলারার বয়স যখন ৯, তখন তার মা অসুস্থ হয়ে যান। মা অসুস্থ হওয়ার কিছু দিন আগে বাবা মাহমুদ ওয়াযবিজ গুরুত্বপূর্ণ এক কাজে আমেরিকা থেকে ফিলিস্তিন চলে যান। যাওয়ার সময় মারিয়ার ভাই ইউসুফকে সঙ্গে নিয়ে যান।

মারিয়ার বাবা ফিলিস্তিন যাওয়ার পর মারিয়ার মা অসুস্থ হয়ে যান। চিকিৎসার জন্য সে আর্জেন্টিনা চলে যায়। নিরুপায় হয়ে মা ইলিদা মেয়ে মারিয়াকে তার বাবা কাছে ফিলিস্তিনে পাঠিয়ে দেন।

বাবা মাহমুদ ওয়াযবিজের একান্ত ইচ্ছা তার ছেলে মেয়েরা মাদরাসায় পড়বে এবং অন্তত তারা ইসলামের কালেমা শিখবে এবং পড়বে। এ সুযোগে বাবা মাহমুদ মারিয়া ও ইউসুফকে ফিলিস্তিনের মাদরাসায় ভর্তি করে দেন। মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার পর তারা খুব দ্রুতই আরবি শেখে ফেলেন।

এরই মধ্যে স্ত্রী ইলিদা সুস্থ হয়ে ফিলিস্তিনে চলে আসেন। ফিলিস্তিনে এসেই মা ইলিদা মেয়ে মারিয়াকে গির্জায় পাঠিয়ে দেন। নানা প্ররোচনায় মারিয়াকে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষী করে তোলেন।

মারিয়া কিলারা ইসলামের প্রতি এতটাই বিদ্বেষী হয়ে ওঠেন যে, যখন আজান হতো তখন তিনি কানে আঙুল চেপে ধরতেন। এমনকি ইসলামি বই-পুস্তক মাটিতে ফেলে তা পায়ে মাড়িয়ে চলতেন। ইসলামের বিপক্ষে খ্রিস্টানদের জন্য অবদান রাখার মতো বিশেষ কিছু করার সংকল্প করেন।

মায়ের অসুস্থতার সময় মারিয়া যখন আরবি শিখেছিলেন, সে সময় থেকে আরবি ভাষাটা তার ভালো লেগেছিল। আরবি বই পড়তেও তার ভালো লাগতো। মাঝে মাঝে তিনি কুরআন মাজিদ খুলে দেখতেন এবং পড়তেন।

একদিন…
মারিয়ার মা ইলিদা মেয়েকে কুরআনের একটি কপি থেকে ‘মা মেরি’ (মারইয়াম) ও ‘যীশু’র (ঈসা) আলোচনা পড়তে দিলেন। এ ঘটনা মারিয়া কিলারার মনে গভীর রেখাপাত করে।

মারিয়া কিলারা তখন ত্রিত্ববাদ এবং একেশ্বরবাদ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দে পড়ে গেলেন। এদিকে মাকেও ভয়ে কিছু বলতে পারছিলেন না। আবার কুরআন পড়াও ছেড়ে দিতে পারছিলেন না।