সাদপন্থীদের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশ : হাইআর প্রবেশপত্রে মাদরাসার নাম রাখতে হবে

 

বিশেষ প্রতিবেদক

সম্মিলিত কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের আসন্ন পরীক্ষায় সাদপন্থীদের পরিচালিত মাদরাসাগুলোর পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে মাদরাসার নাম উল্লেখ নেই। মাদরাসার নামের জায়গায় বেফাকের নাম ইস্যু করা। হাইআ কর্তৃপক্ষ ইতিপূর্বে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সাদপন্থীদের মাদরাসার অধীনে হাইআর কোনো পরীক্ষা নেওয়া হবে না। তবে তাদের মাদরাসাগুলোর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাদপন্থীদের মাদরাসাগুলোর পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে মাদরাসার নাম উল্লেখ থেকে বিরত থেকেছে হাইআ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে এ সিদ্ধান্তের প্রতিকার চেয়ে সাদপন্থীরা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইয়াতু উলয়ার সকল পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নিজ নিজ মাদরাসার নামেই যেন যথাযথা নিয়মে নেওয়া হয়—এমন নির্দেশনা জারি করেছে হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে সাদপন্থী আলেম মাওলানা জিয়া বিন কাসিম বলেন, আমাদের মাদরাসাগুলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বোর্ডের আওতায় হাইআতুল উলয়ার অংশ। প্রতিবছর আমাদের মাদরাসার পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রে নির্দিষ্ট মাদরাসার নাম থাকে। কিন্তু এ বছর মাদরাসার নামের স্থানে বেফাকের নাম লেখা। ব্যাপারটা নিয়ে আমরা বিস্মিত হয়েছি। এ ব্যাপারে সংশোধনী চেয়ে বেফাকের কাছে আমরা লিখিত আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু সংশোধনী আসেনি। তাই আমরা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে প্রবেশপত্রে মাদরাসার নামোল্লেখ পূর্বক যথানিয়মে পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশনাটি নিয়ে এসেছি।

এদিকে হাইকোর্টের এমন নির্দেশনার ব্যাপারে এখনও কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন হাইআ ও বেফাকের একাধিক কর্মকর্তা। এমন কোনো নির্দেশনা জারি হলে আইনি নোটিশ তাঁদের পাবার কথা। নোটিশ এলে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সচেষ্ট হবেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

প্রবেশপত্রে মাদরাসার নাম না থাকা বিষয়ে জানতে চাইলে বেফাকের মহাপরিচালক অধ্যাপক মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, বেফাক ও হাইআতুল উলয়া আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বোর্ড। যারা আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মতাদর্শে বিশ্বাসী না, তাদের এই বোর্ডে থাকা উচিত হবে না, রাখাও উচিত হবে না। যদিও আমরা এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করিনি। কিন্তু ছাত্ররা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এজন্য আমরা বোর্ডের অধীনে একটা পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলাম। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো।