সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদরাসার ছাত্ররা ঠিক কী করেন?

বিশেষ প্রতিবেদক

বেসরকারি এনজিও সংস্থা মুভ ফাউন্ডেশন মাদরাসাশিক্ষার্থীদের অনলাইন-সক্রিয়তার ওপর একটি জরিপ চালিয়েছে। মাদরাসা-শিক্ষার্থীরা কীভাবে অনলাইন ব্যবহার করেন, অনলাইনে ঠিক কী বিষয়ে তাঁরা আগ্রহী, কী ধরনের পোস্ট দেন ও শেয়ার করেন এবং উগ্রবাদ ও সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের ধারণা কতটা—এ বিষয়গুলো জানার জন্যই মূলত জরিপটা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুভের কর্মকর্তা মনযূরুল হক।

মনযূরুল হক বলেন, ঢাকাসহ দেশের ১২টি জেলার (ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, রাজশাহী, সিলেট, হবিগঞ্জ, বরিশাল, ভোলা, গাইবান্ধা ও পঞ্চগড়) ৩৬টি মাদরাসার (২৩টি কওমি ও ১৩টি আলিয়া) ৮২৫ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের বয়সসীমা ১৬ থেকে ২২ বছরের মধ্যে ছিল।

পরীক্ষামূলক এ জরিপে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত মোবাইল বা ট্যাবের মাধ্যমে কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ৬৫ শতাংশই সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকেন। এরমধ্যে ছাত্ররা দিনের বেলায় অন্তত আধা ঘণ্টা আর ছাত্রীরা রাতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ইন্টারনেটে ব্যস্ত থাকেন।

মাদরাসাশিক্ষার্থীরা উগ্রবাদে আগ্রহী হবার ব্যাপারে ব্যাপকভাবে একটা ধারণা প্রচলিত থাকলেও মুভের এ জরিপ বলছে, অনলাইনে তাঁদের আগ্রহের মূল বিষয়বস্তু ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যু সম্পর্কে জানা। কথিত উগ্রবাদ বিষয়ে সক্রিয়তার কোনো আলামত পরিলক্ষিত হয়নি মুভের এ জরিপে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী কৌতূহল বশত অনলাইন ব্যবহার করেন। তাঁদের ৬৭ শতাংশ ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্ম সংক্রান্ত বিষয়ে আগ্রহী, ১৫ শতাংশ খেলাধুলা, ১১ শতাংশ বিনোদনের প্রতি আর বাকি সাত শতাংশ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সক্রিয় থাকেন অনলাইনে। তবে মেয়েশিক্ষার্থীদের স্বতন্ত্র জরিপে দেখা গেছে তাঁদের ৯৬ ভাইগই ধর্মীয় শিক্ষামূলক বিষয়ের প্রতি ইন্টারেস্টেড।

তবে জরিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই সাইবার ক্রাইম সম্পর্কে বেওয়াকিব। মুভের জরিপ বলছে, অনলাইনে অপপ্রচার, কারও চরিত্র হনন ইত্যাদি বিষয়ে তাঁদের ধারণা খুবই সীমিত। এসবের জন্য যে স্বতন্ত্র একটা আইন আছে, এবং সে আইনের অধীনে এ ধরনের অপরাধের জন্য যে বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়, এ বিষয়ে মাদরাসাশিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের জানাশোনা খুব একটা নেই।