সেব্রেনিকা মুসলিম গণহত্যার ২৬ বছর : বেঁচে যাওয়া মানুষদের জবানে

রাকিবুল হাসান:

১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই, বিকেল সাড়ে চারটা। জাতিসংঘ সুরক্ষিত নিরাপদ অঞ্চল বসনিয়ার সেব্রেনিকা, যেখানে বসনিয়ার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল, সার্ব সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে পড়ে। এই সময় টিভির ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁত কেলিয়ে বসনিয়ার সার্ব জেনারেল রতকো ম্লাদিক বলছিলেন, ‘আমরা এখন সার্ব সেব্রেনিকায় আছি। এই শহরটিকে আমরা সার্ববাসীদের উপহার হিসেবে দিব। অবশেষে দাহিশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পর এখন সময় এসেছে এই অঞ্চলে তুর্কীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার।’ রতকো ম্লাদিক ‘দাহিশ’ বলতে বুঝিয়েছিলেন অটোমান সাম্রাজ্যের শাসনকালে সার্বিয়া শাসনকারী অফিসারদের। আর ‘তুর্কি’ দ্বারা বুঝিয়েছিলেন মুসলমানদের।

মুসলমানদের উপর বসনিয়ায় যে ভয়াবহ জাতিগত নিধন চলছিল, এর এক পর্যায়ে নানা নাটকের পর জাতিসংঘ সেখানে শান্তিরক্ষী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু যেখানে ৩৭ হাজারের বেশি সৈন্য প্রয়োজন ছিল, সেখানে মাত্র ৭ হাজারের মত সৈন্য মোতায়েন করা হয়। এর মধ্যে কার্যকরভাবে মোতায়েন ছিল মাত্র ৩ হাজারের কিছু বেশি সৈন্য। জাতিসংঘ সেব্রেনিকা শহরকে সেফ জোন হিসেবে ঘোষণা করলেও সেখানে ৬ হাজার সৈন্যের প্রয়োজনের বিপরীতে মোতায়েন করেছিল মাত্র কয়েকশ ডাচ শান্তিরক্ষী। সেটাও আবার খুবই সাধারণ অস্ত্র সজ্জিত অবস্থায়। সবকিছু সাজানোই ছিল। ফলে কোনও রকম বাঁধা ছাড়াই ডাচ সৈন্যদের একপ্রকার সহায়তায় সেখানে ১১ জুলাই শহরটি দখলে নিয়ে ব্যাপক গণহত্যা শুরু করে সার্বরা। লাইনে দাঁড়িয়ে হত্যা করে ৮ হাজার মুসলিম যুবক ও নাবালেগ ছেলেদের। তাদের লাশ গণকবরে ফেলার জন্য সার্ব বাহিনী ব্যবহার করে বুলডোজার। মাত্র দুইদিনে বাস্তুহারা হয় ৩০ হাজার বসনিয়ান মহিলা ও শিশু। ধর্ষণ করা হয় হাজার হাজার নারী ও মেয়েকে।

আজ ১১ জুলাই পূর্ণ হলো বসনিয়ার সেব্রেনিকা গণহত্যার ২৬ বছর। আল জাজিরার সঙ্গে সেই ভয়াবহ স্মৃতি শেয়ার করেছেন গণহত্যা থেকে বেঁচে ফেরা দু’জন ব্যক্তি।

নেদজাদ অ্যাভডিক, ৪২

১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই, সেব্রেনিকা গণহত্যার দিন নেদজাদ অ্যাভডিকের বয়স ছিল ১৭। বাবা, চাচা এবং আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে জঙ্গলের পথ ধরে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছিলো। উদ্দেশ্য ছিলো অবরুদ্ধ সেব্রেনিকা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের শহর তুজলা। এই পলায়নপর মানুষের মিছিলে যোগ দিয়েছিল ১৫ হাজার বসনিয়ান। কিন্তু তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম।

এই পলায়নপর মানুষের ঢলকে বলা হয় ‘মৃত্যুর মিছিল’। সার্ব বাহিনী ক্রমাগত গুলি করছিলো, ভারী কামান দিয়ে তোপ দাগছিলো। এই ১৫ হাজার মানুষ থেকে বেঁচে ছিল মাত্র ৩ হাজার জন। অ্যাডভিক ভীড়ের মধ্যে হারিয়ে ফেলে তার বাবাকে। আর কখনো তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। দুদিন পর সার্ব বাহিনী কঠোর আক্রমণ চালায়। অনেকেই আহত হয়। অ্যাডভিকের অনেক বন্ধু-ক্লাসমেটও আহত হয়।

মেগাফোনের মাধ্যমে সার্বিয়ান পুলিশ ক্রমাগত বলছিল, ‘যারা বেঁচে আছো, মাঠে নেমে আসো। তোমাদের হত্যা করা হবে না। প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে। তারা তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারবে।’

একদল নেমে আসে মাঠে। পুলিশ আহতদের গুলি করে মেরে ফেলে। অ্যাডভিক, তার শিক্ষক এবং ক্লাসমেটরাও নেমে আসে। তাদেরকে ট্রাকে তোলা হয়। অজানার উদ্দেশ্য ছেড়ে দেয়া হয় ট্রাক। তারা কেউ জানে না তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ১৪ জুলাই এক ট্রাক থেকে আরেক ট্রাকে তাদেরকে পরিবর্তন করা হয়।

অ্যাভডিক বলেন, ‘আমার মনে পড়ে, আমরা যখন ব্রাটুনাকের কাছাকাছি শহর দিয়ে যাচ্ছিলাম, ত্রিপল দিয়ে আমাদেরকে ঢেকে দেয়া হয়। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে সার্ববাসীরা আমাদেরকে দেখছিলো। সুতরাং তারা আজ বলতে পারে না যে, তারা কিছুই জানতো না কিংবা কিছুই দেখেনি।’

প্রথম তাদেরকে নিয়ে যাওয়া একটি স্কুলে। স্কুলের সামনে ফাঁসি কর্যকর করার জন্য তাদেরকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। মধ্যরাতে যখন অ্যাভডিকের পালা এলো, তার কাপড় খুলে হাত বেঁধে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। সেই স্মৃতিচারণ করে অ্যাভডিক বলেন, ‘স্কুল থেকে বের হয়ে আমি আমার ডানে-বামে কেবল মৃত মানুষের স্তুপ দেখছিলাম। আমার রক্ত হিমশীতল হয়ে পড়ে। আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম, আমার সময় শেষ হয়ে এসেছে। আমাকে ১০ মিনিট হাঁটিয়ে একটি বাঁধের ওপর নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছে দেখি সারি সারি মৃত মানুষ পড়ে আছে। আমাকে তিনটি গুলি করা হয়। আমি থর থর করে কাঁপছিলাম মাটিতে পড়ে। কিন্তু গুলিগুলো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে লাগেনি বলে কোনোরকমে বেঁচে যাই।’

অ্যাভডিকের পরও ওই বাঁধে লোক আনা হচ্ছিল। সারি করে দাঁড়িয়ে গুলি করা হচ্ছিল। অ্যাভডিক গান পাউডারের ঘ্রাণ, গুলিবিদ্ধ মানুষের চিৎকারও শুনতে পাচ্ছিল। অ্যাভডিক বলেন, ‘আমি মৃত্যুর অপেক্ষা করছিলাম। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছিলাম আরেকটি গুলি করে আমাকে মেরে ফেলা হোক। যন্ত্রণা নিতে পারছিলাম না। এমন সময় দেখি সামনের কাতারে একজন নড়ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তুমি বেঁচে আছো? সে বললো, হুম বেঁচে আছি। হাতের বাঁধনটা খুলে দাও। সার্ব সৈন্যরা অন্যদিকে চলে গেলে আমরা এগুতে থাকি হামাগুড়ি দিয়ে। গণহত্যা যখন শেষ হয়, আমরা একটি গ্রামে পৌঁছি। সেখানে কাছাকাছি একটি সামরিক হাসপাতালে আমাদেরকে নেয়া হয়।’

২০০৭ সালে সেব্রেনিকায় ফিরে আসেন অ্যাভডিক। তিনি এখন তার স্ত্রী এবং তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে সেখানেই বসবাস করছেন। সার্ব সমাজ, রাজনীতিবিদ এবং সেব্রেনিকার বর্তমান সার্ব মেয়র ম্লাদিন গুরুজিচিকের মধ্যে এখনও সেই ভয়ংকর গণহত্যা অস্বীকার করার প্রবণতা আছে। ২০১৮ সালের এক জরিপ অনুযায়ী— বসনিয়ার সার্ব-চালিত রেপুব্লিকা শ্রীপস্কায় ৬৬ শতাংশ সার্বিয়ান এই গণহত্যাকে অস্বীকার করে।

অ্যাডভিক বলেন, ‘ডেটন শান্তিচুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রেপুব্লিকা শ্রীপস্কা এবং গণহত্যা অস্বীকারকারীদেরকে সাব্রেনিকা দিয়ে দিয়েছে। আমি হতাশ। গণহত্যার ২৫ বছর পরও কিছু বদলায়নি। স্কুলগুলোতে আমরা গণহত্যার দিন কী ঘটেছিল, তা শুনাতে পারি না। তবে আমরা হাল ছাড়বো না। ১৯৯৫ সালে যখন তারা আমাদের সবাইকে হত্যা করেছিল, তখনও আমরা হাল ছাড়িনি, এখনো হাল ছাড়ছি না। আমি দেখি অনেক তরুণ এই লড়াইয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।’

আলমাসা সালিহোভিচ, ৩৩

১১ জুলাই, ১৯৯৫ সালে সার্ব বাহিনী যখন সেব্রেনিকায় প্রবেশ করে, তার বয়স তখন ৮। সে তার মা-বোন-ভাইদদেরদের সঙ্গে পালিয়ে যাচ্ছিলো অবরুদ্ধ এলাকা থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা এলাকা পটোকারি শহরে। ছোট্ট সালিহোভিচ সবার সঙ্গে দৌড়ে পারছিলো না। সে তার মাকে বলছিলো, ‘মা, হাত ধরে আমি পারছি না। তুমি আমার কাপড় ধরে রাখো। যাই হোক, আমাকে ছেড়ে দিবে না।’ ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায় তার বোন ফাতিমা এবং ভাই আব্দুল্লাহ। তারা হারিয়ে গেলেও সবার সঙ্গে পটোকারি শহরে গিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ নিরাপত্তা ক্যাম্প চিনকারা ফ্যাক্টরিতে আশ্রয় নিতে পেরেছিলো। কিন্তু মানুষের এত ভীড় ছিল, ফ্যাক্টরির ভেতরে তাদের সংকুলান সম্ভব হচ্ছিলো না। তাই জাতিসংঘের সৈন্যরা ফ্যাক্টরির দরজা বন্ধ করে দেয়। কেউ যেন ভেতরে বাইরে যেতে না পারে। সালিহোভিচ এবং তার মা ভেতরে ঢুকতে পারে না। তারা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের পোষাক পরা কিছু সৈন্য লোকদের মধ্যে হাঁটতো। ছেলে এবং পুরুষদের তুলে নিয়ে যেতো। কখনোই তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হতো না। সালিহোভিচ বলেন, ‘ভয়ে অনেক মহিলা তার স্বামী এবং সন্তানের ওপর শুয়ে থাকতো। যেন সৈন্যরা পুরুষদের দেখতে না পায়।’

সালিহোভিচ বলেন, ‘১৩ জুলাই কিছু বাস এসে দাঁড়ালো। এক সার্ব সৈন্য ঘোষণা করলো, আপনাদেরকে বসনিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি আলিজার অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রথমে নেয়া হবে মহিলা এবং শিশুদের। তারপর নেয়া হবে পুরুষদের। এভাবে আসলে পুরুষদের আলাদা করা হচ্ছিলো। জাতিসংঘের সৈন্যরা সবই জানতো ফ্যাক্টরির ভেতর কী ঘটবে, তবুও তারা নির্বিকার ছিল। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শুধু দেখছিলো। কেউ প্রতিবাদ করেনি। প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

আমরা যখন গাড়িতে উঠি, ১৫ বছর বয়সী ভাই সালেহকে আমরা বাসের সিটের নিচে ঢুকিয়ে দেই। তার ওপর রেখে দেই কাপড়। নয়তো সৈন্যরা তল্লাশি চালিয়ে তাকে রেখে দিতে পারে। ব্রাটুনাকের শহরের কাছ দিয়ে যখন যাচ্ছিলাম, সার্ববাসীরা তাদের বাড়ির জানালা দিয়ে আমাদের ওপর থুথু নিক্ষেপ করছিলো, অভিশাপ দিচ্ছিলো, এটা সেটা ছুঁড়ে মারছিলো। কয়েকঘন্টা পর সার্ব নিয়ন্ত্রণের বাইরে ক্লেডঞ্জ শহরে এসে বাস থামলো। সেখানে লোকেরা প্রিয়জনদের খবরের জন্য অপেক্ষা করছিলো। এখানেই সন্ধ্যায় আমার বোন ফাতেমার সঙ্গে দেখা হয়। তাকে একা দেখে জিজ্ঞেস করলাম, আব্দুল্লাহ কই? সে বললো, গাড়িতে উঠার সময় সৈন্যরা আব্দুল্লাহকে বাসে উঠতে দেয়নি। এই কথা শুনে মা কান্নায় ভেঙে পড়ে।’

এই গণহত্যার ১৩ বছর পর সালিহোভিচের কাছে একটি ফোনকল আসে। তাকে জানানো হয়, জাভর্নিক শহরের কাছে একটি গণকবরে তার ভাই আব্দুল্লাহর দেহের ৩০ শতাংশ পাওয়া গেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন, তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ৩০ শতাংশ পাওয়া গেছে, বাকিটা পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাই সালিহোভিচ এবং তার বোনেরা মিলে ২০০৮ সালের ১১ জুলাই তাদের ভাইয়ের ৩০ শতাংশ দেহ সমাধিত করে।

গতবছর ফাতেমা তার বোন সালিহোভিচকে একটি চিঠি লিখেন। তাতে তিনি আব্দুল্লার সঙ্গে জাতিসংঘের ক্যাম্পে তার সর্বশেষ কথাগুলো কী হয়েছিল, কী ঘটেছিল, তা জানিয়েছেন। চিঠিতে ফাতেমা লিখেছেন,

‘এক সার্ব সৈন্য ফ্যাক্টরিতে এসে বললো, ১৫ বছরের ওপর সব বয়েসী সমস্ত পুরুষদের নাম লিখতে হবে। নাম লেখার জন্য ডাচ সামরিক কমান্ডারের স্বাক্ষরিত একটি কাগজ দেয়া হয়। বসনিয়ান দোভাষী আমাদের বললো, আমাদের মুক্তির আলোচনা চলছে। এবং সার্ব সৈন্যরা জাতিসংঘের কাছে দাবি জানিয়েছে, আমাদের নাম স্বাক্ষর করতে। দুদিন নাম স্বাক্ষর চলে। অনেকে স্বাক্ষর করতে রাজি হয়নি। আব্দুল্লার নাম দিব কিনা, তা নিয়ে তার সঙ্গে বিতর্কও হলো। অবশেষে আমরা ভাবলাম, এই কাগজটি আমাদের অস্তিত্বের প্রমাণ। এটা আমাদের জীবন বাঁচাতে পারে। এই ভেবে আব্দুল্লাহ কাগজটিতে স্বাক্ষর করে। কিন্তু ঘটেছে এর বিপরীত। আমি যখন ফ্যাক্টরি থেকে বেরিয়ে আসছিলাম, আব্দুল্লাহর চোখের দিকে তাকিয়েছিলাম। তার চোখে ছিল শেষ বিদায়ের হাতছানি। আব্দুল্লাহ আমার সঙ্গে হাঁটে, শেষবারের মতো আমি তার হাত জড়িয়ে ধরি। সে আমাকে এগিয়ে দেয়।’

সালিহোভিচ গত ফেব্রুয়ারিতে চিনকারা ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। এটি এখন একটি জাদুঘর। হঠাৎ তার চোখ যায় টেবিলে রাখা একটি পুরোনো ফাইলের ওপর। তিনি পৃষ্ঠা উল্টান। ফাইলের শেষ পাতায় দেখতে পান একটি নাম। তার ভাইয়ের হাতের লেখাটি চিনতে তার একটুও কষ্ট হয় না। জীবন বাঁচানোর তাগিদে তার ভাই লিখেছিল তার নাম—সালিহোভিক আব্দুল্লাহ-১৯৭৭।

সালিহোভিচ তার ভাইয়ের নামটি স্পর্শ করে। দীর্ঘ পঁচিশ বছর আগে একসঙ্গে ঘর থেকে বেরিয়েছিল, আর ঘরে ফেরা হয়নি। ভাইয়ের লেখা স্পর্শ করে সে অনুভব করতে চেষ্টা করে ভাইয়ের উষ্ণতা, ভাইয়ের বুকের যন্ত্রণা। তার চোখের কোণে জল জমে। ভাইয়ের লেখা অক্ষরগুলো থেকে যেন একটা অদৃশ্য হাত উঠে এসে যেন তার মাথায় হাত বুলায়। তাকে বলে, ‘আপু তুই কাঁদিস না। মৃত্যুর সময় সার্ব সৈন্যদের গুলিতে প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছিলো। তোর, মায়ের হাসিমুখ দেখতে ইচ্ছে করছিলো। এখন একটু হাসি দে আমার জন্য।’ সালিহোভিচ চোখের জল মুছে বলে, ‘তুই তো মুক্তি পেয়ে গেছিস। এখনো আমরা মুক্তি পাইনি। আমাদের হত্যাকারীরা এখন হত্যা অস্বীকার করছে। গণহত্যা দিবসকে বিজয় দিবস হিসেবে উল্লাস করছে। আর তাদেরকে এই সুন্দর ব্যবস্থাপনা করে দিয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। বেঁচে থেকেও প্রতিনিয়ত রক্তাক্ত হচ্ছি। অপমানের বেয়োনটে ছিন্নভিন্ন হচ্ছি। আশা করি—কেনো একদিন তোদের রক্ত থেকে জন্ম নেবে বিপ্লব। আবার সব হবে আমাদের।’

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদআফগানিস্তান থেকে ৫০ জন কূটনীতিক ফিরিয়ে আনল ভারত
পরবর্তি সংবাদনির্বিঘ্নে কুরবানীর পরিবেশ তৈরির আহবান ইসলামী ঐক্যজোটের