স্বীকৃতির দুই বছর : কর্মক্ষেত্রে কতটা কাজে লাগছে কওমি সার্টিফিকেট?

২০১৭-এর ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে গণভবনে শীর্ষস্থানীয় কওমি আলেমগণ। ছবি : ফাতেহ

রাগিব রব্বানি :

কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি মাস্টার্স ডিগ্রি সমমানের স্বীকৃতি দেওয়ার দুই বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১১ এপ্রিল কওমি ঘরানার শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামকে গণভবনে দাওয়াত করে নিয়ে এই স্বীকৃতি প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বীকৃতি প্রদানের পর কওমি মাদরাসা ভিত্তিক সকল শিক্ষাবোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলইয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে এ পর্যন্ত দাওরায়ে হাদিসের তিনটি কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন পরীক্ষায় প্রায় ৭০ হাজার কওমি শিক্ষার্থী দাওরায়ে হাদিসের নতুন সার্টিফিকেট পাবার যোগ্য হয়েছেন। তবে সার্টিফিকিটের অরিজিনাল কপি এখনও কেউ পাননি।

অরিজিনাল সার্টিফিকেট এখনও প্রস্তুতি-প্রক্রিয়ায় রয়েছে বিধায় যাঁদের সার্টিফিকেটের একান্ত প্রয়োজন, তাঁদেরকে টেম্পোরারি সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাইআতুল উলয়ার একাধিক কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল।

সরকারি চাকরিতে সার্টিফিকেটের কার্যকারিতা এখনও ধোঁয়াশাপূর্ণ

সরকার কর্তৃক স্বীকৃতি পাওয়ায় দাওরায়ে হাদিসের নতুন এ সার্টিফিকেট নিয়ে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে গত দুই-আড়াই বছরে। তবে কর্মক্ষেত্রে এ সার্টিফিকেট কতটা কার্যকরী তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থেকে গেছে। এই সার্টিফিকেটের অধিকারীরা সরকারিভাবে ঠিক কী কী চাকরিতে আবেদন করার সুযোগ পাবেন, এ বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না খোদ হাইআতুল উলয়ার দায়িত্বশীলেরাও।

তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে চালু হওয়া নতুন ধারার মাদরাসা দারুল আরকামে গত বছর নতুন সার্টিফিকেটের কল্যাণে এক হাজারের মতো কওমি আলেমকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে সরকারি কোনো চাকরিতে এই সার্টিফিকেট দিয়ে জয়েনের এখনও কোনো সুযোগ পরিলক্ষিত হয়নি।

তবে হাইআতুল উলয়ার কেন্দ্রীয় সদস্য ও রাজধানীর জামিয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক বলছেন, স্বীকৃতি তো মাত্র এলো, নতুন সার্টিফিকেটে সরকারি কোন কোন চাকরিতে জয়েন করার সুযোগ থাকবে, এটা এখনও আলোচনা ও প্রক্রিয়াধীন। যেহেতু ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবিতে মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, সুতরাং এ সংক্রান্ত যেকোনো কর্মক্ষেত্রে কওমি সনদধারীদের জয়েন করার সুযোগ অবশ্যই থাকবে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে

সরকারি কর্মক্ষেত্রে কওমি সার্টিফিকেটের কার্যকারিতা ধোঁয়াশাপূর্ণ থাকলেও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রের আরবি ও ধর্ম সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে এ সার্টিফিকেট আলাদা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এমনটাই বলছেন সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফোর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশের রিসার্চ অফিসার যুবাইর বিন জুলফিকার। তিনি নিজেও হাইআতুল উলয়ার দাওরার সার্টিফিকেট দিয়ে ইসলামি ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় এই শরীয়াহ বোর্ডে চাকরি পেয়েছেন।

যুবাইর বিন জুলফিকার জানান, একসময় কওমি মাদরাসার সার্টিফিকেটকে কেউ গোনায়ই ধরত না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরবি কিংবা ধর্ম সংশ্লিষ্ট চাকরির ক্ষেত্রে আলিয়া মাদরাসা বা ইসলামিক স্টাডিজের সার্টিফিকেট আবশ্যক ছিল। কিন্তু সরকারি স্বীকৃতি আসার পর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর এই বিভাগে কামিলের সার্টিফিকেটের মতো কওমি সার্টিফিকেটও সমান গুরুত্ব পেয়েছে।

যুবাইর বিন জুলফিকার ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে হাইআতুল উলয়ার প্রথম কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে দাওরায়ে হাদিসের নতুন সনদ লাভ করেন। কওমি মাদরাসার বাইরে তিনি অন্য কোথাও পড়াশোনা করেননি। সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশে চলতি বছরের মে মাসে তিনি কেবল কওমি সার্টিফিকেটের কল্যাণেই রিসার্চ অফিসার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

বিজ্ঞাপন