৩০ জুন বিক্ষোভ করেছিল হাসেম ফুডের শ্রমিকরা, কর্তৃপক্ষ দিয়েছিল হুমকি

ফাতেহ ডেস্ক:

৩০ জুন বৃহস্পতিবার বকেয়া ও ওভারটাইমের বেতনের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছিল অগ্নিকাণ্ডের শিকার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড লিমিটেডের এই কারখানাটি। বিক্ষোভের দশদিন না পেরুতেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক।

বিক্ষোভের সময় শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সজিব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড লিমিটেড কারখানায় জুস, ক্যান্ডি, বিস্কুট, লাচ্ছি সেমাই, বিভিন্ন পণ্য তৈরি হয়। এ কারখানাটিতে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। গত দুইমাস ধরে ওভারটাইম, বকেয়া বেতন ও বেতন বাড়ানোর জন্য কারখানার শ্রমিকরা কিছুদিন ধরে মালিক্ষপক্ষকে বলে আসছিল। এ ব্যাপারে মালিকপক্ষ টালবাহানা করে আসছিল।

বিক্ষোভের সময় সময় আজিজুল, আকলিমা, হাসনা, শাহ-জালাল, শিমুল, সাদিয়াসহ শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, ওভারটাইম, বকেয়া বেতন ও বেতন বাড়ানোর কথা বললে কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মারধর ও চাকুরিচ্যুত করার হুমকি প্রদান করেন। ওভারটাইমের বেতন না পাওয়ায় শ্রমিকদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে বাধ্য হয়েছি।

এ ব্যাপারে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাজিম উদ্দিন তখন বলেছিলেন, মালিকপক্ষের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আগামী ৫ জুলাই শ্রমিকদের ২ মাসের বকেয়া ও ওভারটাইমের টাকা দিয়ে দেয়া হবে। বাকিটা ঈদের আগে পরিশোধ করে দেয়া হবে।

হাসেম ফুড লিমিটেডের অ্যাডমিন ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার সালাউদ্দিন বলেছিলেন, করোনার কারণে কোম্পানিটি আর্থিকভাবে চাপে আছে। তাই শ্রমিকদের বেতন ও ওভারটাইমের টাকা দিতে একটু দেরি হয়েছে। আগামী ৫ জুলাই দুইমাসের ওভারটাইম ও বকেয়া বেতন পরিশোধ করে দেয়া হবে। বাকিটা ঈদের আগেই পরিশোধ করা হবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে অগ্নিকাণ্ডটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ জনে দাঁড়াল।

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদআগুনে অর্ধশতাধিক প্রাণহানি, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
পরবর্তি সংবাদসেজান জুস কারখানায় নিহতদের পরিচয় শনাক্তে এক মাস লাগবে