অভ্যুত্থান-প্রচেষ্টার অভিযোগে তুরস্কে ১০ নৌ-কর্মকর্তা গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

দেশের সাবেক নৌ-কর্মকর্তাদের একাংশের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী অভ্যুত্থান-প্রচেষ্টার অভিযোগ এনে ১০ অ্যাডমিরালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও চার কর্মকর্তাকে তিন দিনের মধ্যে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। অধিক বয়স বিবেচনায় ওই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়নি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান এই অভিযোগ আনেন। খবর আলজাজিরা ও রয়টার্স।

মার্চ মাসে পানামা বা সুয়েজ খালের মতো ইস্তাম্বুলে একটি খাল খনন করার অনুমোদন দেয় তুরস্ক। তবে প্রধান জলপথকে ঘিরে নেওয়া নতুন পরিকল্পনার কারণে ১৯৩৬ সালের মনট্রিয়াক্স চুক্তি হুমকির মুখে পড়তে পারে; এমন আশঙ্কা জানিয়ে একটি খোলা চিঠি লেখেন নৌ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ১০৪ কর্মকর্তা। এর পরপরই তাদের ১০ জনকে গ্রেফতার করা হলো।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প ইস্তাম্বুল খাল। যেখানে নতুন বিমানবন্দর, সেতু, রাস্তা ও টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যুদ্ধ ও শান্তিকালীন উভয় সময় বসফরাস ও দার্দানেলিস প্রণালিতে বেসামরিক নৌ যান কোনও ধরনের বাধা ছাড়াই চলাচলের কথা বলা রয়েছে মন্ট্রিয়াক্স চুক্তিতে। ওই দুই প্রণালির সীমানার অভ্যন্তরে তুরস্কের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কথাও চুক্তিটিতে রয়েছে। সাবেক নৌ-কর্মকর্তারা তাদের চিঠিতে বলছিলেন, তুরস্কের সুরক্ষার জন্য সবথেকে জরুরি মিন্ট্রয়াক্স চুক্তিকে হুমকিতে ফেলা যথাযথ হবে না।

রবিবার (৪ এপ্রিল) রাষ্ট্রের ‘নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক নির্দেশের বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠনের’ সন্দেহে অবসরপ্রাপ্ত নৌ কর্মকর্তাদের নিয়ে তদন্ত শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর।

নৌবাহিনীর ১০৪ কর্মকর্তার চিঠি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তুরস্কের কর্মকর্তারা জানান, চিঠিতে সামরিক অভ্যুত্থানের আহ্বান করা হয়েছিল বলে প্রমাণ হচ্ছে। এ ব্যাপারে তুরস্কের স্পিকার মুস্তফা সেনটোপ বলেন, কেউ যদি নিজের ভাবনার কথা জানায়, তা এক বিষয়। কিন্তু ঘোষণা দিয়ে অভ্যুত্থানের ডাক দেয়া ভিন্ন বিষয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৬০ ও ১৯৮০ সালের মধ্যে তুরস্কে তিনবার সামরিক অভ্যুত্থান হয়। ২০১৬ সালে এরদোগসনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুসলমান ধর্মপ্রচারক ফেতুল্লাহ গুলেনের অনুসারীরা ওই সেনা অভ্যুত্থান করতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন