আবাসিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা : সহসাই খুলছে না মাদরাসা

মুনশী নাঈম:

অবশেষে করোনাকালীন এই সঙ্কটের ভেতরই শুরু হয়েছে কওমি মাদরাসায় ভর্তি কার্যক্রম। সরকারের সঙ্গে কয়েক দফা আলাপ-আলোচনার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভর্তি কার্যক্রম চালাতে বাঁধা নেই বলে জানিয়েছে সম্মিলিত কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড ‘আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’। যদিও শিক্ষাবোর্ডের ঘোষণার আগেই অনেক মাদরাসা নিজস্ব ভর্তি কার্যক্রম শুরু দিয়েছিল। বোর্ডের ঘোষণার পর ভর্তি কার্যক্রমে আর কোনো বাঁধা রইলো না।

এদিকে ভর্তি কার্যক্রম চালাতে মাদরাসার অফিস খোলার অনুমোদন দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অতিরিক্ত সচিব আনিস মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ কথা জানানো হয়। পরিপত্রে বলা হয়, দেশের কওমি মাদরাসাগুলোতে প্রতিবছর রমজান মাসের পরপর নতুন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়ে থাকে। এ বছর ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে অফিস খোলার অনুমতি প্রদানের জন্য কওমি মাদরাসাসমূহের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করা হয়। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদরাসাসমূহে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির বিষয়টি আন্তরিকতার সাথে অনুধাবন করে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অফিস খোলা রাখার সানুগ্রহ অনুমতি প্রদান করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ অনুমতির পরিপ্রেক্ষিতে কওমি মাদরাসাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মাদরাসাসমূহে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে অফিস খোলা রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হলো।’

ভর্তি কার্যক্রম এবং অফিস খোলার অনুমতি থাকলেও ভর্তির পর মাদরাসার ছাত্রাবাসে কেউ অবস্থান করতে পারবে না। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে ভর্তি সম্পন্ন করার পর যার যার বাড়িতে ফিরে যেতে হবে ছাত্রদের। কওমি মাদরাসার শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাপরিচালক মাওলানা যুবায়ের আহমদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, ‘কওমি মাদরাসাসমূহে ভর্তির বিষয়ে সরকারের সাথে আলােচনার পর এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কওমি মাদরাসায় ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করতে কোনাে বাধা নেই। তবে ভর্তির পর কোন ছাত্র/ছাত্রী কিছুতেই প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করতে পারবে না।’

অনেক আলাপ-আলোচনার পর ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলেও কবে মাদরাসা খুলবে এবং কবে ক্লাস শুরু হবে—এই নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এতটুকু বলা যায়, সহসাই খুলছে না কওমি মাদরাসা। করোনাক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে, রেকর্ড ভাঙছে। এই সময়ে, অন্তত জুনে, স্কুল-কলেজও খুলছে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। স্কুল-কলেজ না খুললে মাদরাসাও খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন বেফাকের মহাপরিচালক মাওলানা যুবায়ের আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘বিগত বছরের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা গ্রহণ, মাদরাসায় ক্লাস পরিচালনা, হোস্টেলে ছাত্র-ছাত্রী অবস্থানের নির্দেশনা পরবর্তীতে জানানো হবে। দেশের এই পরিস্থিতিতে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেয়, আমরাও সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।’

একই কথা বলেছেন বেফাক ও হাইয়াতুল উলইয়ার সদস্য মাওলানা মাহফুজুল হক। কবে খুলছে কওমি মাদরাসা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কওমি মাদরাসাগুলো কবে থেকে পাঠদান শুরু হবে বা আবাসিক কার্যক্রম কবে থেকে চলবে তা পরে সিদ্ধান্ত হবে। আপাতত ভর্তি কার্যক্রম চলবে। পর্যায়ক্রমে পরীক্ষাসহ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে সারা দেশের কওমি মাদরাসায় ভর্তি শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

প্রায় সব মাদরাসা নতুন-পুরাতন সব ছাত্রদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করলেও কয়েকটি মাদরাসা অবলম্বন করেছে ভিন্ন পন্থা। প্রাথমিক দুএকটি ক্লাস ছাড়া অন্য কোন ক্লাসে নতুন ছাত্র ভর্তি নেয়া হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে তারা। সুষ্ঠুভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতেই সতর্কতামূলক এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়া জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া এবং মাদরাসাতুল মদীনাসহ আরও দুএকটি মাদরাসা এখনো ভর্তি কার্যক্রমও শুরু করেনি। তারা বলেছে, সরকারিভাবে যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে, তখনই তারা ভর্তি কার্যক্রম শুরু করবে। অপেক্ষা করতে হবে সুন্দর এবং নিরাপদ একটি সময়ের।