আলোর পথের রাহবার (চতুর্থ পর্ব) 

[হযরত মাওলানা সাইয়িদ আবুল হাসান আলি নদবি (র)-এর জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ]
মূল : মুহাম্মাদ হাসান আনসারি
ভাষান্তর : মওলবি আশরাফ
ওস্তাদ ও মুরুব্বি 
হযরত মাওলানা আবুল হাসান আলি নদবি (রহ)-এর পড়ালেখায় হাতেখড়ি হয় মাওলানা সাইয়িদ আজিজুর রহমান (রহ)-এর কাছে। শায়খ খলিল মুহাম্মদ আল ইয়ামানি ও বিশ্বজোড়া খ্যাতিমান শায়খ তকিউদ্দিন আল হিলালি (রহ) তাঁর আরবি ভাষার ওস্তাদ ছিলেন। হাদিস পড়েছেন মাওলানা হায়দার হাসান খাঁ সাহেব ও মাওলানা হুসায়ন আহমদ মাদানি (রহ)-এর কাছে। সাইয়িদ সুলায়মান নদবি (রহ)-এর কাছে দর্শনশাস্ত্র পড়েছেন। আর তাফসিরের পাঠ নিয়েছেন মাওলানা আহমদ আলি সাহেব লাহোরি (রহ) থেকে, যিনি আপ্রাণ দীনের সেবক, প্রভাবশালী সুবক্তা ও উঁচুমাপের কোরআন-বিশারদ হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত।
হযরত মাওলানা তাঁর ঈমান ও বস্তুবাদের সংঘাত কিতাবে লেখেন :
‘মাওলানা মানাজির আহসান গিলানি (রহ)-এর রীতিমাফিক শাগরেদ হওয়ার সৌভাগ্য হয়নি কিন্তু তাঁকে নিজের ওস্তাদ ও মুরুব্বি হিসাবেই জানি।’
১৯৩১ সালে মাওলানা আহমদ আলি লাহোরি (রহ)-এর ওস্তাদ মাওলানা গুলাম মুহাম্মদ ভাওয়ালপুরি দীনপুরু (রহ)-এর হাতে বায়আত হওয়ার সৌভাগ্য হয়। দীনপুর বর্তমান পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত। ১৯৪৬ সালে আমি ওস্তাদের ইশারায় মাওলানা আবদুর রহিম রায়পুরি (রহ)-এর খলিফা মাওলানা আবদুল কাদির রায়পুরি (রহ)-এর হাতে বায়আত হই।
কারওয়ানে জিন্দেগী কিতাবে ‘লাহোর ও দেওবন্দে অবস্থান’ অধ্যায়ে তিনি লেখেন —
‘১৯৩০ থেকে ১৯৩১ সালের মধ্যে লাহোরে দুই দুইবার হযরত মাওলানা আহমদ আলি সাহেবের সান্নিধ্যে গিয়েছি। ১৯৩০ সালে যেবার গিয়েছি, ঘটনাক্রমে সেসময় তাঁর নির্দেশনায় পরিচালিত শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। (শা’বান থেকে জিলকদ মাস পর্যন্ত মাদরাসা থেকে গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদেরকে শিক্ষক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো, এবং নিয়মতান্ত্রিক পরীক্ষাও হতো।) কিন্তু তারপরেও মাওলানা আমাকে আলাদা সময় দিয়েছেন, আমি তার কাছে সুরা বাকারার প্রথমাংশ পড়েছি।… পরের বছর লাহোর গিয়ে ‘হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা’-এর ক্লাসে অংশ নিয়ে পরীক্ষা দিই, এবং উত্তীর্ণ হই। ওই সময় আমি তাঁর হাতে বায়আত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করি, কিন্তু তিনি বিনয় ও ইখলাসের অনন্য গুণের ধারক হওয়ায় নিজের বদলে হজরত খলিফা গুলাম ভাওলপুরির সান্নিধ্যে আমাকে পরিচয়পত্র দিয়ে খানপুর জেলায় পাঠান। হজরত খলিফা সাহেব তখন নব্বই ঊর্ধ্ব বয়সী ছিলেন, এবং পাঞ্জাব ও হিন্দুস্তানের বড় বড় আলেমদের দৃষ্টিতে— (যাঁদের মধ্যে মাওলানা আশরাফ আলি থানবি মাওলানা মাদানি ও মাওলানা রায়পুরি রহিমাহুমুল্লাহ শামিল আছেন)— খুবই উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন পির ও সাহেবে নিসবত বুজুর্গ ছিলেন।… আমার মনে পড়ে না আরব-অনারব ভ্রমণে তাঁর চেয়ে আলোকিত কোনো ব্যক্তিত্বের দেখা পেয়েছি। হজরত খলিফা সাহেব আমাকে বায়আত করে আমার আলোর পথের রাহবার হন, এবং হৃদয়গ্রাহী উপদেশ দিয়ে কৃতার্থ করেন। এ ঘটনা ১৯৩১ সালের। এর পরের বছর আমি দেওবন্দে মাওলানা মাদানির সংস্পর্শে হাজির হই।’
মাওলানা রাবে হাসানি বলেন, ‘হজরত মাওলানা আবুল হাসান আলি নদবি আল্লামা সুলায়মান নদবির খুব প্রিয় সাগরেদ ছিলেন। তিনি তাঁর ইলম ও বাচনকৌশল থেকে ঋদ্ধ হন। এবং আল্লামা শিবলি নোমানির শৈলী ও বাচনভঙ্গি রপ্তকরণ নয় শুধু বরং নিজের প্রায়োগিক ক্ষেত্রেও এনেছেন।’
(সূত্র : মাখুযাযে তা’মিরে হায়াত, ২৫ নভেম্বর ১৯৯৫)
মওলবি সাইয়িদ মাহমুদ হাসান নদবি ‘সালাসিলে আরবাআ’ কিতাবে লিখেন,
হজরত মাওলানা সাইয়িদ আবুল হাসান আলি নদবি পির-আউলিয়াদের তরিকা চিশতিয়া নকশাবন্দিয়া কাদেরিয়া ও সোহরাওয়ার্দিয়ার— চার তরিকারই পির থেকে বায়আত ও এজাজত নিয়েছিলেন।
আগের সংবাদভূমি দিবসে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ
পরবর্তি সংবাদমুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস-এর ইন্তেকালে ইসলামী ঐক্যজোটের শোক