আলোর পথের রাহবার (নবম পর্ব)

[হযরত মাওলানা সাইয়িদ আবুল হাসান আলি নদবি (র)-এর জীবন ও কর্মের সংক্ষিপ্ত বিবরণ]

মূল : মুহাম্মাদ হাসান আনসারি
ভাষান্তর : মওলবি আশরাফ

সম্মাননা

১৯৫১ সাল : দ্বিতীয়বার মক্কা সফরে গেলে তাঁকে কাবা শরিফের চাবি প্রদান করা হয়, যা মুসলিম বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্মাননা।

১৯৮০ সাল : আজীবন ইসলামি দুনিয়ায় ইলমি ও আমলি খেদমতের কারণে ‘কিং ফয়সাল অ্যাওয়ার্ড’ পান। সৌদি সরকার তাঁকে দুই লাখ চল্লিশ হাজার রিয়াল উপহার দেন। তিনি তার অর্ধেক যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে, আর বাকি অংশ মক্কার দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান করে দেন। তিনি বলেন, ধর্মের খেদমত শুধুমাত্র আখেরাতে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির বিনিময়েই হয়ে থাকে। পূর্বসূরি আলেম-উলামারা কখনোই খেদমতের বিনিময়ে অর্থকড়ি পুরস্কার হিসেবে গ্রহণ করেননি, আর এটাই আমাদের নিয়ম। কিন্তু আমি কিং ফয়সাল অ্যাওয়ার্ড কেবল এই কারণে নিয়েছি যে, এই অ্যাওয়ার্ড বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজের স্মৃতি-সম্মানে প্রদান করা হয়, আর তিনি ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর জন্য নেহায়েত খয়েরখাহ ছিলেন।

১৯৮১ সাল : কাশ্মির ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি পান।

১৯৯০ সাল : উত্তর প্রদেশ উর্দু অ্যাকাডেমি থেকে মওলানা আবুল কালাম আজাদ অ্যাওয়ার্ড পান।

১৯৯৮ সাল : দুবাই ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে আন্তর্জাতিক ইসলামি ব্যক্তিত্ব অ্যাওয়ার্ড প্রদান।

১৯৯৯ সাল : সুলতান অফ ব্রুনাই ইন্টান্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পান।

অলঙ্কৃত পদ ও পদবি

০ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান— ইসলামিক সেন্টার, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি, লন্ডন
০ প্রধান— ফাউন্ডেশন ফর স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ, লুক্সেমবার্গ
০ প্রধান— রাবেতাতুল আদাবিল ইসলামি আল আলামিয়াহ, আম্মান
০ প্রধান— মজলিসে তাহকিকাত ও নাশরিয়াতে ইসলাম, দারুল উলুম নদওয়া, লাখনৌ
০ প্রতিষ্ঠাতা প্রধান — তাহরিকে পয়ামে ইনসানিয়াত, দারুল উলুম নদওয়া, লাখনৌ
০ পরিচালক— দারুল উলুম নদওয়া লাখনৌ
০ প্রধান— উত্তর প্রদেশ দীনি তালিমি কাউন্সিল, লাখনৌ
০ প্রধান— অল ইন্ডিয়া মুসলিম ল বোর্ড, লাখনৌ
০ প্রধান— মজলিসে এন্তেজামি ও লেখকসংঘ, আজমগড়
০ সেক্রেটারি— প্রতিষ্ঠা সম্মেলন, রাবেতায়ে আলমে ইসলামি, মক্কা মুকাররমা
০ প্রেসিডেন্ট— লিগ অফ ইসলামিক লিটরেচার,১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দ
০ সদস্য— সাহিত্য অ্যাকাডেমি, দামেশক ইউনিভার্সিটি
০ সদস্য— মজলিসে শুরা, জামেয়া ইসলামিয়া মদিনা মুনাওওয়ারা
০ সদস্য— পরিচালনা পর্ষদ, ইসলামিক সেন্টার, জেনেভা
০ সদস্য— মজলিসে শুরা, দারুল উলুম দেওবন্দ
০ সদস্য— পরিচালনা পর্ষদ, ইসলামিক ইউনিভার্সিটিজ ফেডারেশন, মরক্কো
০ সদস্য— অ্যাকাডেমি অফ অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ, আম্মান, জর্ডান
০ সদস্য— ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ট্রান্সলেশন রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ কর্টেজ, তিউনিশিয়া
০ ভিজিটিং প্রফেসর— মদিনা ইউনিভার্সিটি

ইন্তেকাল

১৪২০ হিজরির ২৩ রমজান (১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর) রায়বেরেলির আপন বাসতভিটায় জুমআর দিন আনুমানিক পৌনে বারোটায় মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে যাত্রা করেন। ইন্না লিল্লাহি ও ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ইন্তেকালের সময় হজরত মাওলানার বয়স ৮৬ বছর ২৬ হয়েছিল। সেদিন রাতে তাঁর জানাজা পড়া হয়। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা সাইয়িদ মুহাম্মদ রাবে হাসানি নদবি। পুরো দুনিয়া শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে। মক্কা ও মদিনায় গায়েবানা জানাজা পড়া হয়।

হজরতের ইন্তেকালের সময় খাস খাদেম হাজি আবদুর রাজ্জাক ও প্রিয় পৌত্র মাওলানা বিলাল আবদুল হাই শয্যাপাশে উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, হজরত ইন্তেকালের আগ মুহূর্তে সুরা ইয়াসিনের এই আয়াত পাঠ করছিলেন— ‘তুমি কেবল তাদেরকে সতর্ক করতে পার যারা উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখে পরম দয়াময়কে ভয় করে। অতএব তাদেরকে তুমি ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দাও।’ (৩৬ : ১১) আল্লাহ তাঁর প্রিয়পাত্রদের এভাবেই সম্মানিত করেন।

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদআবু ত্ব-হা আদনানকে পাওয়া গেছে
পরবর্তি সংবাদআবু ত্ব-হা আদনানকে থানায় নেওয়া হয়েছে