ইরাকে বামপন্থী-জাতীয়তাবাদী জোটের বিজয়, বাংলাদেশী বামদের ভ্রান্তি

হেলাল মহিউদ্দিন

ছবির হিজাব পরিহিতা সুহাদ আল খাতিব কম্যুনিস্ট পার্টির নেত্রী, সদ্যনবির্বাচিত এমপি। সম্ভবত মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হবেন।

ইরাকে কম্যুনিস্টরা জিতেছে দেখে বাংলাদেশি সমাজতন্ত্রী্রা দারুণ উল্লসিত। যাঁরা সমাজতান্ত্রিক রাজনীতি করেন বা করতেন তাঁরা বুকে হাত দিয়ে বলু্ন তো ‘হিজাবি সমাজতন্ত্রী’ দৃশ্যটিতে আপনাদের কোনো অস্বস্তি হচ্ছেনা। [উনার হিজাব ‘আরব্য সংস্কৃতির চিহ্ন’, অন্তরে তো সাম্যবাদ!— এ’ধরণের হিপোক্রিসিতে না গিয়ে সৎ অনুভুতিটি শেয়ার করুন, প্লিজ!]

আপনাদের হিজাবি সমাজতন্ত্রী নেতৃত্বে অরুচি নাই প্রমা্ন করে এমন দু’একটি ছবি চাই। অন্যভাবে বলি, আপনারা জামাত-শিবির বা শফি হুজুরের দলসহ খেলাফত খোলাপথ কি কি যেন আছেনা তাদের সংগে একজোট হয়ে ক্ষমতায় আসতে রাজী আছেন কিনা?

ইরাকে সমাজতন্ত্রী দল বিপ্লব করে সমাজতন্ত্র কায়েম করেনি, করবেও না। এক সময়ের পাঁড় কট্টরপরন্থি জনপ্রিয় আধ্যাত্মিক গুরু মুক্তাদা আল সদরের সংগে জোট বেঁধে তার জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে, তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে পুরোপুরি মধ্যপন্থি পুঁজিবাদী তরিকায় নেমে সমাজতান্ত্রিক দল ক্ষমতায় এসেছে, ‘শ্রেণীহীন সমাজ কায়েম’ করতে আসেনি।

মুক্তাদা আল সদর নিজেও তরিকা বদল করে মধ্যপন্থি ‘জাতীয়তাবাদী’ বনেছেন অনেকটা নাসের, সুকর্ণ, সুহার্তো আদলে। ‘জাতীয়তাবাদ’ একটি সরাসরি সমাজতন্ত্রবিরোধি রাষ্ট্রতরিকা। ইরাকে ‘জার্মান জাতীয়তাবাদ’-এর মত সদর-এর ‘ইরাকি জাতীয়তাবাদ’ দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাতে ভর করে সমাজতন্ত্রীদের ক্ষমতায় আসা।

তবুও বাংলাদেশি সমাজতন্ত্রীরা উল্লাস করার যৌক্তিকতা কোথায় পান? আর যদি পেয়েই থাকেন, তাঁরা ‘আদর্শভিত্তিক রাজনীতি করি’ ধরণের সুখকল্পনা বা ভাবনা-ঘোরে অহেতুক আটকে আছেন কেন? বিএনপি, জামাত, হেফাজতের সংগে জোট বেঁধে ক্ষমতায় চলে আসার সুযোগ নেয়াই বুদ্ধির কাজ নয় কি?

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদইংরেজি ভাষা শিক্ষা : একটি প্রচারণা ও বাস্তবতা
পরবর্তি সংবাদজেরুসালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী, আলআকসা আমাদের লালরেখাঃ মাওলানা ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী