ইয়াবা ব্যবসায়ীটা কি আসলেই আলেম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের ঝড়

ধর্মীয় পোশাকধারী কথিত এক ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাটকীয় গ্রেফতারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তোলপাড়। নানান জন নানান রকম মত দিচ্ছেন। তবে তার এলাকার মানুষরা বলছেন, সে আলেম নয়।

‘সে আলেম নয়’ 

মোহাম্মদ নূর রশিদ নামের একজন লেখেন, তার বাড়ি গ্রেফতার ব্যবসায়ীর বাড়ির কাছেই। কয়েক দিন আগেই সে গ্রেফতার হয়েছে। সে সমাজে খারাপ হিসেবেই পরিচিত। এলাকার মানুষদের থেকে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন যে, সে দেওবন্দে পড়েনি। ফলে তিনি মনে করেন, এটা একটা সাজানো নাটক। অপরাধীর ধর্মীয় পোশাকের কারণে তারা পুরো ধর্মীয় সমাজকে অপমান করতে পারেন না।

‘ তার শারীরিক ভাষা বলছে, এটা অভিনয়’

অনেকেই বলছেন, এই ঘটনা সত্য নয়। কেননা একটা সত্য ঘটনা এতটা নাটকীয় হতে পারেনা। তার কাছে যদি এত মূল্যবান ইয়াবা থাকতো, তাহলে সে এটা তার পেছনে রাখতো না। নিষিদ্ধ লেনদেনে টাকার বিনিময়ও সাথেসাথে হয়, এখানে সেটা হয়নি। পুরো ঘটনায় অপরাধীর মধ্যে কোন উত্তেজনা বা হতভম্বভাব দেখা যায়নি। তাতে বুঝা যায়, সে বিষয়টি হয়তো আগে থেকেই জানত। 

‘আলেম হলেই কেউ ভালো হয়ে যায়না’

কেউ কেউ আবার ভিন্নমতও পোষণ করে বলছেন, শুধু ইয়াবা ব্যবসাই নয়, ধর্মীয় পোশাকধারী অনেকে এর থেকেও জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত আছেন। ফলে পুলিশ বলেছে বলেই সেটা মিথ্যা হবে, এমন নিশ্চিত করে বলাটা ভুল হবে। বরং নিজের আদর্শ ও সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে তার অপরাধকে খাটো করে দেখা বা তাতে সন্দেহ পোষণ করা ভালো প্রবণতা নয়। এতে বরং অপরাধকে বৈধতা দেওয়া হয়।

‘ধর্মীয় পরিচয় দেওয়াটা ঠিক হয়নি’

তরুণ বিশ্লেষক ইফতেখার জামিল মনে করেন, অপরাধীর আদর্শিক ও সাম্প্রদায়িক পরিচয় দেওয়াটা পেশাদারিত্বের খেলাফ হয়েছে। সময় টিভিসহ যারা এই ঘটনায় বক্তব্য নির্মাণ করেছেন, তারা এখানে স্পষ্ট ভুল  করেছেন। ঘটনা সত্যও হতে পারে, অর্ধ সত্যও হতে পারে বা মিথ্যাও হতে পারে। গণমাধ্যমের কাজ বিচার করা, মতামত দেওয়া বা ব্যক্তির জবানে তার পরিচয় চিহ্নিত করা নয়। এর জন্য আদালত আছে। তার পরিবার বা পরিচিত লোকজন আছে। তাদের সূত্রেই পরিচয় নিশ্চিত হতে পারে। যে অপরাধ করেছে, সে তার নিজের মিথ্যা পরিচয় দিবেনা, এর নিশ্চয়তা কি? সবচে বড় কথা আদর্শ বা সম্প্রদায় অপরাধে অনুপ্রাণিত না করলে অপরাধীর আদর্শিক বা সাম্প্রদায়িক পরিচয় বলা যাবেনা।