করোনাভাইরাসের ঝুঁকি: মসজিদ-মাদরাসা কীভাবে প্রস্তুতি নেবে?

করোনাভাইরাসের ঝুঁকি: মসজিদ-মাদরাসা কীভাবে প্রস্তুতি নেবে?

মুসান্না মেহবুব:

চীন থেকে উদ্ভুত করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাছাকাছি দেশ হিসেবে এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগের ব্যাপকতার কারণে বাংলাদেশেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই এ ব্যাপারে সতর্কতামূলক অবস্থানে থাকলেও বিশ্লেষকরা এটাকে যথেষ্ট মনে করছেন না।

এ ধরনের ভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত হয় পাবলিক গ্যাদারিং থেকে। দেশের মসজিদ এবং মাদরাসায় যেহেতু অনেক লোকের সমাগম থাকে, তাই এ জায়গাগুলোতে অবস্থানকারী এবং গমনাগমনকারীদের নিরাপত্তার জন্য মসজিদ-মাদরাসাগুলোর কর্তৃপক্ষ কীভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে? জানতে চেয়ে কথা বলেছিলাম বিশেষজ্ঞ দুজন চিকিৎসকের সঙ্গে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে অবস্থিত মাসিহ’স ডায়াবেটিক কেয়ারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাক্তার মাওলানা মাসিহউল্লাহ বলছেন, করোনা ভাইরাস এখন পর্যন্ত চিকিৎসকদের কাছে অনেক জটিল এবং নতুন একটি ভাইরাস। এখন পর্যন্ত এর কোনো ভ্যাকসিন তৈরি করতে সক্ষম হননি কেউ। একই সঙ্গে এর উপসর্গগুলো নির্ণয় করতেও বিভিন্নজন বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। তাই এটা থেকে কীভাবে রক্ষা পাওয়া যায়, তা সাধারণভাবেও বলা মুশকিল।

তিনি বলেন, মসজিদ-মাদরাসায় লোকসমাগম হয়, বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে আসা-যাওয়া করেন, কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি এই মুহূর্তে এটা বন্ধ করাও তো যাবে না। বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি আসেওনি এখনো।

তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সার্জন ও ইসলাম বিষয়ক লেখক ডা. শামসুল আরেফিন শক্তি বলছেন, মসজিদ-মাদরাসাকে আলাদাভাবে বিশেষ প্রস্তুতি নেয়ার সময় আসেনি এখনও, আর এটা এতো মারাত্মক ভাইরাস যে, মসজিদ-মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেও কিছু হবে না। কারণ, ভাইরাসটি কেবল যে পাবলিক গ্যাদারিংয়ের কারণে ছড়ায়, এমন না, বরং তা বাতাসের সঙ্গেও ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, সাধারণ প্রস্তুতি হিসেবে মাস্ক ব্যবহার এবং বারবার হাত-মুখ ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এটা করা যেতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে এ ভাইরাস কারও মধ্যে সংক্রমিত হয়ে গেলে তা থেকে বেঁচে থাকা অনেক মুশকিল হবে। সর্বোপরি আল্লাহর ওপর ভরসা করা ছাড়া এই মুহূর্তে আসলে কারও উপায় নেই।

ডা. শক্তি বলেন, চীনের যে অঞ্চল থেকে এই রোগ ছড়িয়েছে, উহান, সেখান থেকে বাংলাদেশের দূরত্ব কিন্তু বেশি না। তাছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক যোগাযোগ অনেক বেশি। চীনে অনেক ছাত্র আছে বাংলাদেশি, যাদের অধিকাংশকে বাংলাদেশে ফেরত এনে নিরাপদে রাখা হয়েছে। এদিকে বিমানবন্দরে সরকারিভাবে নানাবিধ সতর্কতা জারি আছে। কিন্তু বাংলাদেশে যারা এসেছেন চীন থেকে তাদের কারও মধ্যে এ ভাইরাস থাকলে তা ছড়িয়ে পড়ারই আশংকা বেশি।

তিনি বলেন, এদিকে উহান বাংলাদেশের কাছাকাছি হবার কারণে বাতাসের সঙ্গে ভাইরাসটি সংক্রমিত হবারও আশংকা আছে। তাই এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ভয়াবহ ঝুঁকিতেই আছে বলতে হয়। আর এ ঝুঁকি কাটিয়ে উঠতে কার্যত কোনো উপায় আছে বলে মনে হয় না। তারপরও সরকারি সতর্কতা আরও বৃদ্ধি করা এবং সবাইকে আল্লাহর প্রতি আরও বেশি নির্ভরশীল হওয়া এই মুহূর্তে জরুরি বলে আমি মনে করি।

উল্লেখ্য, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে চীনের উহানে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আজ সোমবার পর্যন্ত দেশটিতে এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬১ জনে। আর মোট আক্রান্ত হয়েছে ১৭ হাজার ২০৫ জন। চীনের বাইরে ফিলিপাইনে এই ভাইরাসে প্রথম একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এখনো রহস্য হয়ে রয়েছে নভেল করোনাভাইরাস। এটি কীভাবে মানবদেহে আক্রমণ করে? এই রোগের পুরো লক্ষণগুলো কী কী? কাদের গুরুতর অসুস্থ হওয়া বা মৃত্যু ঝুঁকি বেশি? আক্রান্তের চিকিৎসা হবে কীভাবে? বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকদের কাছে পুরো ব্যাপারটি এখনো অপরিচিত হয়ে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন