চাঁদপুরে এবার মসজিদের ইমামের ওপর বর্বর নির্যাতন!

মুনশী নাঈম:

বিয়ে পড়ানোর জন্য ডেকে নিয়ে এবার মসজিদের ইমাম সাহেবের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়েছে এক পুলিশ। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামে।

এক ভিডিও বার্তায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নির্যাতনের শিকার বায়তুল মামুর মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। নির্যাতনকারী উগ্র পুলিশটির নাম মুস্তাফিজুর রহমান দুলাল।

স্বীকারুক্তিমূলক ভিডিওবার্তায় ইমাম সাহেব বলেন, ‘আমি জুমা পড়ানোর পর যার মেয়ের বিয়ে, সে আমাকে বিয়ে পড়াতে যেতে বললো। আমি গেলাম। বাড়িতে ঢুকতে যাব, এমন সময় আমার পথ আটকে দাঁড়ালো দুলাল। সে পুলিশে চাকরি করে। সে আমাকে বললো, ‘তুই নাকি চান্দা করোস? আমি বললাম, কিসের চান্দা। তখন বুঝতে পারলাম, সকালে আমি বেতন তুলতে গিয়েছিলাম। মসজিদের বেতন যিনি তুলেন, সকালে আমাকে বললেন, আজ শুক্রবার, মকতব নেই, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গণশিক্ষা কার্যক্রম নেই, তাই আমার সঙ্গে চলেন। আমি তার সঙ্গে গিয়েছিলাম।’

No description available.
মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

ইমাম সাহেব আরও বলেন, দুলাল আমাকে বললো, তুই আমাকে চিনিস? আমি পুলিশে চাকরি করি। মাদারচোদ, তুই জঙ্গী।’ আমি বললাম, কী বলছেন এসব? প্রমাণ থাকলে থানায় নিয়ে যান। এরপর সে আমাকে এলোপাথাড়ি ঘুষি থাপ্পর দিতে লাগলো। আমার কানে দুটি থাপ্পর দিয়েছে, কানে শুনতে পাচ্ছি না।

ভিডিওতে বয়ান দেয়ার সময় ইমাম সাহেব কান্না করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, প্রতিবাদকারী গ্রামবাসীর নাকে মুখে রক্ত। সাদা দাড়ি ও পাঞ্জাবিতেও রক্ত।

No description available.
মুস্তাফিজুর রহমান দুলাল

সূত্র মারফত জানা গেছে, বায়তুল মামুর মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে এলাকার সবাই তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধা করে। কিন্তু পুলিশে চাকরি করা মুস্তাফিজুর রহমান দুলাল ইমামের উপর হামলা চালালে প্রতিবাদ জানায় এলাকার কিছু গণ্যমান্য লোক। তার এহেন কর্মকান্ডের কারণ জানতে চাওয়ায় তাদের উপরও দুলাল তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে হামলা চালায়। তাদের আক্রমণে কয়েকজন খুবই গুরুতর আহত হয়েছে আর কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধাও আছেন!

এই ঘটনায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার ওসি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

 

বিজ্ঞাপন