চীনের একাল ও সেকাল

আরজু আহমদ

চীন সেসময় মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল এবং সীমান্তে তসরুপ চালাত। উমাইয়া খিলাফতকালে খোরাসানের গভর্নর কুতাইবা চীনের সম্রাটকে শায়েস্তা করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

৯৬ হিজরিতে ক্ষুদ্র বাহিনী নিয়ে চীন আক্রমণ করেন। তিনি ফারগানা থেকে চীনের সীমান্ত শহর কাশগড় পর্যন্ত পাহাড়ি রাস্তা সংস্কার করেন।

পাহাড়ি সীমান্তে রাস্তা নির্মাণ ও পরে লড়াইয়ের এ কৌশল চীন বর্তমানে ভারতের লাদাখ ও তিব্বতের সিমান্তে প্রয়োগ করেছে এবং ভারতের চেয়ে কৌশলগত অবস্থানে এগিয়ে এবং বেশ কিছু জায়গা দখলও করেছে।

এরপর কুতাইবা কবীর নামীয় জনৈক কমান্ডারকে চীনের সীমান্ত শহর কাশগড় জয় করতে পাঠান। কাশগড় বিজিত হয়। কুতাইবার বাহিনী আরও ভিতরে পৌঁছে যায় চীনের। চীনের শাসকরা ভীত হয়ে উঠে।

সন্ধির প্রস্তাব দেয়। আলোচনা চলাকালে মুসলিমদের প্রতিনিধি হুবাইরাহ বিন শামরাজ কিলাবীকে উদ্দেশ্য করে চীনের শাসক বলেন, ‘তোমাদের বাহিনী ক্ষুদ্র, তাই ফিরে যাওয়ার মধ্যে কল্যাণ আছে।’

তিনি উত্তর দেন, ‘যে বাহিনীর একপ্রান্ত সিরিয়ার তৃণভূমিতে, অপরপ্রান্ত চীনের পাহাড়ে- সে বাহিনী ক্ষুদ্র কী করে হয়? আর মৃত্যুর ব্যাপারে আমাদের বিশ্বাস, তা নির্ধারিত সময়েই আসবে। সুতরাং ভয় কিসের?’

চীনের শাসক এ উত্তরে ব্যাপক প্রভাবিত হন। জিজ্ঞাসা করেন, কী শর্তে তোমরা ফিরে যাবে? তিনি বললেন, আমাদের সেনাপতি শপথ করেছেন-

‘তিনি যতক্ষণ না এই ভূখণ্ড পদদলিত করছেন, রাজ পরিবারের সদস্যদের মোহর না লাগাচ্ছেন, কর না আদায় করছেন, ততক্ষণ ফিরবেন না।’ চীনের শাসক বললেন, আমি তোমাদের সেনাপতির শপথ পূর্ণ করব।

তিনি কুতাইবার নিকট কয়েকটি সোনার ঝুড়িভর্তি মাটি, কর স্বরূপ মুদ্রা এবং চারজন রাজকুমারকে প্রেরণ করেন। কুতাইবা মাটি পদদলিত করেন। কর গ্রহণ করে কোষাগারে জমা করেন, রাজকুমারদের গায়ে সিলমোহর মেরে ফেরত পাঠান।

সেই চীন আর আজকের চীনে বহু তফাৎ। মুসলিম সম্রাজ্য থেকে ছিনিয়ে নেওয়া সিংকিয়াং-এ ইসলাম নিষিদ্ধ প্রায়। সেখানকার শিশুদের ইসলামি নাম রাখা নিষিদ্ধ। রোজা নামাজও নিষেধের মধ্যে।

ইসলাম মানলে বাতিল হয়ে যায় নাগরিক অধিকার। যে জাতির সীমান্তে এক রাখাল মুসলিম যুবকের গায়ে নির্যাতনের বদলা ছিল চারজন রাজপুত্রের গায়ে সিলমোহর সেঁটে দেওয়া। সে জাতি আজ কোথায়?

যে কাশগড় আর ফারাগানা ছিল মুসলমানের সংস্কৃতি ও গৌরবের অন্যতম পৃষ্ঠভূমি। আজ সেখানেই চীন মুসলিমদের শূকর খেতে বাধ্য করছে। একদিন যা ছিল ইলমের কেন্দ্র সেখানে আজ কোরআনের অনুবাদ করলে যেতে হয় জেলে।

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদপারলেন না মোহাম্মদ সালাহ
পরবর্তি সংবাদ​’বন্দুকযুদ্ধে’ যুবলীগের সাবেক নেতাসহ নিহত ১০