নেপালে বিমান দুর্ঘটনা: ইউএস-বাংলার মামলা স্থগিতের আবেদন নাকচ

বিমান-নেপাল-বিধ্বস্ত-ইউএস-বাংলা-us-bangla-airlines

ফাতেহ ডেস্ক:

কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সাত মেডিকেল শিক্ষার্থীর পরিবার থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলাটি নেপালেই চলবে। এই মামলার শুনানি স্থগিতের জন্য ইউএস-বাংলার করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের এই খবর দিয়েছে হিমালয় টাইমস। সংবাদমাধ্যমটির ই-পেপারে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার বলা হয়েছে, নিহত এমবিবিএস শিক্ষার্থীদের পরিবার থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের যে মামলা করা হয়েছে তার বিষয়ে অন্তর্বর্তী এমন কোনো নির্দেশ দেয়া যাবে না।

আদালত মনে করছেন, এমন স্পর্শকাতর মামলার শুনানি স্থগিত করা অবিচারের সামিল। তাছাড়া এটি ভুক্তভোগীর পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বিদুর ম্যান শ্রেষ্ঠা হিমালয় টাইমসকে জানান, তারা ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের কপি গ্রহণ করেছেন। সেখান থেকে জেনেছেন ২৫ আগস্ট এই ক্ষতিপূরণ আদায়ের মামলার ফের শুনানি হবে।

২০১৮ সালের ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় ৫১ জন যাত্রী ও ক্রু প্রাণ হারান। এর মধ্যে ২৮ জন ছিলেন বাংলাদেশি। ২২ জন নেপালের। আরেক জনের বাড়ি চীনে।

ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যান ২০ জন। যদিও গুরুতর আঘাতের কারণে তাদের অনেককেই দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নিতে হয়েছে।বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা আর ঘটেনি। এমনকি ১৯৯২ সালের পর নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও এর চেয়ে ভয়াবহ কোনও বিমান দুর্ঘটনা ঘটেনি।

নিহতদের মধ্যে থাকা সাত শিক্ষার্থীর পরিবার ইনস্যুরেন্স আদায়ের জন্য নেপালের সুপ্রিম কোর্টে রিট করেন। ইউএস-বাংলা এবং সংশ্লিষ্ট ইনস্যুরেন্স কোম্পানির দাবি, ভুক্তভোগী পরিবার নেপালে এই মামলা করতে পারে না।

কাঠমান্ডু জেলা আদালত গত ৫ ডিসেম্বরও জানায়, ভুক্তভোগীদের পরিবার নেপাল থেকেই ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবে। আন্তর্জাতিক আইন দেখিয়ে পরিবারগুলো ২.১০ বিলিয়ন রুপি দাবি করেছে।