প্রশাসন ও পরিচালনায় বয়সসীমা রাখা জরুরী

মহিউদ্দীন ফারুকী:

দরস-তাদরীস আজীবন অথবা আমৃত্যু হতে পারে। ইসলামের ইতিহাসে এর নজীর অসংখ্য। হাদিসের দরসেই জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে এমন অনেক নজীর রয়েছে। মৃত্যুশয্যায়ও ইলম নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করেছেন আমাদের ইমামরা। আমাদের আসলাফ ও আকাবিররা। ইলমের কথা, হাদিসের দরস দিতে না পারলে তারা ছটফট করতেন। এখনও আমাদের আশেপাশে এমন নজীর রয়েছে।

মসজিদে নববিতে শায়েখ আবুবকর জাবের আল জাযায়েরি যখন জীবনর শেষদিকে দরস দিতেন তখন তিনি কথা বলতে পারতেন না। আমরা তার দরসে বসে শুধু একজনের এবারত পড়া শুনতাম আর শায়েখের চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকতাম। দরস শেষে তিনি সবাইকে নিয়ে হাত তুলে দুআ করতেন। আমরা দুআয় শরীক হতাম। এখনও দরস দিচ্ছেন আমাদের শায়েখ শায়েখ আব্দুল মুহসিন আব্বাদ আল বদর। তিনি চোখে দেখেন না। হুইল চেয়ারে করে নিয়ে আসতে হয়। কথা মুখে আটকে যায়। কিছু বুঝা যায়, কিছু বুঝা যায় না। তবুও আমরা তার দরসে বসে হাদিস শুনতাম। হাদিস পড়তাম। বর্ণনাকারীদের নিয়ে তার অমূল্য আলোচনা ও দৃষ্টিভঙ্গি শুনতাম। মুগ্ধকর ব্যাখ্যা

সারকথা, বয়স হলেও দরস-তাদরীস চলে। ইলমের আলোচনা পর্যালোচনা চলে।

তবে বিবেক বা স্মৃতিশক্তি লোপ পেলে মুহাদ্দিসীনরা হাদিস গ্রহণ করা বাদ দিয়ে দিতেন। তাদের কথা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতেন। অন্যদিকে প্রশাসনিক ও পরিচলনাগত কাজের জন্য বয়সের সময়সীমা রয়েছে সারা পৃথিবীতে। নির্দিষ্ট সময় পরে তাকে অবসরে যেতে হয়। তার আর সেই পরিচালনার যোগ্যতা থাকে না। থাকলেও তার উপর আর ভরসা করা যায় না। কারণ শেষ বয়সে তিনি অন্যের উপর ভরসা করে চলতে হয়।

আসলাফদের মধ্যেও যারা প্রশাসনিক ও সরকারি দায়িত্বে ছিলেন তারা একপর্যায়ে কাজ থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। এই ধারা বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন পদে থাকা আলেমদের ক্ষেত্রেও পাওয়া যায়। এই বয়সসীমা নির্ধারণ হওয়া উচিত সব সেক্টরে। সব মহলে। সরকারি চাকরিতে কাজের এবং সেই কাজ থেকে অবসরের একটি বয়সসীমা রয়েছে। এমনকি বেসরকারি চাকরিতেও রয়েছে। শুধু নেই আমাদের অঙ্গনের প্রশাসনিক কাজ থেকে অবসরের কোনো নিদৃষ্ট বয়সসীমা। যতদিন এই বয়সসীমা নির্ধারণ না হবে, অবসরের বয়স হলেও অবসর গ্রহণ না করবে ততদিন এই অচলাবস্থা পরিলক্ষিত হবেই। দুর্নীতি,অনিয়ম,গোঁজামিল, অসচ্ছতা থাকবেই। মাথার উপর বসে মীরজাফর,ধান্দাবাজরা কাঁঠাল খাবেই।

তাই এহতেমাসহ বিভিন্ন কাজের জন্য নিদৃষ্ট বয়সসীমা নির্দারিত হোক। আজীবন, আমৃত্যু তাদের থেকে সোহবত, ইমামত, দরস এবং খেলাফত গ্রহণের ধারা জোরালোভাবে চলুক। সুশৃঙ্খল হোক আমাদের অঙ্গনের প্রশাসন ও পরিচালনা।