বশির মেসবাহর সঙ্গে আলাপ

আরবি-উর্দু বইয়ের প্রচ্ছদ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সবচে প্রভাবশালী শিল্পী বশির মেসবাহ। সবাই যখন মাউস এবং কীবোর্ডের কারসাজিতে রঙের খেলা খেলছেন, তিনি তখন মার্কার, পেন্সিল, দোয়াত-কালি, রং-তুলি দিয়ে সৃষ্টি করছেন মোহনীয় যাদু। দেশের শ্রেষ্ঠ দু’তিনজন ক্যালিগ্রাফারের মধ্যে অন্যতম একজন তিনি। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় তৈরী হচ্ছে শত শত দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদ। তাঁর শিল্প জীবনের বৃত্তান্ত জানতে তাঁর মুখোমুখি হয়েছিল ফাতেহ টুয়েন্টি ফোর। সাক্ষাৎকারটি গ্রন্থনা করেছেন রাকিবুল হাসান

রাকিব: কবে থেকে ক্যালিগ্রাফি শুরু করেন? কার কাছে ক্যালিগ্রাফি শিখেছেন?

 

বশির মেসবাহ: কিতাবাতটা কিছু শেখা হয়েছিল ছাত্রকালেই। ইকরা পত্রিকার কাজের সূত্রে বিদেশি কিছু আরবি পত্রিকা দেখার সুযোগ ঘটে, সেখানে চমৎকার চমৎকার ক্যালিগ্রাফি অবাক হয়ে দেখতাম। তবে দেখা পর্যন্তই, নিজে সেরকম কাজ করতে পারবো তা কখনো ভাবিনি। মিটিমিটি আগ্রহ তো ছিল কিন্তু সাহস হয়নি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে আরিফুর রহমান ভাইয়ের কাছে যাতায়াত করি। একদিন তাঁর করা একটি ক্যালিগ্রাফি দেখি। কালেমা তাইয়্যেবার ক্যালিগ্রাফি। খুব ভালো লাগে। কথার কথায় তিনি আমাকে বললেন, আপনি ক্যালিগ্রাফি করেন না কেন? বাক্যটা ছিল এরকম, কিন্তু অর্থ ছিল -আপনি তো কিতাবাত জানেন, আপনার জন্য তো ক্যালিগ্রাফি আরও সহজ! সেখান থেকেই সাহস পাই। পরে আরিফ ভাই আমার কাজ দেখে নানা সময়ে যথেষ্ট উৎসাহও দিয়েছেন। তার উৎসাহ আমার কাজের প্রেরণা যুগিয়েছে।

রাকিব: কোন অনুপ্রেরণায় এই শিল্পকে বেছে নিয়েছেন? কেন নিয়েছেন? কোনো ব্যক্তির অনুপ্রেরণা ছিল?

বশির মেসবাহ: অধিকাংশ সময় দেখা যায় কোনো কিছুকে বেছে নিতে হয় না। এটা প্রকৃতির নিয়েমই হয়ে যায়। আমার বেলাতেও তাই হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি একটা ঝোঁক ছিল। বড় দুই ভাই আদিব হুজুর ও হাজী সাহেবকে রং-তুলি দিয়ে কাজ করতে দেখেছি এটাও আমাকে আগ্রহী করেছে। বিশেষভাবে আদিব হুজুর আমার আগ্রহ দেখে উৎসাহ দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন।

রাকিব: আরবি ‘ইকরা’ ম্যাগাজিনের যে প্রচ্ছদ করতেন, সে সময়ের কিছু স্মৃতি শুনতে চাই।

বশির মেসবাহ: ইকরার (পরবর্তীতে আল-কলম) প্রিন্ট আকৃতিটা ছিল অনেকটা টেবলয়েড পত্রিকার মত, এতে প্রচ্ছদের আলাদা কোন বিষয় ছিল না। পুরো কাজটাই হাতে করা হতো। পত্রিকার পৃষ্ঠার মাপে ট্রেসিং পেপারে ডিজাইনটা আমরা করতাম। সেখান থেকেই প্লেট হতো। স্মৃতি তো অনেক আছে, ইকরার কিছু লেখা আদিব হুজুর আমাকে আগে দিয়ে দিতেন আমি কাজ করে রাখতাম। কিছু কাজ উনি বলতেন আমি পাশে বসে লিখতাম। সে এক প্রবিত্র মুহূর্ত! বরকতময় মুহূর্ত! তো একদিন তিনি বলা ছাড়াই আমি ’আল কলম’ এর একটি লোগো তৈরি করছিলাম। ওই মুহূর্তেই তিনি এসে উপস্থিত, দেখে এত খুশি হলেন যে পকেট থেকে বের করে ২০ টাকা হাদিয়া দিলেন। সম্ভবত ১৯৮৪ সালের কথা, তখন ২০ টাকার অনেক দাম ছিল। ওই সময়ের সব কিছু এখন মনে হলে বুঝি, আমার ঢিলেমি ছিল সীমাহীন, আদিব হুজুরের ধৈর্য ছিল অসীম!

রাকিব: আরিফুর রহমান বলেছেন, আপনি পেইন্টিং ক্যালিগ্রাফি করেন। এই জিনিসটা মূলত কী?

বশির মেসবাহ: শোনা হয়তো ভুল হয়েছে। অনেকেই বলে আমি নাকি ফন্ট আশ্রিত ক্যালিগ্রাফি করি, অর্থাৎ ফন্ট বা ‘খত’ ক্যালিগ্রাফিতে মুখ্য থাকে। পেইন্টিং ক্যালিগ্রাফি বলতে আমি যতদূর বুঝি তা হলো–সেখানে রংটা অনেক চমৎকার হয়। খতটা গৌণ থাকে। আবার ভালো হাতে পড়লে দুটোই চমৎকার হতে পারে।

রাকিব: বাংলা ক্যালিগ্রাফি নিয়ে আপনার কাজগুলোর কথা শুনতে চাই।

বশির মেসবাহ: শুরুতে আরবিতেই কাজ করতাম, পরবর্তীতে বাংলাতেও অনেক কাজ করা হয়েছে। তুলনামূলক বাংলাতে ক্যালিগ্রাফি আমার জন্য একটু কঠিন মনে হয়। আন্তর্জাতিকভাবেই আরবি ক্যালিগ্রাফির একটা আলাদা অবস্থান রয়েছে। অন্যান্য ভাষাতে ক্যালিগ্রাফি হয়। কিন্তু আরবির মত ক্যালিগ্রাফির সেই শান কোথায়! এমনকি ফার্সি, উর্দুতেও ক্যালিগ্রাফির সেই মজা আনা যায় না। বাংলায় ক্যালিগ্রাফি করার ক্ষেত্রে দেখা যায় বাংলাকে যত আরবির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া যায় সেটা ততটাই ক্যালিগ্রাফি হয়ে উঠে।

রাকিব: আঁকাআকির ক্ষেত্রে কোন ধরণের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছেন?

বশির মেসবাহ: না সেরকম কিছু হয়নি, বরং সবার কাছ থেকে উৎসাহই পেয়েছি।

রাকিব: শিল্পকে সাধনা মনে করেন নাকি একে স্বভাবগত ভালো লাগায় শুধু চর্চা করেন।

বশির মেসবাহ: যখন কিছুই বুঝতাম না, তখনো শিল্পকে সাধনা মনে করিনি। ভাললাগা থেকেই করা। পরবর্তীতে পেশার তাগিদেই এ কাজে আবদ্ধ হয়ে পড়ি। আমাদের দেশে শিল্পের সাথে সাধনাকে মিশ্রণ করে যারা কথা বলেন, তাদের একটা শ্রেণীবদ্ধতা আছে। এদেরকে যখন চিনতে শিখি তখন এই শব্দগুলোর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। একবার একটি ছাপা কাগজে আমার নামের আগে ‘ক্যালিগ্রাফি শিল্পী’ বাক্যটি দেখে আমার আম্মা কষ্ট পেয়ে বলেছিলেন, ‘তোমাকে বানালাম মাওলানা অথচ তোমার নামের আগে শিল্পী লেখা! শরীরের অঙ্গ দুলিয়ে যিনি নাচেন তিনি শিল্পী, গলা ফাটিয়ে যিনি চিৎকার করেন তিনি শিল্পী, যিনি নগ্ন ছবি আঁকেন তিনিও শিল্পী। এখন যিনি পবিত্র বাক্য দিয়ে ক্যালিগ্রাফি তৈরি করবেন তিনিও শিল্পী! শিল্প ও শিল্পী শব্দের এত মিশ্রিত ব্যবহারের মহত্ব আমি বুঝি না।

রাকিব: আপনার কোনো প্রদর্শনী হয়েছে? ইচ্ছে আছে প্রদর্শনী করার?

বশির মেসবাহ: জ্বি, গ্রুপ ও একক কয়েকটি প্রদর্শনী হয়েছে। তবে আগামীতে কোনো ধরনের প্রদর্শনীতে যুক্ত হওয়ার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।

রাকিব: কওমি মাদরাসার সিলেবাসভুক্ত অনেক বড় বড় কিতাবের প্রচ্ছদ একেছেন আপনি। ইসলামি প্রকাশনীগুলোর প্রচ্ছদ নিয়ে একটা মূল্যায়ন শুনতে চাই।

বশির মেসবাহ: আমাদের দেশে বই বা কিতাবের প্রচ্ছদ নিয়ে গবেষণা, পরিশ্রম ও চর্চা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি হয়। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, বিশ্বের বিখ্যাত এবং বহুল বিক্রিত বইগুলোর প্রচ্ছদ অত্যন্ত সাদামাটা। তবে বিষয়ের সাথে তা সামঞ্জস্যশীল। বড় বড় ব্যক্তিদের জীবনী, আত্মজীবনীমূলক বইগুলো দেখুন, সেখানে তাদের একটি ছবি ব্যবহার করে প্রচ্ছদ এর কাজ সেরে ফেলা হচ্ছে। বাঁধাই, ছাপা ও উন্নত কাগজের কারণে সেগুলো দেখতেও খারাপ লাগে না । বাংলা বইগুলোর ক্ষেত্রে তো হতোই এখন দরসী কিতাবগুলোর প্রচ্ছদেও ভাবগাম্ভীর্যতা এড়িয়ে রঙ ও ডিজাইনের বাহার ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যথায় মার্কেটে নাকি টেকাই যাচ্ছে না!

তবে সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে ইসলামিক প্রকাশনীর প্রচ্ছদের কাজগুলো কিন্তু খারাপ হচ্ছে না। প্রবীণদের মধ্যে আরিফুর রহমান ভাই, শাহ ইফতেখার তারিক ভাইয়ের কাজ আমার কাছে ভালো লাগে। নবীনদের অনেকের কাজ দেখা হয়েছে, সবার নাম মনে থাকে না। যুবাইরসহ অনেক তরুণের চোখ ধাঁধানো কাজ আমার ভালো লাগে। অনধিকার চর্চার মত একটা কথা বলে ফেলি, ইসলামী অঙ্গনে প্রচ্ছদের কারিগররা তো তাদের কাজগুলো যথাযথভাবে করে ফেলছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তা উপস্থাপন করার মত। কিন্তু ভেতরের লেখা? কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত লেখক ছাড়া এবং হাতেগোনা কিছু প্রকাশনা ছাড়া লেখা/ অনুবাদের মান বলার মত নয়।

রাকিব: আপনার লেখার হাত তো চমৎকার৷ আর লিখলেন না কেন?

বশির মেসবাহ: চমৎকার ছিল কিনা জানি না। তবে মোটামুটি লিখতে পারতাম। বানানো গল্প লিখলে কী ফায়দা! আর দ্বীনি লেখা ( বলা যায় অনুবাদ ) লিখতে যতটুকু দায়িত্বশীল হতে হয়, আমলে-আখলাকে, তা আমার মাঝে ছিল না। সম্ভবত এ কারণেই লেখাটা আর হয়নি।

রাকিব: বড় ভাই হিসাবে আদিব হুজুরের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন! আপনার জীবনে আদীব হুজুরের অবদান ও ভূমিকা কতটুকু?

বশির মেসবাহ: আলহামদুলিল্লাহ, খুবই ভালো। দুনিয়ার সামাজিক মানদণ্ডে ভাই ভাইয়ের সম্পর্কের যে হালাত থাকার কথা তাতে হয়তো কিছুটা ঘাটতি রয়েছে, তবে দ্বীনের মানদণ্ডে সম্পর্কের যে হক রয়েছে, বিশেষত তিনি তাঁর পক্ষ থেকে শতভাগই পালন করে যাচ্ছেন। এবং তা সকল ভাই বোনের জন্যই। আামার জীবনে আদিব হুজুরের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে আমি কোন ত্রুটি দেখি নাই। তবে আমি অনেক কিছু নিতে পারি নাই সেটা আমার ব্যর্থতা।

রাকিব: বর্তমান সময়ে আমরা অনেক তরুণদের আরবি ক্যালিওগ্রাফি আরবি হাতের লেখার প্রতিভা দেখতে পাই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিন্তু তাদের মূল্যায়ন না করায় বা তারা কর্মক্ষেত্র না পাওয়ায় তাদের প্রতিভাগুলো বিলুপ্তি হওয়ার পথে। তাদের নিয়ে কী কিছু একটা করা যায়না। বা এদের নিয়ে কী কোনো একটা ওয়ার্কফার্ম খোলা যায়না।

বশির মেসবাহ: বর্তমানে ইন্টারনেট কাজ শেখার ও কাজের বৈচিত্রের নানা দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তবে এর ভালো অভালো দুটি দিকই রয়েছে। আমরা যখন শুরু করি তখন কাজ শেখা ও কাজ করা তত সহজ ছিল না। তবে একটা সাধারণ কাজ দেখেই মানুষ অবাক হয়ে দেখতো, বাহবা দিত। এখন ছেলেরা অনেক চমৎকার চমৎকার কাজ করেও রেসপন্স পাচ্ছে কম। কাজে ফাঁকি দেয়ার কিংবা নকল করার সুযোগ নেই। কারণ, মানুষ আন্তর্জাতিক কাজ দেখছে। আর কাজের মূল্যায়নের কথা কী বলব! কাজ বাড়ছে, কাজের লোক বাড়ছে কিন্তু চাহিদা সে তুলনায় কম।

আর প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ক্যালিগ্রাফির মৌলিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন আছে। কিতাবাতের তো একটা প্রয়োজন আছে, কিন্তু আমাকে প্রশ্ন করা হলে, ‘ক্যালিগ্রাফির কি প্রয়োজন?’ আমি এর কী জোড়ালো উত্তর দিব? ক্যালিগ্রাফি না হলে পৃথিবীর এমন কী ক্ষতি হয়ে যেত! এটা নান্দনিক বিষয়, শখের বিষয়। কেউ করলে শখে শখে করবে, কেউ কিনলে শখে শখে কিনবে। এমন একটা বিষয়ে কাউকে পয়সা খরচ করে কিনতে আমি উৎসাহ দিতে পারি না।

রাকিব: আপনি রক্ষণশীল পরিবারের ছেলে ছিলেন। আর্টসকে আপনার পরিবার কিভাবে নিত? পরিবার থেকে কি কখনো উৎসাহ পেয়েছিলেন না পরিবার তার একর্মে বাঁধা হয়ে দাড়িয়ে ছিল।

বশির মেসবাহ: রক্ষণশীল বুঝি না। একটি দ্বীনদার পরিবারে আল্লাহপাক আমাকে মেহেরবানী করে পাঠিয়েছেন। বিনয়ের সাথে বলছি, এজন্য আল্লাহ পাকের দরবারে লাখো শুকরিয়া আদায় করি। আমার কাজে পরিবারের লোক-জন ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে দেখতেন। আমি ভালো আলেম হলে তারা আরো বেশী খুশি হতেন। কেবলমাত্র আদিব হুজুর এ কারণেই উৎসাহ দিতেন যে, ‘লেখা পড়ায় মনোযোগ তো কম অন্য অকাজে জড়ানোর চেয়ে এই প্রতিভাটা কাজে লাগুক।’

রাকিব: কওমী প্রতিষ্ঠানগুলোতে তো দরস-তাদরীসের বাহিরে অন্যান্য বিষয়াবলী নিষিদ্ধই থাকে। আপনার শেখায় প্রতিষ্ঠান কি বাঁধা দেয়নি? লেখা পড়া আর আর্টস শেখার মাঝে সমন্বয় করতেন কিভাবে?

বশির মেসবাহ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিভার সীমিত চর্চা নিষিদ্ধ থাকে না। যেমন কেউ ভালো কেরাত পড়তে পারে বা কেউ ভাল বক্তৃতা করতে পারে, এগুলোর কদর ও চর্চার সুযোগ তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পায়। কারো আঁকাআঁকির প্রতিভা থাকলে মাদ্রাসাগুলোতে এর চর্চার সুযোগ থাকে। আমিও সে সুযোগ পেয়েছি। নুরিয়া মাদ্রাসায় ‘আল আশরাফ’ নামে একটি দেয়ালিকা বের হতো, তাতে কাজ করার সুযোগ আমি পেতাম। তাছাড়া আদিব হুজুরের কিছু কাজের সুযোগ তো ছিলই।

আসলে সমন্বয় হয় না। একটার চর্চা করতে গেলে আরেকটার কিছু ক্ষতি তো হয়। তবে আমার ক্ষেত্রে শুধু আঁকাআঁকির কারণেই নয় অমনোযোগিতার কারণেও লেখাপড়াটা কম হয়েছে।

রাকিব: শিল্পী-জীবনে আপনার প্রাপ্তি কী?

বশির মেসবাহ: (শিল্পী শব্দটার প্রতি যেহেতু আমার কোন আগ্রহ নেই, সুতরাং) শিল্পী হিসেবে আমার জীবনে কোনো প্রাপ্তিও নাই। তবে একজন ‘কাতেব’ হিসেবে আমার অনেক তৃপ্তি রয়েছে। কিতাবাতের মাধ্যমে কায়দা, আমপারা ও কুরআন মাজীদের কিছু কাজ এবং দরসী ও দ্বীনি বইয়ের কাজের সাথে যুক্ত থাকতে পারাকে আমার নাজাতের উসিলা হবে বলে আশা করি।

রাকিব: যারা ক্যালিগ্রাফি শিখতে চায়, তাদের প্রতি আপনার উপদেশ?

বশির মেসবাহ: আরবি কিতাবাত বা ‘খতটা’ ভালো করে শেখা, তারপর আগ্রহ থাকলে ক্যালিগ্রাফিটা দেখে দেখে, করতে করতে হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

রাকিব: ফাতেহকে সময় দেয়ার জন্য শুকরিয়া।

বশির মেসবাহ: ফাতেহ টুয়েন্টি ফোর থেকে সাক্ষাৎকারের জন্য ফোন করা হলে ভাবলাম বর্তমান সময় প্রসঙ্গে হয়ত কিছু বলতে হবে। কিন্তু না প্রবাদবাক্য -ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে…. এসে গেল । ‍সাপ্তাহিকীর আয়োজনটি করার জন্য ফাতেহের জন্য শুকরিয়া। ফাতেহ এগেয়ে যাক। মাঝে আমিও লিখবো ফাতেহে। ইনশাআল্লাহ।

রাকিব: ফাতেহ আপনার লেখার অপেক্ষায় থাকবে।

বিজ্ঞাপন