বাইডেনের ইরান নীতি নিয়ে জার্মানিতে বৈঠক

ফাতেহ ডেস্ক:

নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইরান নীতি নিয়ে জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেছেন। সোমবার বার্লিনের ওই বৈঠকে দেশ তিনটির মধ্যে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তন ও তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ডয়চে ভেলের খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে ছয় জাতি-গোষ্ঠীর সই হওয়া পরমাণু চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফরাসি ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলোচনা করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

এ বিষয়ে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাসের মুখপাত্র জানান, বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতিতে পরিবর্তন আসবে। তিনি নতুন করে পরমাণু আলোচনা শুরু করবেন বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বাস করে।

২০১৫ সালের ওই চুক্তিতে বলা হয়, ইরান কেবল পরমাণু পরীক্ষা চালাতে পারবে। তবে অস্ত্র তৈরি বা এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিমান ইউরেনিয়াম মজুদ করতে পারবে না।

চুক্তিটি থেকে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে প্রত্যাহার করে নেন দেশটির বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফের তেহরানের ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।

সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলো ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আহ্বান জানালেও তাতে কান দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন, উল্টো সেটা তীব্র করা হয়। ইরানও চুক্তি না মানার হুমকি দিয়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির পরিমাণ বাড়ানোর কথা বলে।

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান চুক্তি ভঙ্গ করে গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে এ অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করে তেহরান বলছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

নির্বাচনে হারার পরও ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাইডেন ক্ষমতায় আসায় পরমাণু ইস্যুতে ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করছে ইউরোপীয় মিত্ররা।

তবে শক্তির ভারসাম্য ধরে রাখতে জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখর বিষয়ে একমত হয়েছেন। একইসঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে পরিস্থিতির ইতিবাচক অগ্রগতির বিষয়েও মত দেন তারা।

বিজ্ঞাপন