বাবার পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মাহফুজুল আলম

ফাতহ ডেস্ক:

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইসলামী শিল্পীগোষ্ঠী কলরবের তরুণ সঙ্গীতশিল্পী মাহফুজুল আলমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ আসর নরসিংদীর নিজ গ্রামে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় কলরবের শিল্পী, স্থানীয় আলেম-উলামা, সাধারণ মানুষ ও ভক্তবৃন্দ অংশ গ্রহণ করে। জানাজা শেষে তাকে তার পিতার পাশেই দাফন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে নরসিংদী থেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার পথে নারায়ণগঞ্জের বরপা এলাকার ইউএস বাংলা হসপিটালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ২৩ বছর।

জানা গেছে, ডেঙ্গু জ্বর ও কিডনির সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মাহফুজুল আলম। জ্বরের তীব্রতার সাথে ডায়েবেটিসের সমস্যা বেড়ে গিয়েছিল। গতকাল তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। আইসিইউতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

মাহফুজুল আলম বাংলাদেশের ইসলামী সঙ্গীত জগতের একজন কর্মঠ ও বিপুল শ্রোতাপ্রীয় শিল্পী ছিলেন। তিনি একাধারে সাউন্ড ডিজাইনার, গীতিকার এবং শিল্পী ছিলেন। ইসলামী সঙ্গীতের অসংখ্য শ্রুতিমধুর সংগীত তিনি গেয়েছেন এবং সাউন্ড ডিজাইন করেছেন।

বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় ইসলামী সঙ্গীত চ্যানেল হলিটিউনে চারশ’র বেশি গান কম্পোজ করেছেন তরুণ এ শিল্পী। এছাড়া প্রায় দুই শতাধিক গান তিনি নিজেও গেয়েছেন। শ্রোতাদের কাছে মাহফুজুল আলমের সঙ্গীতের আলাদা কদর ছিলো সব সময়।

তার ইন্তেকালে ইসলামী সঙ্গীত জগতের অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এত অল্প বয়সে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ইসলামী সঙ্গীত জগতের গুনগ্রাহীরা।

কলরবের প্রধান পরিচালক রশিদ আহমদ ফেরদাউস শোক প্রকাশ করে বলেন, মাহফুজ আলমের মৃত্যুতে আমরা সকলেই গভীরভাবে শোকাহত এবং হতবিহ্বল। ইসলামী সঙ্গীত জগতের একজন বিনয়ী এবং কর্মঠ শিল্পী হিসেবে মাহফুজ তার ভক্তদের মনে আজীবন বেঁচে থাকবেন। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি জান্নাত নসিব হওয়ার দোয়া করছি।

মাহফুজুল আলম ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারী নরসিংদী জেলার মাধবদী থানার বরপা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাজীবনেও মেধার সাক্ষর রেখেছেন তিনি। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামি স্টাডিজে অনার্স সম্পন্ন করেছেন।

বিজ্ঞাপন
আগের সংবাদকলরবের জনপ্রিয় শিল্পী মাহফুজুল আলমের ইন্তেকাল, জানাজা বাদ আসর
পরবর্তি সংবাদবাবরি মসজিদ ভাঙায় অংশগ্রহণকারী নওমুসলিম মুহাম্মদ আমিমের সন্দেহজনক মৃত্যু