ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাচীন মসজিদ ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব

মুনশি নাঈম:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটি আমোদিত হয়েছে বিখ্যাত কিছু মানুষের কারণে। শুধু জেলা নয়, তারা ছাড়িয়ে গেছেন দেশ ও কালের সীমানাও। তাদের হুংকারে কেঁপেছে শাহি তখতে তাউস, প্রকম্পিত হয়েছে বাতিলের আন্ধা শিবির। কারো কারো বয়ানে চোখের জলে ভেসে গেছে মাহফিল-মজমা। মানুষ মুগ্ধ হয়ে শুনেছে তাদের তাফসির। এমন কয়েকজন প্রখ্যাত ইসলামি ব্যক্তিত্বের ওপর আলোকপাত করা হলো।

ইসলামি ব্যক্তিত্ব

ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম রহ.

আমাদের পাক-ভারত উপমহাদেশে ইসলাম প্রচার-প্রসারে যে সকল আলেম-উলামা অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতী সন্তান আল্লামা তাজুল ইসলাম এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি ১৩১৫ হিজরি মোতাবেক ১৮৯৬ সনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানাধীন ভূবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মাওলানা আনোয়ার আলী ও মাতার নাম জোবাইদা খাতুন।

দশ বছর বয়সে প্রথমে তাকে নিজ গ্রাম ভুবন-এর পার্শ্ববর্তী এক স্কুলে ভর্তি করানো হয়। মাত্র নয় মাসে তিনি ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত সব বই মুখস্থ করে ফেলেন। তার এ বিষ্ময়কর মেধার পরিচয় পেয়ে তিনি তাকে মাদরাসায় ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নেন। সে মোতাবেক তার পিতা তাকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার উপকন্ঠে অবস্থিত শ্রীঘর মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। এখানে কিছুকাল পড়াশোনা করার পর তিনি সিলেটের বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল মাদরাসায় ভর্তি হন। বাহুবল মাদরাসায় তিনি কয়েক বছর অধ্যয়ন করেন।

বাহুবল মাদরাসা থেকে যথাসময়ে সুনামের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে মাওলানা সাহেব তদানীন্তন বাংলা আসামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেটের মাদরাসা আলিয়ায় গিয়ে ভর্তি হন। ১৩৩৭-৩৮ হিজরি ফাজিল ফাইনাল পরীক্ষায় তিনি প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন। সিলেট আলিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া শেষ হলে মুফতি সহুল উসমানি রহ. তাকে ১৩৩৮ হিজরিতে দারুল উলুম দেওবন্দ পাঠান। সেখানে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে ৪ বছর লেখাপড়া করেন। তার বিদায়ের সময় আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি রহ. বলেন, দারুল উলুমের ইলমের ভাণ্ডার তাজুল ইসলামের সঙ্গে বাংলায় চলে যাচ্ছে। ১৩৪২ হিজরিতে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি।

দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে ফিরে তিনি প্রথমে ঢাকায় এবং পরে কুমিল্লার জামিয়া মিল্লিয়ার (কাসেমুল উলুম) শায়খুল হাদিস হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৩৪৫ হিজরিতে ফখরে বাঙ্গাল রহ. জামিয়া ইউনুসিয়ার অধ্যক্ষ পদ গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ ৪২ বছর তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিজ দায়িত্ব পালন করেন।

মাওলানা তাজুল ইসলাম পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। তিনি উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ কেরাত বিশেষজ্ঞ ও বাংলণাদেশে ইলমে কেরাতের প্রবর্তক উজানীর কারী ইবরাহিম সাহেবের তৃতীয় কন্যাকে বিবাহ করেন। এ স্ত্রী থেকে তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথম স্ত্রীর ইন্তেকালের পর তিনি সরাইল থানার দেওরা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে দ্বিতীয় বিবাহ করেন। এ স্ত্রীর দুই ছেলে ও এক মেয়ে জন্ম গ্রহণ করে।

বেদাআত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। সমাজে প্রচলিত মিলাদ কিয়াম ও তথাকথিত মারেফাতের নামে ভণ্ড ফকিরদের নানাবিধ বিরুপ প্রচারণার বিরুদ্ধে তিনি কার্যকরি ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। ব্রাক্ষণবাড়িয়া শহর থেকে পতিতালয় উচ্ছেদ ও পতিতাদের পুনর্বাসন তার এক উল্লেখযোগ্য কীর্তি। তার পরামর্শ ও তত্ত্ববধানে ব্রাক্ষণবাড়িয়া শহরের পূর্বাঞ্চলে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে একটি খাল খনন করা হয়েছিল। যা এন্ডারসন খাল নামে পরিচিত। এ খালের মাধ্যমে ব্রাক্ষণবাড়িয়া শহর জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও ঢাকা অঞ্চলে অসংখ্যবার তিনি কাদিয়ানি ও বিদআতিদের মোকাবেলা করেন। কাদিয়ানি বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি দুটি মসজিদ নির্মাণ করেন। তাহলো, মৌলভীপাড়া জামে মসজিদ এবং আনন্দবাজার জামে মসজিদ। মূলত মসজিদ দুটো কেন্দ্র করে তিনি তার দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

১৯৬৩ সালে মিসরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক উলামা সম্মেলনে ফখরে বাঙ্গাল রহ. পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্বকারী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। পাকিস্তানের বিখ্যাত আলেম আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরী রহ.ও সেই প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে সিলেট অঞ্চলের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তৎকালীন খেলাফত আন্দোলনে সক্রীয় ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক থেকে তিনি হজরত মাহমুদ হাসান দেওবন্দি ও হজরত হুসাইন আহমদ মাদানি রহ.-এর অনুসারী ছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরও তিনি দেশে কুরআনি আইন প্রতিষ্ঠায় তার আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। এ সময় তিনি নেজামে পার্টির অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন।

৩ এপ্রিল ১৯৬৭ সালে মোতাবেক ২০ চৈত্র ১৩৭৩ বাংলা সনে রোজ সোমবার এই বরেণ্য আলেমে দ্বীন ৭১ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন। তার খাদেম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অপর বিশিষ্ট আলেম মুফতি নুরুল্লাহ রহ.-এর ভাষ্য মতে আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার বলতে বলতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মাওলানা আলী আকবর রহ.

বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের সুপরিচিত একজন মুরুব্বি ছিলেন মাওলানা আলী আকবর রহ.। ১৯০৮ সালে বি. বাড়িয়া জেলার শ্যামবাড়ি নামক গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। পিতা গাজী মুন্সী সেকান্দার আলী চৌধুরী একজন কৃষিজীবি ও মসজিদের ইমাম ছিলেন। পিতামহ হযরত বাহলুল হাজারী রহ. একজন পরহেযগার ও বীর মুজাহিদ ছিলেন। ১৮৩১ খৃস্টাব্দে হযরত সাইয়েদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহ. যখন তাঁর মুজাহিদ বাহিনী নিয়ে শিখ ও ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য বালাকোট ময়দানে উপনীত হন, তখন এই মহান মুজাহিদ তাঁর সাথে সেই জিহাদে অংশগ্রহণ করেন।

মাওলানা প্রথম জীবনে তার পিতার থেকে অক্ষর জ্ঞান লাভ করেন। অতঃপর সৈয়দাবাদ মাদরাসায় ভর্তি হন। তারপর বরুড়া মাদরাসায় লেখাপড়া করেন। অতঃপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ায় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করে ১৯৪৬ খৃস্টাব্দে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দে যান।

হযরত মাওলানা আলী আকবর রহ. জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ায় লেখাপড়া সমাপ্ত করে উচ্চ শিক্ষার জন্যে দেওবন্দ গেলে তখন মাওলানা ইউসুফ রহ. সহ কয়েকজন তাবলীগী মুরুব্বী দেওবন্দের সফরে আসেন। তিনি হযরতজী হযরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. এর পরামর্শক্রমে তাঁর সফরসঙ্গী হন। দেওবন্দ হতে মুলতান পর্যন্ত হযরতজীর সাথে সফর করেন। অতঃপর তিনি মুলতান এলাকায় নিয়মিতভাবে দাওয়াতের কাজে জড়িত হয়ে পড়েন।

দেওবন্দ মাদরাসায় শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তৎকালীন জামিয়া ইউনুছিয়ার সদর ফখরে বাঙ্গাল মাওলানা তাজুল ইসলাম রহ. এর পরামর্শক্রমে তিনি সৈয়দাবাদ মাদরাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। সেখানে শিক্ষক থাকাকালীন একদিন ফখরে বাঙালের কাছে গিয়ে তিনি বললেন, ‘হুজুর মাদরাসায় শিক্ষকতা করার মতো অনেক লোক রয়েছে কিন্তু তাবলিগের কাজ করার মতো লোকের সংখ্যা এখনও অনেক কম। আমাকে যদি আপনি অনুমতি প্রদান করেন, তাহলে আমি মাদরাসায় শিক্ষকতা ছেড়ে একান্তভাবে তাবলিগের কাজে মনোনিবেশ করতে পারি।’ মাওলানা তাজুল ইসলাম রহ. তাঁর এ প্রস্তাব সানন্দে গ্রহণ করলেন। ফখরে বাঙাল আল্লামা তাজুল ইসলামের রহ. কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার পর বি. বাড়িয়া থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত তাঁর তাবলিগ জামাতের সফর ছিল। সে সফরে থাকাকালীন নিদারুণ কষ্ট করেছেন তিনি। একাধারে তিন/চারদিন পর্যন্ত না খেয়ে কাটিয়েছেন কিন্তু একমাত্র আল্লাহ মহান ছাড়া অন্য কারো কাছে ব্যক্ত করেনি কখনো। তাবলিগ জামাতের বিভিন্ন মুরুব্বিদের কাছ থেকে মাওলানা আলী আকবরের রহ. ব্যাপারে এমন মন্তব্যও পাওয়া যায় যে, ‘মাওলানা আলী আকবর রহ ছিলেন বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের শক্ত একটি খুঁটি। খুঁটি ছাড়া যেমন একটি ঘরের অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব নয়, মাওলানা আলী আকবরের রহ. নাম ও তাঁর অবদানের স্বীকৃতি ছাড়া বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের পরিচয় তুলে ধরা সম্ভব না।’

হযরত মাওলানা আলী আকবর রহ. প্রথম কর্মজীবনে হাটহাজারীর হযরত মাওলানা সাঈদ আহমদ রহ. এর নিকট বাই’আত হন। অতঃপর দেওবন্দের হযরত মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর হাতে বাই’আত গ্রহণ করেন। হযরত হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর বিশিষ্ট খলীফা হযরত মাওলানা দেলোয়ার হুসাইন রহ. হযরত আলী আকবরকে রহ. খেলাফত দান করেন।

তিনি যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া মাদরাসায় লেখাপড়া করেন তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুহিউদ্দীননগর গ্রামের আশরাফ আলী বেপারীর কনিষ্ঠ কন্যার সাথে তাঁর বিবাহ হয়।

হযরত মাওলানা আলী আকবর রহ. নামাযের প্রতি খুবই যত্নবান ছিলেন। নামাযের মুয়াজ্জিন মসজিদে আযান দেয়া শুরু করেছে শোনামাত্র তিনি এমন হয়ে যেতেন, যেন তিনি কাউকেও চিনেন না। যে মানুষটি তার অতি পরিচিত, সবে মাত্র যার সঙ্গে কথা বললেন তাকেও যেন চিনেন না। যখনই সময় পেতেন, তখন কুরআন শরীফ খুলে পাঠ করতেন। সফরেও তাঁর সাথে কুরআন শরীফ থাকত।

হযরত মাওলানা আলী আকবর রহ. ইন্তিকালের পূর্বে দিল্লী সফর করে আসেন। এরপর থেকে তাঁর শরীর দিন দিন অসুস্থ হতে থাকে। অসুস্থাবস্থায় তিনি কাকরাইল মসজিদের এক ছোট কামরাতেই কাঁটান। মসজিদের এই ছোট কামরায় বসেই তিনি সমস্ত বিশ্বের জন্য তাবলীগের ফিকির ও দু’আ করতেন। এ যিকির ও ফিকির করতে করতেই তাঁর জীবনের সমাপ্তি ঘটে। তাঁর শরীর যখন খুবই অসুস্থ হয়ে যেত বা তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়তেন, তখন অজ্ঞানতার মাঝেও যিকির ও তাবলীগের কথা বলতেন। জ্ঞান ফিরে এলে বা কিছুটা সুস্থ মনে হলে বলতেন, বিদেশের যে জামায়াতগুলো আসছে তাদের নুসরত কে করেছে? তাদের যেন কোন প্রকার কষ্ট না হয়। এ সময় বিশ্ব ইজতিমার জন্য টঙ্গির মাঠে কাজ চলছিল, তিনি অসুস্থতার মধ্যেও টঙ্গি ইজতিমার কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নসীহত করতেন।

মৃত্যুর পূর্বক্ষণে বেলা ১২টা ১৫ মিনিটের সময় তিনি একা একা যোহরের নামায আদায় করেন। কাকরাইল মাদরাসার উস্তাদ হযরত মাওলানা এনায়েত উল্লাহ সাহেব তাঁর শিয়রে বসে সূরা ইয়াসীন তিলাওয়াত করছিলেন। ড. রফীক সাহেব ও ড. মুহিউদ্দীন সাহেবও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুর পূর্বক্ষণে তিনি যখন অজ্ঞান ছিলেন, তখন ডাক্তারগণ তাঁর বুকে স্টেথিস্কোপের মাধ্যমে পরীক্ষা করে বলেন যে, তাঁর বুকের মধ্যে ‘ইল্লাল্লাহ’ ‘ইল্লাল্লাহ’ শব্দ শোনা যাচ্ছে। এ অবস্থায়ই তিনি ৩১ শে ডিসেম্বর ১৯৯৩ খৃষ্টাব্দে রোজ শুক্রবার পৃথিবী থেকে চির বিদায় নেন।

আল্লামা সিরাজুল ইসলাম রহ.

তিনি বড় হুজুর নামে দেশব্যাপী প্রসিদ্ধ। তাকে বলা হয় বাংলাদেশের রঈসুল মুফাসসিরিন। তিনি ১৮৭৩ সনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর থানাধীন দশদোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম মুন্সী মো: আব্দুল মজিদ ও মাতার নাম আমেনা বেগম। দুগ্ধ পানরত অবস্থায় তিনি মাতৃহারা হন। আনুমানিক ৭/৮ বছর বয়সে তিনি পিতাকেও হরান। পিতা-মাতা উভয়কে হারিয়ে আপন দাদা-দাদীর তত্ত্ববধানে লালিত পালিত হন।

তিনি পিতার কাছেই প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা- কায়দা ও আমপারা পড়েন। পিতার মৃত্যুর পর বাসগাতি গ্রামের মৌলভি ইয়াকুব সাহেব রহ.-এর কাছে জীবনের ৪/৫ বছর অতিবাহিত করেন। তারপর কানাইগর গ্রামে একটি মাদরাসায় দুই বছর পড়া-লেখা করে ঢাকার নবাববাড়িতে একটি মাদরাসায় ভর্তি হয়ে গভীর মনোযোগে পড়তে আরম্ভ করেন। ১৩৪৫ হিজরিতে উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য ভারত যান। বিশ্বখ্যাত দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসায় হাদীস, ফিকহ ও তাফসির ইত্যাদি বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করেন। সেখানকার সর্বোচ্চ শিক্ষাস্তর- দাওরায়ে হাদীস ও তাফসিরে সনদ লাভ করে পাঁচ বছর পর দেশে ফিরে আসেন।

১৩৫০-১৪২৫ হিজরি (১৯৩০-২০০৫ ঈসায়ী) পর্যন্ত একাধারে ৭৫ বছর দেশের প্রাচীনতম ইসলামী বিদ্যাপিঠ, শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষকতা করেন। ১৯৬৭ সালে ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম রহ.-এর ইন্তেকালের পর থেকে প্রায় ৪০ বছর যাবত সম্পূর্ণ বুখারি শরীফ তিনি একাই পড়াতেন। ১৯৭৪ সাল থেকে আমৃত্যু জামিয়া ইউনুছিয়ার মুহতামিমের দায়িত্বও সূচারূ রূপে পালন করে গেছেন। এছাড়াও তার চেষ্টায় পূর্বাঞ্চলে বহু মাদরাসা ও দ্বীনী মকতব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভাদুঘর জামিয়া সিরাজীয়াসহ আরো বহু মাদরাসা তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

মধ্য বয়সে তিনি সর্বপ্রথম জামিয়া ইউনুছিয়াতে কুরআনের তাফসির আরম্ভ করেন। ফখরে বাঙ্গাল রহ.-ও প্রায় সময় বসতেন সেই তাফসিরে। তার তাফসিরের প্রভাব এলাকার মধ্যে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে, কয়েক বছরের মধ্যেই তাফসির মাহফিল বিরাট সমাবেশে রূপ ধারণ করে। এরপর থেকেই তিনি ‘মুফাসসির হুজুর’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। তার প্রত্যকটি তাফসিরে শেষ মুনাজাতে শরিক হওয়ার জন্য হাজার হাজার মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে সমবেত হতেন।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য স্থানে বড় হুজুর রহ. জীবনভর তাফসির করেছেন। যেমন বি’বাড়িয়া থেকে আট মাইল দূরে বড়াইল নামক গ্রামে। বি’বাড়িয়া সদর থেকে চার মাইল দূরে সুহিলপুর মাঠে (এখনও এখানে ১৫ দিন ব্যাপী তাফসির মাহফিল হয়)। সরাইল থানা সংলগ্ন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। শহরস্থ নিয়াজ মুহাম্মদ হাইস্কুল মাঠে। মালিহাতা, বুধল ও মুহাম্মদপুর ইত্যাদি স্থানে।

বড় হুজুর রহ. বিভিন্ন সময়ে কাদিয়ানী, বেদআতীসহ অন্যান্য বাতিলপন্থি লোকদের সাথে বাহাস-মুনাযারা ও সংগ্রাম করেছেন। ১৯৮৭ সালে ভাদুঘরে বেদআতীদের মোকাবেলা করেছেন। কান্দিপাড়ায় মসজিদ বিজয় করেছেন। যা আজও ‘ফাতাহ মসজিদ’ নামে পরিচিত। ১৯৯৪ সালে নাস্তিক মুরতাদ তাসলিমার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০০১ সালে ফতোয়া বিরোধী রায় বাতিলের দাবিতে সংগ্রামে বার্ধক্য নিয়েই রাজপথে এসে দাঁড়িয়েছেন। এ আন্দোলনের সময় ৬ জন শহীদও হয়েছেন বি-বাড়িয়ায়।

এই মহামনীষী ১৩৩ বছর বয়সে ৯ সেপ্টেম্বর ২০০৬ ঈসায়ী রোজ শনিবার সকাল ৯.৩০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন। ভাদুঘর জামিয়া সিরাজীয়া মাদরাসার পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজার নামাজে জেলা ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের রাস্তা-ঘাট, বাড়িঘর, বিল্ডিয়ের ছাদে নামাজের জন্য লক্ষ মানুষের ঢল নেমেছিল।

মুফতী নূরুল্লাহ রহ.

হযরত মাওলানা মুফতী নূরুল্লাহ রাহ. ১৯৩০ খৃষ্টাব্দে নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানাধীন মধ্যনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মুনশি আবদুল আজীজ ও দাদার নাম আবদুল মজিদ। ছোটবেলায় মা ও দাদীর কাছে কুরআন শিক্ষা করেন এবং নিজ গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর ব্রাক্ষণবাড়িয়ার জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়ায় এসে ভর্তি হন। এখানে শরহে বেকায়া জামাত পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে লেখাপড়া করেন। জামিয়ার মুহতামিম ফখরে বাঙ্গাল তাজুল ইসলাম সাহেব রাহ., মুফতী রিয়াযত উল্লাহ সাহেব প্রমুখ উস্তাদদের সাথে গড়ে উঠেছিল তাঁর সুগভীর সম্পর্ক। মেধা, একনিষ্ঠা ও সুন্দর আচার-ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন।

মুফতী সাহেব রাহ. শায়খ আবদুল হক গাজীনগরী, মাওলানা আবদুর রহমান শায়খে ধুলিয়া প্রমুখ সাথীদের এক কাফেলার সাথে দারুল উলূম দেওবন্দে গমন করেন। সেখানে সুনামের সাথে লেখাপড়া করেন এবং দাওরায়ে হাদীস ও ফুনূনাত সমাপ্ত করেন। শায়খুল ইসলাম হযরত হুসাইন আহমদ মাদানী ও শায়খুল আদব ইযায আলী রাহ.-এর সাথে তাঁর গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। দেওবন্দে অবস্থানকালে মাদানী রাহ.-এর পারিবারিক মসজিদে ইমামতি করতেন। মুফতী সাহেবের পুরো জীবনের কথা-বার্তায়, আচরণ-উচ্চারণে সেই সোহবত-সাহচর্যের প্রভাব লক্ষ করা যেত। এছাড়া মাওলানা ইদ্রীস কান্দলভী রাহ., মাওলানা গোলাম রাসূল খান রাহ. প্রমুখ প্রতিভাধর আকাবিরে দেওবন্দের শিষ্যত্ব গ্রহণে ধন্য হয়েছেন। দারুল উলূম দেওবন্দে অধ্যয়নরত অবস্থায় তাঁর উস্তাদ ও মুরব্বী জামিয়া ইউনুছিয়ার মুহতামিম ফখরে বাঙ্গাল রাহ. তাকে চিঠি লিখলেন যে, ‘দেশে ফিরে তোমার কর্মস্থলের ব্যাপারে আমার সাথে কথা বলা ব্যতীত কাউকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিবে না।’

দেশে ফেরার পর থেকেই জামিয়া ইউনুছিয়ায় শিক্ষক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে অনিবার্য কারণবশত কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইমদাদিয়ায় শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দেশবরেণ্য আলেমে দ্বীন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ দা.বা. তাঁর ঐ সময়কার ছাত্র। সেখানে তাঁর একজন সঙ্গী ছিলেন শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ দা.বা.।

তিনি ফখরে বাঙ্গাল রাহ.-এর ডাকে পুনরায় জামিয়া ইউনুছিয়ায় চলে আসেন এবং উচ্চস্তরের শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পান। এখানে সুদক্ষ আসাতিযার নিবিড় তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করে চলেন। এদিকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া শহরের অতি প্রাচীন ও প্রধান জামে মসজিদের পূর্বের ইমাম মাওলানা হাবীবুর রহমান সাহেবের ইন্তিকালের পর মুফতী সাহেব হুজুর রাহ. ইমাম ও খতীব হিসাবে দায়িত্ব পান।

পরবর্তীতে ইউনুছিয়ার প্রধান মুফতী হিসাবে ফতোয়া প্রদানের গুরুদায়িত্ব তাঁরই কাধে অর্পিত হয়। বড় হুজুর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সাহেব বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ায় মাদরাসা পরিচালনার সকল দায়িত্ব অঘোষিতভাবেই হযরত মুফতী সাহেবের উপর এসে পড়ে। ২০০২ ঈ. সনে বার্ধক্য ও অসুস্থতাজনিত কারণে বড় হুজুরের প্রতিনিধি হিসেবে পূর্ণ বুখারী শরীফ পড়ানোরও দায়িত্ব পান। তারপর ১৬ ডিসেম্বর ২০০৬ ঈ. শনিবার বড় হুজুরের ইন্তিকালের পর জামিয়ার শায়খুল হাদীস ও মুহতামিমের দায়িত্ব তাঁকে গ্রহণ করতে হয়। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি এ গুরুদায়িত্ব অত্যন্ত যত্নের সাথে পালন করেছেন।

জামিয়া ইউনুছিয়ার তিনি তার জীবন জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ কুরবানী করে দিয়ে মাদরাসার উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য সচেষ্ট থাকতেন। ২০০০ সালে জামিয়ার পুরাতন মসজিদ ও শিক্ষাভবন ভেঙে অকল্পনীয় বিশাল বাজেট সামনে রেখে তা পুননির্মাণের কাজে হাত দেন। কোটি কোটি টাকার এ বাজেটকে সামনে রেখে দিবা-নিশি অক্লান্ত পরিশ্রম করে কাজ সমাপ্তির দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে গেছেন। মাদরাসাই ছিল তার বিশ্রামের স্থান। মাদরাসাই ছিল কর্মক্ষেত্র। ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল সাড়ে সাতটায় স্থানীয় হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মুফতী সাহেবের ইন্তিকালের পর তার কবর কোথায় হবে এ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। হুজুরের এলাকার লোকেরা বলল-তার কবর হবে আমাদের শিমরাইল কান্দি কবরস্থানে। এ ব্যাপারে তারা কাউকে ছাড় দিতে রাজি ছিল না। অপরদিকে অন্যরা চাচ্ছিলেন, মাদরাসার জন্য চির কুরবান মুফতী সাহেব যেন মাদরাসার পার্শ্বেই শুতে পারেন। আল্লাহ তাআলার কুদরতী ফয়সালায় অবশেষে হযরতকে মাদরাসার সুশীতল ছায়াঘেরা পরিবেশেই শোয়ানো হল।

নরসিংদীতে তার জন্ম হলেও তিনি তার পুরো জীবন কাটিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এখানেই তার বসবাস, জীবন যাপন, মৃত্য এবং দাফন। তাই তাকে মাশায়েখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালিকায় তুলে ধরা হলো।

মুফতি ফজলুল হক আমিনী রহ.

মুফতি ফজলুল হক আমিনী ছিলেন বাংলাদেশের একজন ইসলামী চিন্তাবিদ, ইসলামী আইনজ্ঞ (মুফতি) ও রাজনীতিবিদ। তিনি ১৫ নভেম্বর ১৯৪৫ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আমীনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নিজ জেলার জামেয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় প্রাথমিক ও মুন্সিগঞ্জ জেলার মোস্তফাগঞ্জ মাদরাসায় ৩ বছর পড়ালেখা করে ১৯৬১ সালে জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদ্রাসায় ভর্তি হন। এখানে তিনি হযরত মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রাহ. ও হযরত হাফেজ্জী হুজুর রহ.., কিংবদন্তী মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ রহ., শায়খুল হাদীস হযরত মাওলানা আজিজুল হক রহ., আরেফ বিল্লাহ মাওলানা সালাহ উদ্দীন রাহ. এবং হযরত মাওলানা আব্দুল মজীদ ঢাকুবী রহ. -এর বিশেষ তত্ত্বাবধানে দাওরায়ে হাদীসের সনদ লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরী রহ.-এর কাছে হাদীস পড়ার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান করাচী নিউ টাউন মাদরাসায় ভর্তি হন। সেখানে তিনি উলুমুল হাদীসের উপর পাঠ গ্রহণ করে দেশে ফিরে আসেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তার দুই ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। তিনি মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুরের জামাতা।

মুফতি আমিনী ১৯৭০ সালে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের মাদরাসা-ই-নূরিয়া তে শিক্ষকতার মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৫ সালে জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ যোগদান করেন। ১৯৮৪ সালে তিনি লালবাগ জামেয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রধান মুফতীর দয়িত্ব পান। ১৯৮৭ সালে হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ.-এর ইন্তেকালের পর থেকে তিনি লালবাগ জামেয়ার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদীসের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে পান বড়কাটারা হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও মুতাওয়াল্লির দায়িত্ব। ইন্তেকালের আগ পর্যন্তই এই দুইটি মাদরাসার প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি ঢাকার কাকরাইল, দাউদকান্দির গৌরীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু মাদরাসার প্রধান অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

আমিনী ১৯৮০-এর দশকে খেলাফত আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও তেহরিক-ই-খাতমে নবুওয়াত নামের একটি দলের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধার কাছে পরাজিত হন।

আন্দোলনে সংগ্রামে সবসময় সরব ছিলেন মুফতি আমিনি। নব্বই দশকের শুরুতে ভারতের উত্তর প্রদেশে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের প্রতিবাদে ডাকা লংমার্চের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ও প্রধান নির্বাহী ছিলেন মুফতী আমিনী রাহ.। তার শিক্ষক শায়খুল হাসীস আল্লামা আজিজুল হক রাহ. ছিলেন এ লংমার্চের আহ্বায়ক ও অভিভাবক। মুফতী আমিনী রাহ. ছিলেন এর কার্যনির্বাহী প্রধান। ১৯৯৪ সালে তিনি তসলিমা নাসরীন খেদাও আন্দোলন সংগঠিত করেন। হরতাল পালন করেন। ফলে তসলিমা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। ২০০১ সালে সব রকম ফতোয়া নিষিদ্ধ করার একটি রায় উচ্চ আদালত থেকে ঘোষিত হলে তিনি বিচারপতিকে মুরতাদ ঘোষণা করে ঝুঁকিপূর্ণ ও ঘটনাবহুল এক আন্দোলনে নেমে পড়েন। তখন চার মাসের জন্য তিনি কারাগারে নিক্ষিপ্ত হন। বর্তমান সরকার ঘোষিত শিক্ষানীতি ও নারীনীতি নিয়ে তিনি সোচ্চার প্রতিবাদ করেন।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ২০১১ সাল থেকে প্রায় ২৩ মাস আমিনীকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। গৃহবন্দী অবস্থায় ২০১২ সালের ১২ ডিসেম্বর আমিনী ঢাকার একটি হাসপাতালে ৬৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদ্রাসায় দাফন করা হয়।

মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারী রহ.

মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনসারী ছিলেন একজন বাংলাদেশি আলেম, রাজনীতিবিদ, মুফাসসির এবং প্রখ্যাত ওয়ায়েজ। তিনি ৫ জুলাই ১৯৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার আলীয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা হাজী হাবিবুর রহমান ও মাতা জাহানারা বেগম।

তিনি জিন্দাবাজার হাফিজিয়া মাদ্রাসায় হেফজ সমাপ্ত করেন। পরবর্তীতে দারুল উলুম বাহুবল মাদরাসায় ভর্তি হন। সবশেষে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি সিলেটের জামিয়া ইসলামিয়া হোসানিয়া গহরপুরে ভর্তি হন। এখানে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) সমাপ্ত করেন। গহরপুর মাদ্রাসায় অধ্যায়নকালে তিনি নূর উদ্দিন গহরপুরী কাছে বায়াত হন। এক পর্যায়ে তিনি গহরপুরী থেকে খেলাফতও লাভ করেন।

১৯৯১ সালে সরাইল উপজেলার বেড়তলা গ্রামে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা। মৃত্যু পর্যন্ত এর মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি যোগদান করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে। চার দলীয় ঐক্যজোটের অধীনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে ১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচন অংশ নেন। আমরণ তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি ছিলেন।

দীর্ঘ তিন যুগের বেশি সময় ধরে তিনি দেশ-বিদেশে ওয়াজ করেছেন। আকর্ষণীয় কোরআন তেলাওয়াত ও চমৎকার কোরআনের তাফসিরের জন্য তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।

২০১৬ সালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার গলায় ক্যান্সার ধরা পড়ে। বিভিন্ন চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও ২০১৯ সালের শেষ দিকে তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে ১৭ এপ্রিল ২০২০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আনসারী মারা যাওয়ার একদিন পর তার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। লকডাউন ভেঙে কয়েক লক্ষ মানুষ এই জানাযায় অংশগ্রহণ করে। তার এই জানাযা নিয়ে সারাদেশে বিপুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। লোক সমাগম ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় সরাইল থানার ওসি ও এএসপিকে প্রত্যাহার করা হয়। তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলার চারপাশে ১০টি গ্রাম লকডাউন করা হয়। লকডাউন শেষ হলে গ্রামের কারো শরীরে করোনার লক্ষণ দেখা যায় যায় নি।

প্রাচীন মসজিদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সাড়ে চার হাজারের বেশি মসজিদ আছে। মক্তব রয়েছে আড়াই হাজারের অধিক। এরমধ্যে প্রাচীন মসজিদগুলোর স্থাপত্যশৈলীতে পাওয়া যায়–মোঘল আমলের শৈল্পিক কারুকার্য। নিচে প্রাচীন কয়েকটি মসজিদের ইতিহাস তুলে ধরা হলো।

আরিফিল মসজিদ

আরিফিল মসজিদ বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক প্রাচীন মসজিদ। মসজিদটি সরাইল উপজেলা সদরের আরিফাইল গ্রামে সাগরদিঘীর পাশে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। স্থানীয়ভাবে এটি আইড়ল বা আড়িফাইল নামে পরিচিত।

মসজিদটি নির্মিত হয় ১৬৬২ সালে। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুসারে, দরবেশ শাহ আরিফ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন এবং তার নামানুসারে এই মসজিদের নামকরণ করা হয়।

মসজিদটির আয়তন ৮০x৩০ ফুট এবং দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট । মসজিদটির মোট প্রবেশপথ ৫ টি , এরমধ্যে তিনটি হল পূর্বদিকে এবং বাকিদুটি যথাক্রমে উত্তর ও পূর্বদিকে। মসজিদের চার কোনায় চারটি বুরুজ রয়েছে। গম্বুজ রয়েছে তিনটি । গম্বুজগুলোর নিচে মসজিদের অভ্যন্তরভাগে তিনটি বে রয়েছে যা ভিতরের অংশকে তিন ভাগে ভাগ করেছে। গম্বুজগুলোতে পদ্মফুল অঙ্কিত। মসজিদের দেয়ালের বাইরের দিকটি চারকোণা খোপ দিয়ে সজ্জিত। এটি সংরক্ষণের জন্য টাইলস ও চুনকাম করা হয়েছে। তবে পূর্বের কাঠামো এখনও টিকে আছে।

আরিফাইল মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে একটি পুকুর এবং মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে আড়িফাইল মাজার যা জোড়াকবর নামে পরিচিত এবং এলাকার এক তৃতীয়াংশ জায়গা জুড়ে অবস্থিত। মসজিদের পাশে পুকুরটি সাগরদিঘী নামে পরিচিত।

উলচাপাড়া মসজিদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আরেকটি প্রাচীন মসজিদ উলচাপাড়া জামে মসজিদ। এটি সদর উপজেলার অধীনে উলচাপাড়া গ্রামে অবস্থিত। মসজিদটিতে প্রাপ্ত শিলালিপি থেকে অনুমান করা যায় সপ্তাদশ শতাব্দীতে অর্থাৎ ১৭২৭-২৮ খ্রিষ্টাব্দে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটির প্রতিষ্ঠাতা পশ্চিম দেশীয় বনিক শাহ সৈয়দ মো: মুরাদ, যাকে মসজিদের পাশেই সমাহিত করা হয়েছে।

মসজিদটির আয়তন ৫২ ফুট (১৬ মি) X ২২ ফুট (৬.৭ মি), এবং এর দেয়াল ৪ ফুট (১.২ মি) ফুট পুরু। প্রধান গম্বুজের কেন্দ্র থেকে মসজিদের ভিতরের দেয়ালে নিচ পর্যন্ত কারুকাজ রয়েছে। ফরাসি ভাষার একটি শিলালিপি মসজিদের ভিতরে পাওয়া গিয়েছিল কিন্তু এর অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ভাদুঘর শাহী মসজিদ

ভাদুঘর শাহী মসজিদ প্রাচীন একটি মসজিদ। এই মসজিদ মুঘল শাসক মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব আলমগীর (১৬৫৮-১৭০৭) এর রাজত্বকালে ১০৮৪ হিজরি আনুমানিক ১৬৬৩ খ্রিষ্টাব্দে সে সময়কার সরাইল পরগণার জমিদার নুর এলাহী ইবনে মজলিশ শাহবাজের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়।

এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটির আয়তন ৪৪ ফুট বাই ২৪ ফুট। দেয়ালের পুরুত্ব ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। ১২ ফুট বাই ৯ ফুট পরিমিত ভিতে স্থাপিত মিনারটির উচ্চতা ৭৫ ফুট। মসজিদের অভ্যন্তরীণ কারুকার্যের মধ্যে কলসের মধ্য হতে বের হয়ে আসা একটি করে হাত প্রসারিত অবস্থায় ছিল। যা অন্য কোন মসজিদে দেখা যায়নি। মসজিদে কালো পাথরে ফারসি ভাষায় লিপি রয়েছে। যা থেকে এর ইতিহাস জানা যায়।

ভাদুঘর শাহী মসজিদের প্রথম ইমাম হিসেবে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত হন বাদশাহ আলমগীরের শিক্ষক, তাফসীরে আহমদিয়া এবং নুরুল আনোয়ার এর মত বিখ্যাত গ্রন্থসমুহের লেখক শায়খ আহমদ ইবনে আবু সাঈদ ইবনে ওবায়দুল্লাহ আল হানাফী আস সিদ্দিকী [শায়খ মোল্লাজিউন (রহ)] এর যোগ্য উত্তরসূরি মাওলানা মোল্লা নাসিরউদ্দিন (রহ)।

বর্তমানে মসজিদটির সামনে বিশাল ঈদগাহ ময়দানে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

হাটখোলা মসজিদ বা আরফান নেছার মসজিদ

সরাইলের জমিদার বাড়ির সন্নিকটে সরাইল বাজারে মসজিদটি অবস্থিত । মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে (১৬৫৮-১৭০৭) ১৬৬২খ্রি. সরাইলের দেওয়ান নূর মোহাম্মদের স্ত্রী আরফান নেছা কর্তৃক মসজিদটি নির্মিত হয় । অন্য তথ্যমতে মজলিশ শাহরাজের পুত্র নূর মোহাম্মদ কর্তৃক ১০৭৩ খ্রি. মসজিদটি নির্মিত হয় বলে জানা যায় ।

মসজিদটির আয়তন ৪৫ফুটx১৫ফুট ৬ইঞ্চি । দেয়ালের পুরুত্ব ৪ফুট ৫ইঞ্চি । মোঘল স্থাপত্যের অপূর্ব নির্দশনগুলো সংস্কারের ফলে অনেকাংশে বিনষ্ট হয়েছে ।

সরাইল শাহী জামে মসজিদ

১৬৭০ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল আমলে প্রতিষ্ঠিত। সরাইল বিকাল বাজারে অবস্থিত।

জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা মসজিদ

মসজিদটি ফরিদপুরী রহ. , হাফেজ্জী হুজুর ও হযরত আবদুল ওয়াহহাব পীরজী হুজুর রহ. এর স্মৃতিবিজড়িত। এই তিন মনীষী জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া থাকতে এখানেই নামাজ পড়তেন। ২০০০ সালে জামিয়ার পুরাতন মসজিদ পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হয়। মসজিদটি সাজানো হয় আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে।

একটি শতবর্ষী মাদ্রাসা

জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া

তিতাস বিধৌত শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রাণকেন্দ্রে ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠা লাভ কতে ঐতিহ্যবাহী “জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া। মাদরাসার বর্তমান বয়স ১০৫ বছর। মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট অত্যন্ত চমকপ্রদ। মাদরাসাটির শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থ থেকে জানা যায়, উনিশ শতকের প্রথম দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কাদিয়ানিদের প্রচারণা ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছিল। নানা কলাকৌশলে সরলমনা মুসলিম জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছাড়াচ্ছিল তারা। কিন্তু এই বিভ্রান্তি মুকাবেলায় সেখানে না ছিল কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা কোনো সমঝদার ধর্মবেত্তা। এলাকার এমনই এক ক্রান্তি লগ্নে হাজার মাইল দূরে ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজাফফরাবাদের এক মনীষী মাওলানা আবু তাহের ইউনুস রহ., একরাতে স্বপ্নযোগে বিশ্বনবী মুহাম্মদ সা. কে দেখতে পেলেন। নবিজি সা. তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়ে সেখানে হিজরত করার নির্দেশ দেন এবং বলেন সেই এলাকায় তিনি যেন একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

মাওলানা আবু তাহের ইউনুস স্বপ্নযোগে আদিষ্ট হয়ে কালবিলম্ব না করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছুটে আসেন। এখানকার স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে পরামর্শ করে বর্তমান শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে দারুল উলুম দেওবন্দের আদর্শে “বাহরুল উলুম” নামে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

মাওলানা আবু তাহের ইউনুসের ইন্তেকালের পর মাদরাসাটির দায়িত্বে আসেন ফখরে বাঙাল মাওলানা তাজুল ইসলাম রহ.। তিনি দায়িত্বগ্রহণের পর মাওলানা আবু তাহের ইউনুস রাহ. এর হিজরত এবং ত্যাগকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে মাদরাসাটির নাম “বাহরুল উলুম” পরিবর্তন করে “জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া” নামকরণ করেন। তারপর দায়িত্বগ্রহণ করেন আল্লামা সিরাজুল ইসলাম রহ. বড় হুজুর। বড় হুজুরের ইন্তিকালের পর জামিয়ার শায়খুল হাদীস ও মুহতামিমের দায়িত্ব পান মুফতি নূরুল্লাহ রহ.। তার ইন্তেকালের পর মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করছেন মুফতী মুবারকুল্লাহ দা.বা.

জামিয়া ইউনুছিয়া বিগত শতবর্ষে অনেক খ্যাতিমান আলেমের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন-১. আল্লামা হেদায়েতুল্লাহ। সাবেক প্রিন্সিপাল, জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ, ঢাকা। ২. শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ., বুখারি শরিফের বঙ্গানুবাদক। ৩. মাওলানা শেখ আব্দুল হক গাজীনগরী রহ.। ৪. মুফতিয়ে আযম, মুফতি নুরুল্লাহ রহ.। ৫. আল্লামা মুফতী ফজলুল হক আমিনী রহ.। ৬. মাওলানা মুতিউর রহমান রহ.। ৭. মাওলানা শাহ সৈয়দ মুছলেহ উদ্দিন রহ., চেয়ারম্যান, নেজামে ইসলাম পার্টি। ৮. মাওলানা মুফতী রিয়াজুতুল্লাহ রহ.। ৯. মাওলানা আলী আকবর রহ., সাবেক মুরব্বি, বাংলাদেশ তাবলীগ জামাত। ১০. মাওলানা আব্দুর রহমান রহ., শায়খে ধুলিয়া, হবিগঞ্জ। ১১. অধ্যক্ষ মাওলানা আহমাদ হাসান চৌধুরী রহ., সাবেক হেড মাওলানা, মাদরাসা-ই আলিয়া, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন