বড়কাটারা মাদরাসায় হামলাকারীদের দৃৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই -মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী

ফাতেহ২৪ ডেস্ক: জামিয়া হোসাইনিয়া আশরাফুল উলুম বড়কাটারা মাদরাসায় সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাদ্রাসার মুতাওয়াল্লী ও খেলাফতে ইসলামী বাংলাদেশের আমীর মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী। আজ রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ নিন্দা জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ১৬ জুন-২০১৮ইং শনিবার ঈদুল ফিতরের দিনগত রাত ৯টা ১২ মিনিটে মৌলভী রশিদ আহমদ- (পিতা মৃত আব্দুল ওয়াহহাব পিরজী, সাং আকন্দপাড়া, রামকৃষ্ণপুর, থানা- হোমনা, জেলা কুমিল্লা। বর্তমান সাতরওজা, জেল খানার ঢাল আব্দুল ওয়াহহাব-এর বাড়ীর ভাড়াটিয়া, বংশাল, ঢাকা)-এর নেতৃত্বে তার ছেলে শরীফ আহমদ, ইসমাঈল, ইমরান, সন্ত্রাসী মুন্না, সেকান্দার জিলানী, মোঃ হাবিবসহ অজ্ঞাত ৪০/৪৫জন সন্ত্রাসী জবর-দখলের উদ্দেশ্যে পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক বড়কাটারা মাদরাসায় প্রবেশ করে গেটের দারোয়ান আব্দুল মান্নানকে পিটিয়ে বাইরে বের করে দিয়ে ভেতরে গেটে তালা মেরে মাদরাসা দখল করে নেয়। তারা মাদরাসার মসজিদে গিয়ে প্রিন্সিপাল মুফতী সাইফুল ইসলামকে নামাযরত অবস্থায় মাথা, ঘাড় ও পিঠে আঘাত করে রক্তাক্ত করে। মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা হেমায়েতুল্লাহ, মাওলানা আজহারুল ইসলাম, ছাত্র কাউসার আহমদ, আনাছ আহমদ, ইমরান হোসাইনসহ আরো কয়েকজনকেও এলোপাথারী মারপিট করে জখম করে। হামলাকারীরা শিক্ষক-ছাত্র ও দারোয়ানের ব্যবহৃত মোট ছয়টি মোবাইল, মাদরাসার অফিস কক্ষের ক্যাশবক্সের তালা ভেঙ্গে যাকাত ফান্ডের ২০ লাখ টাকাসহ মোট ২৫ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, হামলার সাক্ষীরা পার্শ্ববতী মসজিদের মাইকে জনসাধারণকে এগিয়ে আসার আহবান জানালে এলাকার জনসাধারণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করেন। জনতার প্রতিরোধে টিকতে না পেরে পালিয়ে যাওয়ায় সময় ঘটনার মূল হোতা মৌলভী রশিদসহ আরো দু’জন হামলাকারী জনতার হাতে ধৃত হয়। জনতা তাদের মারধর করে চকবাজার থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। মাদরাসার পক্ষ থেকে মুফতী সাইফুল ইসলাম আজ চকবাজার থানায় মৌলভী রশিত আহমদকে প্রধান আসামী করে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আশা করি প্রশাসন দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী বলেন, ভারত সরকার পবিত্র রমজানে কাস্মীরে অভিযান বন্ধ রেখেছে, পবিত্র ঈদের দিনে আফগানিস্তানের তালেবান যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করে আফগান সরকারের সাধুবাদ পেয়েছে। কিন্তু মৌলভী রশিদ আহমদ গং পবিত্র ঈদের দিন মাদরাসায় হামলা চালিয়ে একটি কলঙ্কের জন্ম দিল। আমি এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। হামলাকারীদের দৃৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। হামলার আহত মুফতী সাইফুল ইসলাম, মাওলানা আজহারুল ইসলামসহ আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।