মাদরাসার হেফজখানায় রহস্যজনক অগুন, পুড়ে ছাই গোডাউন

ফাতেহ ডেস্ক:

রাজবাড়ী শহরের দারুল উলুম ভাজনচালা দাওরায়ে হাদিস মাদরাসার হেফজখানায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) ভোর ৪টার দিকে ওই হেফজেখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, হেফজখানায় রাতে ছাত্ররা থাকেন। এছাড়া এর পাশের গোডাউনে রাখা ছিল মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের খাবারের চাল, ডাল, লবনসহ অন্যান্য জিনিস। হঠাৎ ভোরে হেফজখানার পাশের পাঠকাঠিতে আগুন দেখা যায়। তারপর গোডাউনে আগুন জ্বলে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে হেফজখানায়ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছাত্ররা কোনোরকমে বাইরে আসলেও পুড়ে যায় ভেতরে থাকা সকল জিনিসপত্র। তবে ঘরে থাকা কুরআন শরীফের উপরের অংশ পুড়লেও ভেতরে কোনো ক্ষতি হয়নি।

এদিকে হেফজখানার সঙ্গের রান্নাঘরে বড় চারটি গ্যাস সিলিন্ডার থাকলেও কোনো ক্ষতি হয়নি। ফলে আগুন নিজে থেকেই লেগেছে, নাকি লাগানো হয়েছে- এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে ছাত্র ও শিক্ষকদের মাঝে। এছাড়া রান্নাঘরে আগুনের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।

মাদরাসার ছাত্র শরিফুল ইসলাম বলেন, হেফজখানায় তারা প্রায় ৪০ জন রাতে পড়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ ভোরে ঘুম ভাঙলে দেখতে পান আগুন লেগেছে। সেসময় চিৎকার করে বাইরে চলে আসেন। পরে মুহূর্তের মধ্যে সব পুড়ে যায়।

মাদরাসার শিক্ষক মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, প্রথমে পাটকাঠিতে আগুন দেখা গেলে তা নেভানোর চেষ্টা চলে। কিন্তু অন্যপাশে গোডাউনেও হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে। পরিকল্পিতভাবে এ আগুন লাগানো হয়েছে।

মাদরাসার অধ্যক্ষ ইলিয়াছ মোল্লা জানান, আগুনে হেফজখানার আসবাবপত্র, কিতাবসহ অন্যান্য বই পুড়েগিয়েছে। এছাড়া গোডাউনে থাকা চাল, ডাল, তেল পুড়ে গিয়েছে। সব মিলে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা রান্নার চুলা থেকে আগুন লাগার কোনো চিহ্ন খুঁজে পাচ্ছি না। নাকি অন্য কোনো কারণে আগুন লেগেছে তাও বুঝতে পারছি না।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, আগুন লাগার সংবাদে ঘটনাস্থলে এসে এক ঘণ্টা ২৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় কোনো হতাহত নেই। তবে ঘর ও গোডাউনে থাকা সব পুড়ে গেছে। মাদরাসার শিক্ষক ও স্থানীয়দের থেকে জানা গেছে রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন