মাদরাসায় বই পড়া

মাহমুদুল হাসান

মাদরাসাজীবনের প্রথম বইপড়ার স্মৃতি আমার সুখকর নয়। আমাকে যে ছেলেটি বই পড়তে দিয়েছিল তাকে এক মিনিটের মধ্যেই বহিষ্কার করা হয়। ঘটনাটা খুলে বলি। ২০০৩ সালের শীতকাল। কুষ্টিয়া থেকে সবেমাত্র আগের দিন সন্ধ্যায় আমি এসেছি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের একটি মাদরাসায়। দুপুরবেলায় খাওয়ার পরে ক্লাসে বসেছি সবার পেছনে। আমার ঠিক বাম পাশেই চাদর-মুড়ি দিয়ে বসা ছেলেটি একটি বই পড়ছিল। ক্ষুদ্র আকৃতির ধুসর বইটি দেখে আমার পরিচিত লাগল। কুষ্টিয়ায় থাকতে এই ধরনের বই আমি আগেও পড়েছি। সেগুলো সব তিন গোয়েন্দা। খানিক বাদে ছেলেটি বইটি টেবিলের ওপর রেখে ওয়াশরুমে গেলে আমি কৌতূহলী হাতে ওটা নিয়ে পাতা নেড়েচেড়ে দেখতে থাকি। মাসুদ রানা সিরিজের একটি সংখ্যা।

তখনও মাসুদ রানা সিরিজের সাথে আমার পরিচয় হয় নাই। তবে মাসুদ রানা নামে হিফজখানার এক বন্ধুকে কয়েকবার বলতে শুনেছি যে তার নামে বাংলাদেশে কী একটা বইয়ের নাম আছে। তখন অতকিছু জানতাম না। আরও পরে এসে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য লেখা গোয়েন্দা সিরিজ মাসুদ রানা পড়া শুরু করি। যদিও মাসুদ রানা সিরিজ আমাকে খুব একটা টানেনি।, কয়েকটা পড়ার পরই বাদ দিয়েছি। সময় নিয়ে এত ঢাউস সাইজের বানানো কাহিনি পড়ার মানে হয় না। যে গল্প ৫০ পাতায় শেষ করে দেয়া যায় সেটা আড়াইশ পাতার দীর্ঘ কলেবরে বানিয়ে বানিয়ে বর্ণনা করা সময় নষ্ট বৈ কী!

যাই হোক, ফাও প্যাঁচাল বাদ দিয়ে কাজের কথায় আসি। ছেলেটির রেখে যাওয়া বই আমি যখন দেখছিলাম তখন সন্তর্পণে আমার পেছনে এসে দাঁড়ান মাদরাসার একজন শিক্ষক। যিনি নাজেমে তালিমাত বা শিক্ষা বিষয়ক তত্ত্বাবধায়ক। বইটি আমার হাত থেকে খপ করে নিয়ে তিনি চলে যান অফিসে। আমি ভয়ে তটস্থ। বুক ধুকপুক করছে–যদি আমাকে মারধোর করা হয়! কত আশা নিয়ে ঢাকা এসেছি পড়তে, এখন আমাকে মাদরাসা থেকে বের করে দিলে আমার সব আশা-আকাঙ্ক্ষা খতম।

ক্লাসের সবাই আমার দিকে তাকাচ্ছে। আমি কারও দিকে তাকাতে পারছি না, লজ্জায়। আমি ক্লাসে নবাগত। কাউকে চিনি না। কিছুক্ষণ পরে আমার এলো মাদরাসার অফিস থেকে। অফিসে আমাকে জিজ্ঞেস করা হলো আমি বইটি কোথায় পেয়েছি। আমি সব বললাম। ক্লাসে ফিরে আশংকিত দুরু দুরু বুকে বসে থাকলাম। মাথার ভেতর গোটা বিশ্বচরাচর ভনভন করে ঘুরছে। একটু পরেই ক্লাস শুরু হবে। বড়হুজুর ক্লাসে ঢুকেই আমাকে ও আমার পাশের মাসুদ রানা-পড়া ছেলেটিকে দাঁড় করালেন। আমাদের দুজনের চোখে চোখ রেখে বরফশীতল চোখে তাকিয়ে থাকলেন কিছু সময়। আমাকে বসতে বললেন। পাশের ছেলেটি দাঁড়িয়েই থাকল। বড়হুজুর তার পরিচয় জিজ্ঞেস করে জেনে নিলেন। তারপর বজ্রমেঘের স্বরে বললেন, ‘তোমাকে এক্ষুণি মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করা হলো।’ গোটা ক্লাসে পিনপতন নীরবতা। আমি ভয়ে ঠক ঠক করে কাঁপছিলাম।

কামরাঙ্গীরচরের এই মাদরাসায় এই ঘটনার পরে আমি আরও পাঁচ বছর পড়েছিলাম। ওই পাঁচ বছরে বেশ কয়েকবার শিক্ষক কর্তৃক আমার কাছ থেকে বই জব্দ করা হয়েছে। এর কিছু ফেরত পেয়েছি, কিছু আর পাইনি। কোনো শিক্ষকই সাগ্রহে জব্দকৃত বইগুলি ফেরত দিতেন না। ফলে, আমরা তাদের অজান্তেই তাদের কামরা থেকে বইগুলি সরিয়ে ফেলতাম।

এই মাদরাসায় মাওলানা আবু তাহের মিছবাহর কাছে টানা পাঁচ বছর আমি আরবি ভাষা ও সাহিত্য পড়ি। মাওলানা মিছবাহ সাহেব আরবি সাহিত্যের বোদ্ধা পণ্ডিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলায়ও সমধিক সিদ্ধহস্ত। এমনকি তাঁর সিংহভাগ মৌলিক রচনা বাংলায় লেখা। এইযে এখনকার মাদরাসার তালেবে ইলমরা বাংলা সাহিত্যের বই পড়ে, বাংলায় লেখালেখি করে এবং বাংলা একাডেমির বইমেলায় গিয়ে প্রচুর বই কেনে, আমি মনে করি, এটা অভূতপূর্ব এক বিপ্লব কওমি মাদরাসার পরিমণ্ডলে, এটা ওই মিছবাহ সাহেবেরই অবদান।

বাংলাদেশের মাদরাসার ইতিহাসে, বলা যায়, তারই একক প্রচেষ্টা ও সাধনার ফলে মাদরাসাগুলো আজ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি উৎসাহী ও অনসন্ধিৎসু হয়ে উঠেছে। মাওলানা মিছবাহ সাহেব নিজেও প্রচুর লিখেছেন। মাদরাসার ছাত্রদের বাংলায় লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ করতে তাঁর নিজের সম্পাদনায় পুষ্প নামের একটা মাসিক পত্রিকাও বের হতো। যার লেখক-পাঠক ছিল মাদরাসা-পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা। মনে পড়ে, আমাদের এক বড়ভাই হুমায়ুন আজাদকে পুষ্পের কয়েক কিস্তি দিয়েছিলেন পড়তে। ধর্ম, মাদরাসা ও ইসলাম নিয়ে হুমায়ুন আজাদের অনাগ্রহ, অজ্ঞতা, অবহেলা ও নাক সিঁটকানো ভাব থাকলেও তিনি পুষ্পের বেশ প্রসংশা করেছিলেন। তবে, মাওলানা মিছবাহ নিজে বাংলায় লেখালেখি করলেও এবং বাংলার প্রতি ছাত্রদের অনুপ্রাণিত করলেও কেন তাঁর মাদরাসায়ই ছাত্রদের কাছ থেকে বাংলা বই জব্দ করা হতো সেটা নিয়ে একটু বলি।

আসলে মিছবাহ সাহেব চাইতেন তালেবে ইলমরা যেন সব ধরনের বই না পড়ে। অন্তত একট নির্দিষ্ট বয়সসীমা পর্যন্ত। কারণ, তাঁর ব্যাখ্যায়, অল্প বয়সে মাদরাসার ছাত্ররা নির্বিচারে বই পড়ে গেলে মাথা বিগড়ে যেতে পারে। মাদরাসায় পড়ার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হতে পারে। এজন্য তিনি চাইতেন ছাত্ররা যেন বাছাই করে বই পড়ে। বয়স ও রুচি অনুযায়ী তাদের পাঠাভ্যাস আগাবে। লঘু মগজে গুরু বই পড়লে হয়তো অল্পবয়সীরা ইচড়ে পাকা হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া, মাদরাসা, ইসলাম ও আল্লাহ সম্পর্কে সেসব সেকুলারদের কোনো বোধবিবেচনা নাই, তাদের লেখা পড়লে গোমরাহ ও পথভ্রান্ত হতে যেতে পারে। কওমি মাদরাসা ও ইসলামের মূল চিন্তাচেতনা থেকে বিচ্যুতি ঘটতে পারে।

মাওলানা মিছবাহ বলতেন, সব লেখায় ’নুর’ থাকে না। যেসব লেখায় ’ইলমের নুর’ থাকে সেসব লেখা পড়ো। পাশাপাশি তিনি এ প্রশ্নও তুলে দিতেন যে, ইলমের নুর খোঁজার জন্য যদি তুমি শুধুমাত্র ইসলামিস্টদের লেখা পড়ো তাহলে আর সাহিত্য শিখতে পারবা না। কারণ, ইসলামিস্টদের মধ্যে গুণী, মানসম্মত ও বাংলা ভাষায় দখল আছে এমন কোনো লেখক নাই। ফলে, একধরনের উভসংকটে পড়ে যেতাম আমরা ছাত্ররা। বাংলা সাহিত্য জানতে ও পড়তে যাদের লেখা পড়া উচিৎ তারা ননইসলামিস্ট। তাদের লেখায় ’নুর’ নাই। আবার ’নুর’ আছে দেখে ইসলামিস্টদের লেখা পড়তে হবে। অথচ তাদের লেখালেখির মান খুবই নিম্নমানের। তাঁরা কেউই বাংলা ভাষার বিদগ্ধজন নন।
কিন্তু একবার যে বাংলা সাহিত্যের বিপুল সম্ভার ও ধনরন্তের খোঁজ পেয়েছে তাকে কি আর বয়সের সীমারেখার অজুহাত দেখিয়ে আবদ্ধ রাখা যায়? মোটেও না। দিনশেষে টিএসসির সন্ধ্যায় বসে বসে দেখি বইমেলা থেকে মাদরাসার ছাত্ররা দুহাত ভরে থোকায় থোকায় বই কিনে বের হচ্ছে। মাদরাসার ছাত্রদের বইমেলার স্টলে স্টলে ঘুরতে দেখলে মনে হয় থোকায় থোকায় জোনাকি জ্বলছে। মনে মনে ভাবি, আমিও একসময় বইমেলায় আসতাম লুকিয়ে লুকিয়ে, মাদরাসা ফাঁকি দিয়ে।

মাদরাসায় থাকতেই আমি মোটামুটি বাংলা ভাষার সব ক্লাসিক বই পড়ে ফেলি। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর তেমন আর পড়া হয় না। আগে যা কিছু পড়েছি সেই বিদ্যাই এখনও বিতরণ করে বা বেচেকিনে খাচ্ছি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতদের কাছে একটা পণ্ডিতি আউটলুক নিয়ে টিকে আছি।

রবীন্দ্রনাথের গীতবিতান জালালাইনের বছর অনেকখানি পড়েছিলাম। অডিও গানের সাথে ঢাউস সাইজের গীতবিতান খুলে লিরিক মিলিয়ে নিতাম। মানিকের পুতুল নাচের ইতিকথাও ওই বছর পড়ি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের লাইব্রেরি থেকে নেয়া সুনীলের পূর্ব-পশ্চিম পড়তে গিয়ে এক হুজুরের কাছে ধরা খাই। হিন্দু লেখকের বই পড়ছি দেখে তিনি তিরষ্কার করলেন। আরেক হুজুর জাফর ইকবালের উপন্যাস সমগ্রের কোনো এক খণ্ড বাজপাখির মত ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে গিয়ে বেশ কয়েকদিন বাসায় আটকে রাখলেন। বইটা বেশ দামি ও স্বাস্থ্যবতী হওয়ায় হুজুরের মেয়েকে পড়াতে যাওয়া এক বন্ধুর সাহায্যে বাসা থেকে সেই বই উদ্ধার করি।

আল মাহমুদের সোনালি কাবিনের প্রায় কবিতা, পানকৌড়ির রক্ত ও জলবেশ্যা গল্প আমরা কয়েক বন্ধু একাধিকবার পড়ে মুখস্ত করে ফেলেছিলাম। সৈয়দ শামসুল হকের মার্জিনে মন্তব্য বইটা পড়ে যারপরনাই আপ্লুত হই। কেমন যেন চোখের সামনে আঁধারের পর্দা সরে গিয়ে লেখালেখির সবুজ দিগন্ত উন্মোচিত হয়ে গেল। দিগন্তভরা আঁকাবাঁকা প্রসারিত নদী, আরণ্যক বনভূমি, সীমানাহীন পর্বতরাজি আর নীল তরঙ্গের সমুদ্র।

আমি পড়তাম কামরাঙ্গীরচরের মাদরাসায়, কিন্তু মেম্বার হয়েছিলাম বাংলামোটরে অবস্থিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের লাইব্রেরিতে। সপ্তায় একদিন সাইকেল চালিয়ে অতদূর পথ অতিক্রম করে বই নিয়ে আসতাম মাদরাসায়। সেই বই আবার লুকিয়ে পড়তে হতো। কারণ, কোনো শিক্ষক দেখে ফেললে জব্দ করে নিয়ে যেতে পারে। ফেরত পাবার সম্ভাবনাও ক্ষীণ।

সেই একযুগেরও অধিক সময় আগে যখন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে যেতাম তখন ক্যাম্পাসের ছেলেমেয়েদের দেখে ভাবতাম এরা সবাই মহাজ্ঞানী প্লেটো বা সক্রেটিস গোত্রের কেউ। এদের মুখ জ্ঞানের প্রতিচ্ছবি। মস্তিষ্কে সূর্যের দেদীপ্যমান প্রখরতা অজানাকে জানার। বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা–দুটো ধারায় পড়ার ফলে এটুকু বুঝেছি, এই দুই শিক্ষাব্যবস্থার উৎপত্তি ও উদ্দেশ্যের ভেতর বিস্তর ফারাক আছে। দুই ধারার মানসিকতা ও রাজনীতি অভিন্ন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষাকাঠামোর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দুনিয়ার বুকে বউ-বাচ্চা-পরিবার পালনের জন্য মোটা অংকের মাইনের চাকরি নিয়ে একটা বেটার লাইভ লিভ করা।

আর মাদরাসা-শিক্ষার গোড়ার তত্ত্বই হচ্ছে দুনিয়াতে কেবলমাত্র জরুরত ও একান্ত দরকারি কাজের বাইরে কোনো কাজ না করা। দুনিয়াবি কর্মকাণ্ড ঠিক ততটুকুই দরকারি, যতটুকু না করলে আখেরাতের পথ সুগম হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে, মাদরাসা থেকে শিক্ষিত মানুষরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আর কোনো কাঠামোর সাথে খাপ খাওয়াতে পারে নাই। না রাজনীতি। না চাবরিবাকরি। না ব্যবসাবাণিজ্য। যিনি নিজেকে ইসলামিস্ট ভাবছেন তিনি আরেকজনের কাছে; যিনি কট্টর ননইসলামিস্ট বা আধা ইসলামিস্ট; তার কাছে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা কতটুকু জায়েজ ও বিধিসম্মত সেই তর্ক উঠতে পারে। কারণ, ইসলামের অন্তর্নিহিত দাবি এইযে, যতক্ষণ পর্যন্ত দেহে নিঃশ্বাস চলাচল থাকবে ততক্ষণ ইসলামের পথে অন্যকে দাওয়াত দেওয়া। এসব নিয়ে আরেকটা লেখা বানানো আশা করছি। আজ শুধু প্রশ্ন তুলে রাখলাম।

স্বাধীনতার এত বছর পরেও কওমি মাদরাসায় বাংলা ভাষার প্রবেশ বিলম্বিত হলো কেন এবং নিজের মুখের ভাষা বাংলার বদলে আরবি-উর্দু-ফারসি ভাষাকে নুর ও ইলমের আধার মনে করার কারণ কী, এইসব নিয়ে এত ছোট পরিসরে আলোচনা ভাসা ভাসা থেকে যাবে। তাই ঐতিহাসিকভাবে বাংলা ভাষার প্রতি মাদরাসাওয়ালাদের অবহেলা এবং বাংলাকে অমুসলমানের জবান মনে করার ধর্মতত্ত্বীয় কিছু কারণ আছে। কারণ ৪৭-এ ভারত-পাকিস্তান ভাগের পর মুসলমানরা নিজেদের জন্য আলাদা ভূখণ্ড পায়।

আওয়ামী মুসলিম লীগের বাইরে এক শ্রেণির মুসলমান তখন পাকিস্তানকে ধর্মরাষ্ট্র ভেবে সুখ পেত। অথচ জিন্নাহ ও গান্ধি দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পর যখন হিন্দু ও মুসলমান দুই জাতিকে এক করতে ব্যর্থ হলেন তখনই তারা রাজনৈতিকভাবে দুটো স্বতন্ত্র রাষ্ট্র কায়েম করলেন। মুম্বাইয়ের খোজা গোত্রের শিয়া মতাবলম্বী জিন্নাহ যেমন ইসলামিস্ট নন; নিজেকে তিনি মুসলমানদের ধর্মীয় অবতার বা ইমামও দাবি করেন নাই; তেমনি গান্ধিও হিন্দুদের কোনো ধর্মীয় নেতা ছিলেন না। এই দুই নেতা শুধু চেয়েছিলেন দুটো সম্প্রদায়ের জন্য নিজস্ব রাজনৈতিক ভূখণ্ড। সেই ভূখণ্ড যে ধর্মীয় রাষ্ট্র হবে এই কথা ইতিহাসের কোথাও লেখা নাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীতেও জাতি হিসেবে মুসলমানদের জন্য আলাদা ভৌগলিক পরিচয় ও রাষ্ট্রগঠনের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের ইতিহাস দুর্দান্তভাবে বর্ণিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু একবারও বলেন নাই যে পাকিস্তান আন্দোলন ছিল কোন ধর্মীয় আন্দোলন।

বাংলাদেশের ইসলামপন্থিরা, বিশেষ করে কওমি মাদরাসার জনগোষ্ঠী, পাকিস্তান আন্দোলনকে ধর্মীয় আন্দোলন ভেবেই ঐতিহাসিকভাবে ভুলটা করেছে। বাংলা ভাষাকে অবহেলা করে গেছে বছরের পর বছর। আর ফার্সি-উর্দুকে ভেবেছে কুরআন-হাদিসের ভাষা। দেখা যাচ্ছে, এই সমস্যা আসলে এখনকার না। ভুলভাবে মুসলমানীয় আবেগ দিয়ে রাজনীতি পাঠের ফলাফল এটা। ক্ষতটা অনেক পুরোনো। আরেকদিন এইসব নিয়ে আলাপ করব।