মোঘল স্থাপত্যকলার অনুপম নিদর্শন শেরপুরের লস্কর খান মসজিদ

ফাতেহ ডেস্ক :

মোঘল স্থাপত্যকলার অনুপম নিদর্শন ঐতিহ্যবাহী লস্কর খান মসজিদ। শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতির ঘাগড়া লস্কর গ্রামে মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদটির বয়স প্রায় সোয়া ২০০ বছর। প্রাচীন এই মসজিদ ‘ঘাগড়া লস্কর খান মসজিদ’ হিসেবেই পরিচিতি।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুসারে এবং মসজিদের গায়ে বর্তমানে যেসব নির্দশন রয়েছে সে হিসেবে ধারনা করা হয়, মসজিদটি নির্মিত হয়েছে মোঘল আমলে; বক্সার বিদ্রোহীদের নেতা হিরোঙ্গি খাঁর বিদ্রোহের সময়। মসজিদটি ৫৮ শতক জায়গার উপর নির্মিত। মসজিদটির মূল ভবন ও বারান্দা রয়েছে ১৭ শতকের উপর। আর ৪১ শতক জমিতে রয়েছে গ্রাম্য কবরস্থান। জানা গেছে, তৎকালীন খান বাড়ীর লোকজনসহ গ্রামের অন্যরা জায়গাটি ওয়াকফ করে।

মসজিদটির দরজার উপর প্রতিষ্ঠাকাল উল্লেখ রয়েছে। খোদাইকৃত একটি মূল্যবান কষ্টি পাথরে আরবি ভাষায় এর প্রতিষ্ঠাকাল উল্লেখ করা হয়েছে। লেখা আছে- হিজরি ১২২৮ বা ইংরেজি ১৮০৮ সন।

শৈল্পিক সৌন্দর্য ও চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর মিশেলে মসজিদটির অবকাঠামো নির্মিত। মসজিদের ভেতরে রয়েছে দুইটি সুদৃঢ় খিলান-স্তম্ভ। মসজিদটি এক গম্বুজবিশিষ্ট এবং দৈর্ঘ্য-প্রস্থ সমান। ৩০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ফুট প্রস্থবিশিষ্ট।

মসজিদের বড় ও একমাত্র গম্বুজটির চারপাশ ঘিরে ছোট-বড় দশটি মিনার রয়েছে। চারকোণায় রয়েছে চারটি। মসজিদে দরজা মাত্র একটি হলেও জানা রয়েছে দুইটি। একটি উত্তর দিকে, অন্যটি দক্ষিণে।

মসজিদের অভ্যন্তরের দেয়ালে রয়েছে বিভিন্ন কারুকাজের ফুল-ফুলদানী। মেহরাবেও অঙ্কিত রয়েছে শৈল্পিকতায় মোড়ানো পাতা-গুল্ম।

মসজিদের ভিতর ইমাম বাদে তিনটি কাতারে ১০ জন করে মোট ৩০ জন মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন; বিশাল চত্তরের মত বারান্দায় প্রায় ১০০ জন নামাজ আদায় করতে পারেন।

সামান্য দূর ও বাইরে থেকে মসজিদটিকে বিশালাকৃতির মনে হয়। ১৫ বছর আগে অত্যন্ত নিখুঁত ও মনোমুগ্ধকর এই মসজিদটির দায়িত্ব নেয় জাতীয় জাদুঘরের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা মসজিদটি পরিদর্শনে আসেন।