রোহিঙ্গা স্থানান্তর আগামী সপ্তাহে শুরু

ফাতেহ ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর অব্যাহত চাপ ও বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও অবশেষে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ প্রথম দফায় তাদের একটি দলকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পর্যায়ক্রমে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হবে। আর সেই সিদ্ধান্তে অটল সরকার। অন্যদিকে, রোহিঙ্গারা এটা বুঝতে পেরেছে যে, সহসাই তাদের মিয়ানমারে ফেরা হচ্ছে না। তাই কক্সবাজারের জনাকীর্ণ পরিবেশ থেকে নতুন চরে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চায় রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়া এই মানুষগুলো। এ সংখ্যাটা ক্রমশ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে শরণার্থী শিবিরে সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরপর থেকেই দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করে। এতদিন বিভিন্ন বিদেশি গোষ্ঠীর মদদে শিবিরগুলোতে ভাসানচরবিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল একটি চক্র। তবে সেটা এখন ঝিমিয়ে পড়েছে। আর তাতেই অন্য রোহিঙ্গারা সেখানে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করছে এবং নিজেদের নাম রেজিস্টার করছে।

এ বিষয়ে উখিয়ার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, বিদেশি গোষ্ঠীগুলো কেবল নিজেদের সুযোগ-সুবিধার জন্যই ভাসানচরবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছিল। নয়তো অনেক আগেই রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা যেত। অবশ্য সরকারকে আন্তর্জাতিক চাপ এড়িয়েই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে।

ভাসানচর দেখে আসা এনজিও পালস-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম কলিম বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ভাসানচরবিরোধী যে প্রচারণা চালানো হচ্ছিল, তা পরিকল্পিত মিথ্যাচার। আমি নিজেও এতদিন এগুলোতে বিশ্বাস করতাম। কিন্তু স্বচক্ষে ভাসানচর দেখে আসার পর আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে। সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য সেখানে চমৎকার পরিবেশ তৈরি করেছে এবং ভাসানচরে অনেক দেশীয় এনজিও রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হবে বলে বিশ্বাস করি।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) এবং সরকারের অতিরিক্ত সচিব শাহ রেজোয়ান হায়াত বলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের প্রথম দফায় স্থানান্তরের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ না হলেও আগামী সপ্তাহ নাগাদ প্রথম দলটি পাঠানোর যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন