লালখান বাজারের পরীক্ষা স্থগিত-বিতর্ক, আগেই সতর্ক করেছিল হাইআ-কর্তৃপক্ষ

রাগিব রব্বানি

সম্মিলিত কওমি শিক্ষাবোর্ড হাইআতুল উলইয়া কর্তৃক চট্টগ্রামের লালখান বাজার মাদরাসার তাকমিল জামাতের পরীক্ষা স্থগিত করা নিয়ে গতকাল থেকেই কওমি অঙ্গনে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন মাদরাসার মুহতামিমের ভুলের কারণে ছাত্রদের পরীক্ষা স্থগিত করা হবে কেন? আবার কেউ বলছেন, তাদেরকে আগাম সতর্ক না করে হুট করেই কেন এত কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? অনেকে আবার সমর্থন করছেন।

ছাত্রদের পরীক্ষা স্থগিত প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন হাইআতের অন্যতম সদস্য ও বেফাক-মহাসচিব আল্লামা আবদুল কুদ্দুস। আজ গণমাধ্যমের করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছেন, লালখান বাজারের পরীক্ষা স্থগিতের মানে এই নয় যে, সেখানকার ছাত্ররা পরীক্ষা দিতে পারবে না। আমরা কেবল লালখান বাজারের কেন্দ্র স্থগিত করেছি, ছাত্ররা অন্য কোনো কেন্দ্র থেকে যথামাফিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

লালখান বাজারকে আগাম সতর্ক করা প্রশ্নে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর কথা বলেছে হাইআতুল উলয়ার সদস্য ও বেফাকের সহসভাপতি হাফিজ মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজুর সঙ্গে। তিনি বলেন, গেল বিশ্ব ইজতেমার আগে বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক থেকে বোর্ডের অধীন প্রতিটা মাদরাসাকে কড়াভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, কোনো মাদরাসা-প্রধান বা কর্তৃপক্ষ সাদ কান্ধলভির পক্ষাবলম্বন করলে বোর্ডের সর্বোচ্চ আইন অনুযায়ী তাদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। লালখান বাজার-সহ বোর্ডের অধীন দেশের সকল মাদরাসাকেই এ ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। তাহলে এখন কেন আগাম সতর্কতার প্রশ্ন আসে?

কিন্তু লালখান বাজার মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তো বারবার বলে আসছে যে মুফতি ইজহারের বক্তব্য একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত, এর সঙ্গে মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট এমনকি তাঁর পরিবারের কারোরও সম্পর্ক নেই। বরং মাদরাসা-কর্তৃপক্ষ সবসময় হকপন্থী জমহুর উলামায়ে কেরামের পক্ষে এবং সাদ কান্ধলভি বিষয়ে তাঁদের সমস্ত সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত আছেন, তারপরও কেন মাদরাসার ওপর এই বিধি-নিষেধ আরোপিত হলো?

এমন প্রশ্নের জবাবে মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু বলেন, দেখুন, বোর্ডের বিধিবদ্ধ নিয়ম-কানুন আছে, মাদরাসা-কর্তৃপক্ষ যেহেতু তাঁদের মুহতামিমের সঙ্গে একমত না, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী তো এ ব্যাপারে বোর্ডকে অফিসিয়ালি জানানোর কথা এবং বোর্ডের সঙ্গে একটা বোঝাপড়া করে নেওয়ার কথা, যেহেতু এই ইস্যুতে বোর্ড কর্তৃপক্ষ ইতিপূর্বে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। কিন্তু অফিসিয়ালিভাবে বোর্ডকে এ বিষয়ে তারা কোনোকিছু জানাননি। আর বোর্ড তো মাদরাসার কর্তৃপক্ষকে দেখবে না, দেখবে এর মুহতামিমকে। বোর্ডের কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মুহতামিম কোনো খামখেয়ালি কিংবা ঔদ্ধত্য দেখালে বোর্ড তো তাঁর সাধ্যানুযায়ী ব্যবস্থা নেবেই।

ফরিদাবাদ মাদরাসায় হাইআতুল উলয়ার গতকালের বৈঠকে বিশেষ কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপের প্রভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু বলেন, এমনটা যাঁরা ছড়াচ্ছেন, না জেনেই ছড়াচ্ছেন। গতকালের বৈঠকে হাইআতুল উলয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন এবং সবার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি অনুযায়ীই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু আরও বলেন, ব্যাপারটাকে অযথাই বড় করে দেখা হচ্ছে। আসলে এটা বোর্ডের খুব স্বাভাবিক এবং নিয়মতান্ত্রিক একটা সিদ্ধান্ত। এর আগেও কয়েকটি মাদরাসার ব্যাপারে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পরে তারা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করেছে। বোর্ডও আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। লালখান বাজার মাদরাসাও যদি তাঁদের মুহতামিমের সমন্বয়ে এভাবে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করে নেয় বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাহলে তাদের বেলায়ও তো এমনটাই হবে। বোর্ড তাদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেবে। এখানে এত মাতামাতি আর আলোচনা-সমালোচনার তো কোনো প্রয়োজন নেই!