সরকারি হিসাবেই ভারতে প্রতি ১৫ মিনিটে একটি করে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সম্প্রতি প্রকাশিত ভারতের সরকারি এক তথ্যমতে দেশটিতে গড়ে প্রতি ১৫ মিনিটে একটি ধর্ষণ হচ্ছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি) ২০১৮ সালের যে তথ্য প্রকাশ করেছে, সেখানে দেশের অপরাধের এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

এনসিআরবির তথ্য সাধারণত দুই বছর পর পর প্রকাশ করা হয়। নরেন্দ্র মোদি সরকারের অধীনে এই তথ্য প্রকাশ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিলম্বিত করা হয়েছে এবং এর কিছু অংশ এখনও অপ্রকাশ্য রয়েছে। তবে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের যে চিত্র উঠে এসেছে, সেখানে ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ এর মতো সরকারি প্রচারণা সত্বেও ২০১৮ সালে প্রতি ১ লক্ষ নারীর মধ্যে অপরাধের হার ৫৮.৮ শতাংশ হয়ে গেছে, যেটা ২০১৭ সালে ছিল ৫৭.৯%।

দিল্লীতে সাম্প্রতিক এক গণধর্ষণ মামলার রায় দেয়া হয়েছে সাত বছর বিরতির পর।

২০১২ সালে দিল্লী-ভিত্তিক এক নারী জয়তি সিংয়ের ঘটনা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেয়, মিডিয়া যাকে নির্ভয়া আখ্যা দিয়েছিল। একদল পুরুষ তাকে অপহরণ করে চলমান বাসে গণধর্ষণ করে। তারা তাকে বাস থেকে ফেলে দেয়ার আগে তার শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গও কেটে দেয়।

ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হতে শুরু করার পর, পুরো দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় ভারতের ধর্ষণ আইনে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। যেখানে এই আশা করা হয়েছে যে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি দেয়া হলে নারীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন কমে আসবে।

কিন্তু তার মামলাটির ভারতের বিচার বিভাগের প্রক্রিয়া পার হতে সাত বছর লেগে গেছে।

২০১৩ সালে ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট পাস হয়, যেখানে এসিড হামলাসহ যৌথ অপরাধগুলো অপরাধ সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং ধর্ষণের জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং উগ্র ধর্ষণের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

সাবেক প্রধান বিচারপতি জে এস ভার্মার নেতৃত্বে এ জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির রিপোর্টে সরকার ও দিল্লী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যার্থতার উল্লেখ করা হয়।

কেন্দ্রীয় সরকার একই সাথে ২০১৩ সালে একটি বিশেষ নির্ভয়া তহবিল গঠন করে, যাতে হামলার শিকার নারীদেরকে সাহায্য করা যায় এবং নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানো যায়। কিন্তু এ সব কোন পদক্ষেপ দিয়েই ধর্ষণের সংখ্যা কমিয়ে আনা যায়নি।