সৌদির আলেম আল-আওদার মৃত্যুদণ্ডের সুপারিশ, শুনানি স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেম শেখ সালমান আল-আওদার বিরুদ্ধে শুনানি আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তাকে শিরোশ্ছেদের সাজা দেয়া হতে পারে এমন উদ্বেগের মধ্যেই রোববার তার ছেলে আবদুল্লাহ আল-আওদা এ খবর দিলেন। এক টুইটে আবদুল্লাহ বলেন, আমার বাবাকে আদালাতি হাজির করা হয়নি। শুনানি স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। খবর এএফপির।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএনের কাছে দেয়াসাক্ষাৎকারে শেখ সালমান আল-আওদার ছেলে আবদুল্লাহ আলাউদ জানান, প্রখ্যাত আলেম শেখ সালমান আল-আওদা এক সময় যুবরাজ সালমানের কাছের মানুষ ছিলেন। এক সময় বিভিন্ন বিষয়ে যুবরাজ সালমানকে তিনি পরামর্শ দিতেন।

২০১৭ সালে মোহাম্মদ বিন সালমানকে সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি ঘোষণা করেন বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। এই পদোন্নতি পাওয়ার তিন মাস পরই আল-আওদাকে ধরা হয়। সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি হিসেবে সদ্য অভিষিক্ত হওয়া যুবরাজের ধরপাকড় অভিযানের অংশ হিসেবে আটক করা হয়েছে তাকে। রাজসিংহাসনের জন্য হুমকি ও রাজদ্রোহী হিসেবে অনেককেই ওই সময় আটক করা হয়েছিলেন।

বছরখানেক বিচার ছাড়াই আটক রাখার পর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের কৌঁসুলিরা আল-আওদার বিরুদ্ধে ৩৭টি অভিযোগ আনেন। সব অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে আদালতে তার শিরশ্ছেদের সাজা চাওয়া হয়েছে। সৌদি আলেম আওদাকে দুই বছর নির্জন কারাবাসে রাখা হয়। এ সময় কারও সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

তবে রবিবার (২৮ জুলাই) আল-আওদাকে নতুন করে আদালতে হাজির করা হলে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত মামলার শুনানি স্থগিত করেছেন আদালত। শুনানিতে যদি তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে মৃত্যুদণ্ডের সাজা হতে পারে।

প্রখ্যাত আলেমের ছেলে আলাউদ বলেন, বন্দিত্বের প্রথম কয়েক মাস তার বাবার পায়ে শিকল ও হাতে কড়া পরিয়ে রাখা হয়েছে। আর কারাপ্রহরী তার দিকে খাবার ছুড়ে মারতেন। তিনি বলেন, আটকের প্রথম ছয় মাস কারও সঙ্গে তাকে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। যখন প্রথমবার পরিবারের সাক্ষাৎ পান, তখন বাবা বলেছিলেন, তাকে ঠিকমতো খাবার ও ঘুমাতে দেওয়া হয় না।

পরিবারকে আওদা বলেন, তিনি কিছু নথিতে সই করেছেন। কিন্তু তাতে কী লেখা ছিল, তা তিনি বুঝতে পারেননি।