স্মরণে দেওবন্দের তিন সূর্যসন্তান

যুবাইর হানীফ কাসেমী:

গত কয়েক মাসে দারুল উলূম দেওবন্দের বড় বড় কয়েকজন আকাবির ইন্তেকাল করেছেন৷ তাঁদের ইন্তেকালে শুধু দারুল উলূম নয় পুরো বিশ্ব শোক প্রকাশ করেছে৷ বিশ্বের এ ক্লান্তিলগ্নে মুরব্বিদের চলে যাওয়া পুরো বিশ্বের জন্যে এক ভিন্ন বার্তা দিয়েছে৷ চলে যাওয়া এই মনীষীদের দলে আছেন মাওলানা নূর আলম খলিল আমিনী (মৃত্যু-রাহি.২০রমযান,১৪৪২হি./ ৩ মে ২০২১ঈ.সোমবার), মাওলানা হাবিবুর রহমান আজমী রাহি.৩০ (মৃত্যু-রমযান,১৪৪২ হিজরি, ১৩/৫/২০২১ ঈসায়ী রোজ- বৃহস্পতিবার) ও মাওলানা উসমান মানসুরপুরী রহ. (৮ই শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী/২১শে মে ২০২১ ইংরেজি রোজ শুক্রবার)। তাঁরা সবাই আমার উস্তাদ৷ এই লেখায় আমি এ তিনজন মনীষীর সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরবো।

মাওলানা নূর আলম খলিল আমিনী রহ.

প্রতিটি যুগে শিক্ষিত লোকের উল্লেখযোগ্য একটা সংখ্যা থাকে৷ তবে এই লোকদের ভীড়ে খুব কম লোকই এমন পাওয়া যাবে যারা শত বাধা-বিপত্তি পাড়ি দিয়ে হলেও লক্ষ্যপানে পৌঁছার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মাঠে-ময়দানে কাজ করে যায়৷ এগিয়ে চলতে থাকে, ভ্রমণের সময় হোঁচট খায়, পড়ে যায়, তারপর আবার উঠে হাঁটা শুরু করে৷ গন্তব্যে পৌঁছানোর বিশুদ্ধ চেতনা তার হৃদয়ে এইভাবে রেখাপাত করে যে, সে যাত্রায় কোন ক্লান্তি অনুভব করে না, হোঁচটও তাঁর পদক্ষেপগুলি থামাতে পারে না৷ রাস্তার ধূলিকণাও পারে না গন্তব্যের পথে তাকে ভয় দেখাতে। শরীরের অবকাঠামো ছোট ও দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও সাফল্য তাদের পদচুম্বন করে৷ সে মহামনিষীদের অন্যতম হলেন আমাদের মাওলানা নূর আলম খলিল আমিনী রহ.।

তিনি ১৯৫২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিহারের মুজাফফরপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন৷ দারুল উলূম দেওবন্দের একজন মশহুর উস্তাদ এবং আরবি সাহিত্যের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। তাঁর বই, فلسطین في انتظار صلاح دين আসাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল। মাওলানা আমিনী আরবী ভাষা সাহিত্যের সফল লেখক৷ তাঁর সাড়াজাগানো জগতবিখ্যাত কিতাব ” مفتاح العربية” বইটি বিভিন্ন মাদ্রাসায় দরস নিজামির সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি প্রাথমিক শিক্ষা রায়পুর জেলার সিতাপুরে এবং মাধ্যমিক শিক্ষা মাদরাসা ইমদাদিয়া দরভাঙ দারুল উলূম মেওতে সমাপ্ত করেন। এরপর ১৯৬৫ঈ.তে দারুল উলূম দেওবন্দে এসে আরবি চাহারুমে দাখেলা নেন৷ ওযাহিদুয যামান কিরানভীর নিকট মাকামাত পড়ার মাধ্যমে তাঁর সাথে সম্পর্কের সূচনা হয়৷ ১৯৭০ সালে মাওলানা তার দরস নিজামী শেষ করতে দিল্লি আমিনিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখানে তাকমীল সমাপ্ত করেন৷ দেওবন্দে দাওরা দেননি৷ তার শিক্ষকদের মধ্যে ওয়াহিদুয যামান কিরানভি এবং মুহাম্মদ মিয়া দেওবন্দী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

কর্মজীবন

১৯৭২ ঈ.তে তিনি নদওয়াতুল উলামায় আদবের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান৷ দীর্ঘ ১০ বছর সেখানে খেদমত করেন৷ ১৯৮২ঈ.তে তাঁর মুরব্বি উস্তাদ কিরানভী রহ.-এর আদেশে দারুল উলুম দেওবন্দে আরবির উস্তাদ হিসেবে নিযুক্ত হন৷ মাওলানা আমিনী দেওবন্দের আরবি সাহিত্যের অধ্যাপক এবং আরবি মাসিক আল-দা’ই-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন মৃত্যু পর্যন্ত৷

মাওলানা আমিনী রহ. ওহিদুয যামান কিরানভীর নাজির ছিলেন বলা যায়৷ চাল-চলন,কথাবার্তা, নজর ও ফিকরে, দরসের আন্দাজ সবকিছুতে কিরানভীর কপি ছিলেন বলা যায়৷

মাওলানা আমিনী একদিকে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, ইসলামিক স্কলার অন্যদিকে তিনি একজন সকলের প্রিয় উস্তাদ ও সুপ্রসিদ্ধ লেখক৷ তার নিকট সময়ের খুব মূল্য ছিল৷ তিনি মেপে মেপে কাজ করতেন৷ হাজারো ভীড়ের মাঝে সব কাজ যথা সময়ে আঞ্জাম দিতেন৷

হুজুরের দরসে

আমার দারুল উলূম দেওবন্দের বছর হযরতের আদবের দরসে বেশ কিছু দিন বসার সৌভাগ্য হয়েছিল৷ জোহরের পর আমিন পালনপুরীর দরস শেষ করে চলে যেতাম নূর আলম খলিল আমিনী সাহেবের দরসে৷ আমিন পালনপুরী একটু আগে দরস শেষ করতেন, ওদিকে কামরুদ্দীন সাহেব একটু পরে আসতেন৷ ফলে এ সময়টুকু হুজুরের দরসে বসতে পারতাম৷ হুজুর দরস করাতেন ৩০ মিনিট বা তার চেয়ে কম৷ তাই দাওরায় এসে বোখারী সানীর দরসে বসতে পারতাম৷

হুজুরের দরসের বৈশিষ্ট্য হলো, তার দরস একদম প্রাণবন্ত, যে কেউ বুঝতে পারে৷ সব ধরণের ছাত্ররা বুঝতে পারে৷ প্রতি শব্দের,পরিভাষার ভিন্ন শব্দ ও ভিন্ন পরিভাষা কী তা সাথে সাথে বলতেন৷ একটা পরিভাষার একাধিক মুরাদিফ পরিভাষা বলতেন৷ তদ্রুপ এক শব্দের একাধিক মুরাদিফ শব্দ বলে ব্যবহার দেখাতেন৷ নিয়মিত হাজিরা ডাকতেন৷ সবক নিতেন৷ একদম স্বাভাবিকভাবে পড়াতেন, কোনকরম তাকাল্লুফ ছিল না৷

২০১৭ সালে, তাকে “صدارتی سرٹیفکیٹ آف آنر” (Presidential Certificate of Honour)পশংসাপত্র প্রদান করা হয়েছিল। তিনি তার ডক্টরাল গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখেছিলেন৷

রচনাবলি

মাওলানার আরবী উর্দু গ্রন্থের কয়েকটি নাম নিম্নরূপ:

اردو ترميم
وہ کوہ کَن کی بات (علامہ وحید الزماں کیرانوی کی سوانحِ حیات)
فلسطین کسی صلاح الدین ایوبی کے انتظار میں
پسِ مَرگِ زندہ
حرفِ شيریں
موجودہ صلیبی صہیونی جنگ
کیا اسلام پسپا ہو رہا ہے؟
خط رقعہ کیوں اور کیسے سیکھیں؟
عربی ترميم
مفتاح العربیہ (مکمل دو حصے) اس کتاب کو مختلف مدرسوں میں درس نظامی نصاب میں پڑھایا جاتا ہے۔
فلسطين في انتظار صلاح دين (عربی)
المسلمون في الهند
الصحابة و مكانتهم في الإسلام
مجتمعاتنا المعاصرة والطريق إلى الإسلام
الدعوة الإسلامية بين الأمس واليوم
متی تكون الكتابات مؤثرة؟
تعلّموا العربیة فإنہا من دینکم

ইন্তেকাল

বেশ কয়েক দিন শয্যাশায়ী থাকার পর ৩ মে ৩:১৫ মিনিটের দিকে তিনি তার রবের ডাকে সারা দেন। ২০, রমযান, ১৪৪২হিজরি, সোমবার৷ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দারুল উলূম দেওবন্দে প্রায় দীর্ঘ ৩৯ বছর খেদমত করে যান৷

হাবিবুর রহমান আজমী রহ.

৩০ রমযান, ১৪৪২ হিজরি, ১৩/৫/২০২১ ঈসায়ী, রোজ বৃহস্পতিবার। হযরত নূর আলম খলিল আমিনী সাহেব রহ.-এর শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই দারুল উলূম দেওবন্দের উপর দ্বিতীয় তীব্র শোক নেমে আসে৷ তা হল হযরতুল উস্তাদ হাবিবুর রহমান আজমী রহ.-এর ইন্তিকাল৷ ঈদুল ফিতরের আগের দিন যে শোকের জন্যে কেউই প্রস্তুত ছিল না৷ কিন্তু আল্লাহ তাআলার ফয়সালা মেনে নেয়াই মুমিনের সিফাত৷

হযরতুল উস্তাদের গ্রামের বাড়ী জগদিশপুর৷ এ গ্রামটি মাওলানা শাহ আবদুল গনী ফুলপুরী রহ.-এর ফুলপুর গ্রামের এক কিলোমিটার দূরত্বে৷ এই গ্রামেই দারুল উলূম দেওবন্দের শায়খে সানী মাওলানা আবদুল হক আজমি, মাওলানা ইফতিখার সাহেব, ও মাশহুর মুসান্নিফ আবুল হাসান আজমি রহ.-এর বাড়ি অবস্থিত৷

হযরতুল উস্তাদের পিতার নাম হাফেজ আনওয়ারুল হক৷ দাদার নাম মুহাম্মাদ তাকী৷ ১৩৬২ হিজরি, ১৯৪২ ঈসায়ীতে নানার বাড়ী কুকড়়িপুরে জন্ম গ্রহণ করেন৷ এখানে এ বিষয়টি উল্লেখ করা মুনাসিব মনে করছি যে, হযরতুল উস্তাদের আব্বার দুই সংসার ছিল৷ প্রথম সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে৷ হযরত প্রথম সংসারের ছিলেন৷ মরহুম হাফিজুর রহমান হযরতের আপন ভাই ছিলেন৷ প্রথম স্ত্রী যৌবনের শুরুতে ইন্তিকাল করেন৷ প্রথম স্ত্রীর ইন্তিকালের পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন৷ সে ঘরে তিন ছেলে, তিন মেয়ে জন্ম লাভ করে৷

শিক্ষাজীবন

হাবিবুর রহমান আজমী রহ. পাঁচ বছর বয়সে মক্তবে পড়া আরম্ভ করেন৷ হাজ্বী মুহাম্মাদ শিবলির তত্ববধানে তাঁর জীবনের শিক্ষা সফর শুরু হয়৷ প্রাথমিক পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত মক্তবে পড়েন৷ মক্তব শেষ করে প্রাইমারি সমাপ্ত করার পর ছেলেটিকে দোকানে বসিয়ে দেয়া হলো। এটিই পারিবারিক সিদ্ধান্ত। প্রাইমারি পর্যন্ত পড়ানো হয়েছে, যেন দোকানের হিসাব নিকাশ ঠিকঠাক করতে পারে। যতটুকু প্রয়োজন ছিলো সেটুকু হয়ে গেছে। আর দরকার নেই। এখন দোকানদারীই তার ভবিষ্যৎ। কিন্তু ছেলেটির তো দোকানে মন বসে না। তার স্বপ্ন মাদ্রাসায় পড়বে। আলেম হবে। কুরআন-হাদীস জানবে! কিন্তু কিভাবে? পারিবারিক সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সামর্থ্য তো তার নেই? শেষে না পেরে তিনি বাবার বন্ধুকে ধরলেন। বাবার বন্ধু অত্র এলাকার বড় আলেম। তার কথা বাবা ফেলতে পারবেন না!

বন্ধু এলেন বাবাকে বুঝাতে।‌ বাবা জানালেন, তিনিও চান ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়াতে। কিন্তু ওর দাদার সিদ্ধান্ত সে দোকানদারি করবে। আর ওর দাদার উপরে কথা বলার সাহস তার নেই। কিন্তু বন্ধুর অনুরোধও তিনি ফেলতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত দাদাকে বলে কয়ে রাজি করিয়ে ফেললেন।‌ ছেলেটি মাদ্রাসায় ভর্তি হলো। এর পরেরটুকু ইতিহাস! ছেলেটি একদিন উচ্চতার সেই সীমায় পৌঁছে,যাকে নিয়ে শুধু তার দেশ নয়, পুরো উপমহাদেশ গর্ব করতে পারে!

দারুল উলূম দেওবন্দের শায়খে সানী আব্দুল হক আজমী রহ.-ই তার বাবার বন্ধু। যার হাত ধরে তিনি মাদ্রাসায় এসেছেন। আল্লাহ উভয়কে তার রহমতের ছায়ায় ঢেকে নিন!

আবদুল হক আজমি রহ. তাকে নিজ এলাকার সুপ্রসিদ্ধ বিদ্যাপীঠ জামিয়া আরাবিয়া বাইতুল উলূম সারায়েমীরে ভর্তি করিয়ে দেন। সেখানে তিনি পড়া শুরু করেন। এরপর ওখান থেকে মাদরাসায়ে মুত্তালিউল উলূম বেনাসর, ওখান থেকে দারুল উলূম মেওতে পড়াশুনা নিরলসভাবে চালিয়ে যান৷ অবশেষে ১৩৮২ হিজরীতে দারুল উলূম দেওবন্দে দাখেলা নেন এবং তখনকার বড় বড় হাস্তিদের থেকে কুতুবে হাদীস পড়েন৷ ফারেগ হন ১৩৮২হি./১৯৬৪ ঈসায়ীতে৷ বোখারী শরিফ ফখরুদ্দীন মুরাদাবাদী রহ.-এর নিকট পড়েন৷ মুসলিম পড়েন মাওলানা বশির খান সাহেবের নিকট৷ হুজুর দারুল উলূম দেওবন্দে শুধু এক বছর ছিলেন৷

কর্মজীবন

ফারেগ হওয়ার পরপরই তিনি কর্মজীবনে পা রাখেন৷ আশরাফুল মাদারিস ঘুসিতে নিয়োগ পান৷ সেখানে সদরুল মুদররীসীন হিসেবে খেদমত করে যান৷ মাদরাসা ইসলামিয়া মুনগারাওয়াতেও পড়িয়েছেন৷ কিছুদিন জৌনপুর মাসজিদে কুরআনিয়া আটালায় খেদমত করেন৷

হযরত মাওলানা আবদুল গনী ফুলপুরী রহ.-এর সাথে যুক্ত হয়ে তাবলীগী মিশনে নেমে পড়েন৷ জামিয়া ইসলামিয়া রেওয়াড়ি তালাব, বেনারাসে শিক্ষকতার জিম্মাদারি পালন করেন৷

১৯৮০ ঈসায়ীতে হযরত মাওলানা আসআদ রহ. হুজুরকে দেওবন্দে তলব করেন৷ عالمی مؤتمر তথা গ্লোবাল ট্রাস্টের নাযেম বানান৷ সে সংস্থা থেকে ‘আল কাসিম’ পত্রিকা বের হত৷ যার সম্পাদনার দায়ীত্বও হুযুরের হাতে ছিল৷ ঐ সময়টা দারুল উলূম দেওবন্দের ইন্তিশারের সময় ছিল৷

১৯৮১ সন থেকে যখন দারুল উলূম দেওবন্দের কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু হয়, তখন হুজুর মাধ্যমিকের উস্তাদ হিসেবে নিয়োগ পান৷ ১৪১৪ হিজরিতে মাধ্যমিকস্তর থেকে উচ্চস্তরের উস্তাদ হিসেবে নিয়োগ পান৷

দারুল উলূম দেওবন্দে থাকা অবস্থায় যেসব কিতাবাদি পড়িয়েছেন, সেসবের অন্যতম হল:
نخبة الفكر
مشکاةالمصابيح
مقدمة ابن الصلاح
أبوداؤد
مسلم مكمل

শেষ বছরে বোখারী শরিফের কয়েক পারা হুজুরের জিম্মায় ছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে দারুল উলূম খোলা সম্ভব হয়নি৷ বোখারিও পড়ানো হয়নি৷

হযরতুল উস্তাদের নিকট আমি মুসলিম উভয়খণ্ড পড়েছি৷ আলহামদুলিল্লাহ৷ হুজুরের দরসে ইবারত পড়ারও সুযোগ হয়েছিল৷

হুজুরের দরস খুব প্রান্তবন্ত ছিল৷ খুব তাহকীক ও গুরুত্বের সাথে পড়াতেন৷ থেমে থেমে হাদীসের প্রত্যেকটা অংশের উপর বিশদ আলোচনা ও বিশ্লেষণ করতেন৷ হাদীসের দেরায়াতের বিষয়টি স্পষ্ট করতেন৷ সনদের উপর বিশেষভাবে জোর দিতেন৷ এটা হুজুরের বিশেষ ফন্ন ছিল৷ কোন রাবি কোন স্তরের, মান কী? ইত্যাদি বিশদভাবে সব বর্ণনা করতেন৷ সাথে নিজের মন্তব্য পেশ করতেন৷ আলোচনা বিশ্লেষণের সময় যখন কোন ফরিকের রায় দলিলিকভাবে দুর্বল সাব্যস্ত হত, তখন বিশেষ ভঙ্গিতে হেসে বলতেন- گئی بھینس پانی میں

আসমাউর রিজাল শাস্ত্রে হুজুরের বিশেষ দখল ও যোগ্যতা ছিল৷ এজন্যে ছাত্ররা হুজুরকে ‘ইবনে হাজার সানী’ উপাধিতে স্মরণ করত৷

মাসিক দারুল উলূমের সম্পাদনা

তিনি শুধু শিক্ষক ছিলেন না। তাঁর রচনাও বেশ সুন্দর ও মজবুত ছিল৷ সুষম ও ভারসাম্যযুক্ত শব্দ চয়ন করতেন৷ বাক্যগুলো খুব গোছানো হত। কোনো কথা অপরিপক্ক বা তাহকিকের বাহিরে ছিল না৷ এই পরিক্কতা ও পরিপূর্ণতা তাঁকে ১৪০৫ হিজরিতে মাসিক ‘দারুল উলূম’-এর সম্পাদক করে তোলে এবং এই পত্রিকাটি কমপক্ষে ৩৫ বছর ধরে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হতে থাকে। এর আগে আল-কাসিম একটি পত্রিকাও প্রকাশ করেছিলেন৷

রচনা

হযরতুল উস্তায ৩০ এর উপরে কিতাব রচনা করেছেন৷ তার মধ্যে বিশেষভাষে উল্লেখযোগ্য:

شجرہ طیبہ
مقالات حبیب
تذکرہعلمائے اعظم گڑھ
شرح اردو مقدمہ شیخ عبد الحق
شیوخ أبی داؤدفی سننہ
انتقاء کتاب الاخلاق

মুতালাআয় নিমগ্নতা

হযরত মাওলানা এমনি এমনি সবার সাম্মানের পাত্র হননি৷ তাঁকে এর পেছনে অধ্যবসায়, অবিরাম সংগ্রাম ও সাধনা করতে হয়েছে৷ তিনি মুতালায় এতটাই মগ্ন থাকতেন যে, তা থেকে বের হওয়ার বিষয়টি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তিনি আক্ষরিক অর্থে ফানা ফিল মুতালাআ ছিলেন। দরসের বাহিরের সময়ও এ কাজে ব্যয় করতেন।

তার পরিচিত, প্রিয়জন বা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ যদি বাইরের দেশ থেকে আসার পূর্বে হুজুরের সাথে যোগাযোগ করতো, তাদেরকে বলতেন, এই এই কিতাবগুলো নিয়ে আসবে।

সিরাজ-উল-মুহাদ্দিসীন মাওলানা নেমাতুল্লাহ আজমি সাহেব হাফি.-এর পরে যদি দারুল উলূমের অন্য কোন ব্যক্তিত্বকে বইয়ের পোকা বলা হয়, তবে নিঃসন্দেহে তিনি হবেন হযরতুল উস্তাদ। সাম্প্রতিক লকডাউনে মাওলানা তার স্বদেশে ফিরে এসেছিলেন। এখানেও দৈনন্দিন আমল, তাহাজ্জুদ এবং পড়াশোনা ও অধ্যয়নে নিমগ্ন থাকতেন৷

সফর থেকে দূরে

হযরতুল উস্তাদ সফর খুব কম করতেন৷ সারাজীবন সফরবিমুখ একজন ব্যক্তিত্ব ছিলেন৷ শুধু দরস ও মুতালাআয় মগ্ন থাকতেন৷ সফরের নামকেই তিনি ভয় পেতেন৷ হজের সফর হয়েছে তিনবার৷ জীবনের শেষের দিকে কিছু কিছু সফর করতেন৷ দুই বছর পূর্বে উজবেকিস্তান সফর করেছেন৷ এর আগে একাধিকবার বাংলাদেশেও এসেছেন৷ কোন ধরনের সভায় তিনি প্রোগ্রাম করতেন না৷ বরং বলতেন – میں تقریر وقریر نہیں جانتا (আমি তাকরির, ওয়াকরির পারি না)৷

ইন্ডিয়াতে শুধু জামিয়া আরাবিয়া বাইতুল উলূম সারায়েমিরের সভায় হুজুর যেতেন৷ ঐ মাদরাসার সাথে হুজুরের খাছ সম্পর্ক ছিল ছিল৷

দেশের ভেতরে কোথাও সফরে গেলে কোন খাদিম-খুদ্দাম নিতেন না৷ একবার আমরা কয়েকজন সাথী দেওবন্দ থেকে নাদওয়াতুল উলামা লাক্ষ্মৌ যাচ্ছিলাম৷ ঘটনাক্রমে যে ট্রেনে আমরা উঠেছি সে ট্রেনেই আজমী রহ.ও উঠেছেন৷ জানতে পেরে হুজুরকে তালাশ করতে লাগলাম৷ গিয়ে দেখি একটা সাধারণ স্লিপার বগিতে হুজুর মানুষের ভীড়ে বসে আছেন৷ তখন কথা বলার সাহস করিনি৷

পরে যখন লক্ষ্মৌ গিয়ে নামলাম, দেখি হুজুর ট্রেন থেকে নামছেন বিলকুল একা, কোনো সাথী নেই৷ হুজুরকে দেখে দৌড়ে এসে মুসাফাহা করে বলি যে হুজুর, আমরা দারুল উলুম থেকে এসেছি, হুজুরের ছাত্র৷

জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় যাচ্ছো?
বললাম, নাদওয়াতুল উলামাতে৷
আমরা হুজুরকে জিজ্ঞেস করার আগে হুজুর নিজ থেকে বললেন, আমার লক্ষ্মৌতে একটা প্রোগ্রাম আছে, সে জন্যে এসেছি৷

এরপর হুজুর আমাদের জন্যে আমান ও সালামতের দুআ করে বিদায় জানিয়ে স্টেশন থেকে বের হয়ে যান পশ্চিম দিকে, আমরা বের হয়ে যাই পূর্বদিকে৷ কতো সাদসিধে জীবন-যাপন ছিল তাঁদের, না দেখে বুঝানো সম্ভব নয়৷

জমিয়ত ও অন্যান্য কমিটিতে যোগ দান

১৪২০ হিজরি সালে রদ্দে ইসাইয়িত্যের কমিটির নেগরান ও পরে নাজেম নিযুক্ত হন৷ ১৪৩৮ হিজরি পর্যন্ত খুব সুনামের সাথে এ গুরুদায়ীত্ব পরিচালনা করেন৷

হুজুর জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সাথেও দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন৷ তিনি মজলিসে আমেলার রোকন ছিলেন এবং খুব সক্রিয় মেম্বার ছিলেন৷ হযরতুল উস্তাদ আরশাদ মাদানি হাফি.তাঁর তাযিয়াতি বক্তব্যে এ বিষয়ে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন৷

নিয়মিত ব্যয়াম ও শরীরের যত্ন

হযরতুল উস্তাযের ঈমান-আমলের মত নিজের স্বাস্থ্যেরও খুব বেশি খেয়াল করতেন৷ প্রতিদিন সকাল বেলা ফজরের পর নিয়মিত দারুল উলূম দেওবন্দের আশপাশে মাঠে, ঘাটে, রাস্তায় পায়চারি করতেন৷ হাঁটার সময় হাতে লাঠি, দৃষ্টি অবনত করে দ্রুত গতিতে হাঁটতেন৷

দেওবন্দে হুজুরের সাথে সবচেয়ে বেশি সম্পর্ক ছিল হযরতুল উস্তাদ বাহরুল উলূম হাফি.-এর সাথে৷ বেতাকাল্লুফ সম্পর্ক ছিল৷ উভয়ের মুহাব্বত দেখলে যে কেউ ঈর্ষা করবে৷ অনেক সময় আছরের পর হুজুরের নিকট আসতেন৷ এসে উভয়জন আজমী মাঞ্জিলের দোতলায় হুজুরের দরজার সামনে বারান্দায় বসে গল্প, মুযাকারা করতেন৷ আমরা আজমি মানযিলের সামনের মাঠে বসে বসে দেখতাম৷ উভয় বন্ধু কীভাবে মুযাকারা করছেন৷ দেওবন্দে মুরব্বি উস্তাদের মাঝে এই দুই উস্তাদকেই দেখতাম একজন আপর জনের কামরায় এসে একসাথে বসে মুযাকারা করছেন। যা ছাত্রদের জন্যে খুব আনন্দের ছিল৷ ছাত্ররা মাঠ থেকে তাকিয়ে থাকত সবাই৷

নিজের হাতে রান্না

দেওবন্দে হুজুর নিজেই বাজার করতেন৷ নিজেই নিজের রান্না করতেন৷ ছাত্রদের থেকে খেদমত খুব কম নিতে চাইতেন৷ মৃত্যু পর্যন্ত দেওবন্দে নিজের রুমে রান্না করে খেয়েছেন৷ ছাত্ররাও রান্না করে দিত৷ হুজুরের বাজার করার দৃশ্য দেওবন্দের সবাই দেখত, দাঁড়িয়ে ভ্যান থেকে সবজি নিচ্ছেন৷

পরিবার দূরে রাখা

দারুল উলূম দেওবন্দে প্রায় উস্তাদ পরিবার নিয়ে থাকেন৷ প্রত্যেক উস্তাদ নিজ নিজ ফ্যামেলি নিয়ে থাকেন৷ মুরব্বি উস্তাদের সবাই পরিবার নিয়ে নিজ তৈরি বাসাতে কিংবা দারুল উলূমের কোয়াটারে থাকেন৷ কিন্তু হযরতুল উস্তাদ দারুল উলূমের সিনিয়র উস্তাদ হওয়া সত্ত্বে কখনও ফ্যামলি নিয়ে থাকেননি৷ সারা জীবন আজমি মঞ্জিলের দোতলায় পশ্চিম পাশের রুমে কাটিয়ে দিয়েছেন৷ জীবন শেষ সময় পর্যন্ত এই কামরায় ছিলেন৷ দারুল উলূমে হুজুর কোন দালান, কোঠা ইত্যাদি কিছুই তৈরি করেননি৷ পুরো পরিবার আজমগড়ে থাকত৷ হুজুর আজমগড়ে আসা-যাওয়া করতেন৷ পরিবারের দেখাশুনা করতেন৷

অন্তিম সময়ে

হযরতুল উস্তাদ সিহহাতের এতো বেশি খেয়াল করতেন বলে সুস্থ থাকতেন৷ সব কাজ নিজেই আঞ্জাম দিতেন৷ বয়স আশির শেষ প্রান্তে৷ কিন্তু শরীরের সুস্থতা ও গঠনে তা বুঝা যেত না৷ মনে হত ৬০ বছর বয়স হবে৷

হুজুর এবার যখন অসুস্থ হন, সুস্থ হতে পারেননি৷ শুরু হয়েছে জ্বর, কাশি দিয়ে ৷ শেষ হয়েছে শ্বাস কষ্ট দিয়ে৷ শুরু থেকে ফুলপুর হাসপাতালে সবকিছু পূর্ণ দেখশুনা চলছিল৷ শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে যাচ্ছিল৷ এবং হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে দিবে এমন ছিল৷
গত ৩০ রমযান, ১৪৪২ হিজরি, ১৩/৫/২০২১ ঈসায়ী, রোজ বৃহস্পতিবার ফজরের পর শারীরিক অসুস্থতা হঠাৎ বাড়তে লাগল৷ লাগাতার শরীরের অবনতির বিষয়টি হুজুর বুঝতে পারেন। সফরের বিষয় বুঝতে পেরে নিজের ছেলেকে ডেকে লেনদেনের বিষয়টি বুঝিয়ে দিলেন৷ কিতাবের ব্যাপারে অসিয়ত করলেন, তোমাদের ইচ্ছে, চাইলে দেওবন্দের মাকতাবায়ও দিতে পার, চাইলে অন্য কোন এদারাকে দিতে পার৷

অসিয়তের পর হুজুর যে বাক্যটি বার বার বলেছেন, আমার এতো নামায ছুটে গেছে, এত রোযা থেকে গেছে৷ আমি আল্লাহ’কে কিভাবে মুখ দেখাব! কথা বলতে বলতেই হঠাৎ হার্ট এ্যাটাক হয়৷ মুহূর্তে হুজুর নীরব হয়ে যান৷ থেমে যায় তাসবিহ, তাহলিল। যাত্রা করেন পরম প্রভুর সান্নিধে্য।

রাত নটায় হুজুরের নাতী আফফান নামাযে জানাযা পড়ান৷ হযরত দুই ছেলে দুই মেয়ে রেখে যান৷ উভয় ছেলে সৌদি প্রবাসী৷ বাবার জানাযায় উপস্থিত হতে পারেননি৷

ক্বারী সায়্যিদ উসমান মনসুরপুরী রহ.

হযরতুল উস্তাদ হাবিবুর রহমান আজমি রহ.-এর শোকের আগুন না নিভতেই ৮ শাওয়াল জুমার সময় ইন্তেকাল করেন আমিরে হিন্দ দারুল উলূম দেওবন্দের কার্যনির্বাহী মুহতামিম ও আমীরে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ, মাদানি রহ.-এর জামাতা, উস্তাদে মুহতারাম ক্বারী সায়্যিদ উসমান মনসুরপুরী রহ.।
হযরতুল উস্তাদের নাম মুহাম্মাদ উসমান, পিতা নওয়াব সায়্যিদ মুহাম্মাদ ঈসা৷ বংশ হিসেবে তিনি সায়্যিদ বংশধর। তিনি মুযাফফর নগর জেলার মনসুরপুর গ্রামে ১৯৪৪ সালের ১২ আগস্ট এক ধার্মিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

শিক্ষাজীবন

উস্তাদে মুহতারাম প্রাথমিক শিক্ষা নিজ এলাকায় অর্জন করেন। তারপর উচ্চ শিক্ষার জন্য দেওবন্দে আসেন এবং ১৯৬৫ সালে দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করেন। তাজবিদে কিরাত ও আরবী সাহিত্যের জ্ঞান অর্জন করেন।

কর্মজীবন

উস্তাদে মুহতারাম প্রথমত জামেয়া ক্বাসিমিয়া গায়াতে পাঁচ বছর তাদরিসী খেদমত আঞ্জাম দেন। তারপর জামেয়া ইসলামিয়া জামে মসজিদ আমরুহাতে এগারো বছর বিভিন্ন উলূম ও ফনুনাতের তাদরিস দেন। ১৯৮২ ইংরেজিতে দারুল উলূম দেওবন্দের উস্তাদ নিয়োজিত হন। তাকে ১৯৮৬ সালে সমগ্র হিন্দের তাহাফফুযে খতমে নবুওয়তের মহাসচিব নির্বাচিত করা হয়।

১৯৯৯ সালে উস্তাদে মুহতারামকে দারুল উলূম দেওবন্দের নায়বে মুহতামিম বানানো হয় এবং তিনি ২০০৮ পর্যন্ত এ দায়িত্ব আঞ্জাম দেন।২০২০ ইংরেজিতে উস্তাদে মুহতারামকে দারুল উলূম দেওবন্দের কার্যনির্বাহী মুহতামিম বানানো হয় এবং মৃত্যু পর্যন্ত এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেই বহাল ছিলেন।

দরস ও তাদরিস

উস্তাদে মুহতারাম দারুল উলূম দেওবন্দে তহাভী শরীফ, মুআত্তা ইমাম মালিক, মিশকাতুল মাসাবিহ ইত্যাদি কিতাবাদীর তাদরিস দিয়েছিলেন।

তিনি খুব নম্র স্বভাবের ছিলেন৷ তালিবে ইলমদের প্রিয় উস্তাদ ছিলেন৷ ছাত্রদের প্রতি খুব বেশি শফকতের নজরে দেখতেন৷ ছাত্ররা হুজুর থেকে খুব ইস্তিফাদাও করর সুযোগ পেত৷ তিনি ছাত্রদের থেকে খুব বেশি খেদমত নিতে চাইতেন না৷

দারুল উলূমের মুহতামিম আবুল কাসিম নুমানী রহ. তার তাযিয়াতি বক্তব্যে বলেন, তিনি নেযামের খুব পাবন্দ ছিলেন৷ মুহতামিম হওয়ার পর আমি সবসময় দেখতাম, সবার আগে তিনি উপস্থিত৷ এসে দফতরে কাজে লেগে গেছেন৷ প্রতিদিন এমন করতেন৷ ব্যতিক্রম হত না৷ দরসেও নিয়মিত ঠিক সময়ে এসে যেতেন৷

মূলত তিনি দারুল উলূম দেওবন্দের জন্যে অনেক বড় সম্পদ ছিলেন৷

সন্তান

হযরতুল উস্তাদ সহধর্মিনী হিসেবে হুসাইন আহমদ মাদানী রহ.-এর কন্যা পান৷ সায়্যেদ আস’আদ মাদানি রহ. তার বোনকে হুজুরের আকদে দেন৷ উস্তাদে মুহতারামের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। উভয় ছেলে ইন্ডিয়ার তরুণ ব্যক্তিত্বদের অন্যতম৷ একজন সালমান মানসুরপুরী, আরেকজন আফফান মানসুরপুরী।

সিয়াসত, বায়াত ও খিলাফত

উস্তাদে মুহতারাম আকাবির ও আসলাফের প্রিয় সংগঠন জমিয়তের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। যার ফলে ২০০৬ সালে উস্তাদে মুহতারামকে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের আমীর নির্বাচিত করা হয় এবং মৃত্যু পর্যন্ত এ দায়িত্বেই বহাল ছিলেন।

বায়াত ও খিলাফত প্রাপ্ত হন ফেদায়ে মিল্লত,আমীরে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সায়্যিদ আসআদ মাদানী রহ. থেকে। অধমের ১৪৩৮-১৪৩৯ হিজরী/২০১৭-২০১৮ সালে উস্তাদে মুহতারামের কাছে তাহাভী শরীফ পড়ার সৌভাগ্য হয়। আলহামদুলিল্লাহ! হুজুর প্রতিটা বহসকে খুব সহজে বুঝানোর চেষ্টা করেন৷ হুজুরের দরসে ইবারত পড়ারও সৌভাগ্য হয়েছিল৷

ইন্তেকাল

উস্তাদে মুহতারাম মৃত্যুর পূর্বে কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর ৮ই শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী/২১শে মে ২০২১ ইংরেজি রোজ শুক্রবার দুপুর ১:৩০ মিনিটে ৭৬ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তাকে দারুল উলূম দেওবন্দের কবরস্থান মাকবারায়ে কাসেমীতে মাদানী রহ.ও ক্বারী তৈয়ব সাহেব রহ. এর কদমের সামনে দাফন করা হয়।

এদিকে ২১ রমযান, ৪ই মে ২০২১ঈ. দারুল উলূম দেওবন্দের ফার্সি বিভাগের তরুণ উস্তাদ মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম মিরাঠি বিকাল ৪.৩০ মিনিটের দিকে ইন্তিকাল করেন৷ একই দিনে হযরতুল উস্তাদ আমিন পালনপুরী হাফি.-্এর আহলিয়া মুহতারামা দুপুর একটার দিকে ইন্তেকাল করেন৷

আল্লাহ আমাদেরকে সালাফের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলার ও নিজেদের মুহাসাবা করার তাওফীক দিন৷

আগের সংবাদফিলিস্তিনের একগুচ্ছ কবিতা
পরবর্তি সংবাদআকীদা শাস্ত্রের রেনেসাঁ ব্যক্তিত্ব ইমাম আবু মানসুর মাতুরিদী রহ.