স্মৃতিতে সাঈদ আহমদ পালনপুরি রহমাতুল্লাহি আলায়হি

ফয়সাল আহমাদ জালালাবাদী:

হযরত আকদাস মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরি রাহ.-এর ইলমি মাকাম দেওবন্দ কেন্দ্রিক ওলামা-তলাবা সকলেরই জানা। তিনি ছিলেন ওলামায়ে দেওবন্দের সূর্য সন্তান, আকাবির ও আসলাফের যোগ্য উত্তরসূরী। তাকে বলা হয় দেওবন্দি মাসলাক ও মাসরাবের সঠিক ভাষ্যকার, নানুতবী র্দশনের যথার্থ বিশ্বস্ত আমানতদার, ওলিউল্লাহি চিন্তাধারার সুনিপুণ ব্যাখ্যাকার। তার ইলমি গভীরতা, গবেষণার সুক্ষ্মতা, উপস্থাপনার সৌন্দর্য, মতামতের বিচক্ষণতা, শিরক-বেদআত ও ফেরাকে বাতেলার রদে কঠোরতা, তাফসির-উসূলে তাফসির, ফিকহ-উসূলে ফিকহ, হাদিস-উসূলে হাদিস, ফালসফাসহ সকল শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য তাকে স্বতন্ত্র মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল। তার কথা ও দরসের প্রভাব, উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পারদর্শিতা, ক্লাসের ছাত্রদের স্তর নির্ণয়ের দক্ষতা, আম-খাস সকলের নিকট মাকবুলিয়াত, সততা, যুহদ-তাকওয়া, ইত্তেবায়ে সুন্নাত, উত্তম চরিত্র তাকে দিয়েছিল জ্যোতির্ময় আলাদা এক মহিমা।

হযরত মুফতি পালনপুরি রহ.কে সর্বপ্রথম আমার দেখার সৌভাগ্য হয় ১৯৯৯ ইং সালে। আমি তখন ঢাকার দারুল উলুম মাদানীনগর মাদরাসায় জালালাইন ক্লাসের তালিবে ইলম। মুফতি সাহেব বাংলাদেশ সফরে; অবস্থান করছেন মাদানীনগর নিবাসী হযরত মাও. আবু বকর সাহেবের বাসায়।মাদানীনগর জামিয়ায় তাকমিল জামাতে তিরমিযি শরিফের দরস প্রদান করতেন মুহতারাম উস্তায শায়খুল হাদিস যাকারিয়া রহ.। দাওরার তালিব ইলমদের অধিক আগ্রহে, জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা হযরত মুসলিহে উম্মাহ শায়েখ ইদ্রিস সন্দ্বীপি রহ.র আমন্ত্রণে বাদ যোহর তিরমিযি শরিফের শেষ হাদিসের দরস প্রদান করেন পালনপুরি রহ.। মসনদের মধ্যভাগ অলংকৃত করেন হযরত পালনপুরি রাহ. ; ডান পাশে বসেন মুসলিহে উম্মাহ রাহ. আর বাম পাশে বসেন তিলমিযে বানূরি শায়খুল হাদিস হযরত মাও. কুতুবুদ্দীন জালালাবাদি রাহ.। জামিয়ার আসাতিযায়ে কেরামসহ তাকমিলের দরসগাহ কানায় কানায় ভরপুর। মনমুগ্ধকর এক দরস। তিনি সেদিন আসর পর্যন্ত শেষ হাদিসের উপর এক নাতিদীর্ঘ তৃপ্তিদায়ক, আনন্দদায়ক আলোচনা পেশ করেন। সকল শ্রোতারা তন্ময় হয়ে তার প্রতি দৃষ্টি মনোনিবেশ করেছিল। যোহরের পর থেকে আসরের সময় কখন হয়ে গেলো, কউ টেরও পেলো না। সেদিন থেকে আমার অন্তরে জাগ্রত হয় তার ছাত্রত্ব গ্রহণ করার তীব্র বাসনা।

সে বছর জালালাইন পড়াকালীন একটি বরকতময় স্বপ্ন দেখি আমি। স্বপ্নের সেই সুন্দর জগতে দেখি–আমি দারুল উলূম দেওবন্দ বাবে কাসিম দিয়ে প্রবেশ করছি । একজন তালিবে ইলম আমার হালপুরসি করছে। ছোট্ট একটি স্বপ্ন বাড়িয়ে দেয় দেওবন্দে যাবার তাড়না, পালনপুরির দরসে বসার আগ্রহ।

২০০১ ইং ‍সালে (১৪২১/২২ হি.) হাদিস পড়ার তাওফিক হয় মাদানীনগর মাদরাসায়। বার্ষিক পরীক্ষার পর বাড়িতে চলে যাই। আমার মুহতারামা আম্মাজান তখনো জীবিত। হযরত আসাতিযায়ে কেরামের নসিহত, আমার মুহতারাম ওয়ালিদ তিলমিযে মাদানী রহ. শায়খুল হাদিস হাফিয জাওয়াদ রাহ.-এর দোয়ার বদৌলতে দারুল উলুম দেওবন্দ পুনরায় হাদিস পড়ার আগ্রহ তীব্রতর হতে লাগল। আম্মাজান এবং বড়ভাইদের সাথে পরামর্শক্রমে দেওবন্দে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রমজানুল মোবারকের মধ্যভাগে ভিসার জন্য ঢাকায় চলে আসি। আলহামদুলিল্লাহ, আমার মুহতারাম ওয়ালিদ সাহেবের এক ভক্তের মাধ্যমে এক বছরের স্টুডেন্ট ভিসা পেয়েও যাই। বাড়িতে এসে সকলের সাথে দেখা করে দ্রুত ঢাকায় চলে আসি । ২২ রমজান আমি এবং আমার সাথি মাও.ফারুকুযযমান দেওবন্দের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। বহু ঘাতপ্রতিঘাত অতিক্রম করে ২৬ রমজান মাগরিবের পূর্ব মুহূর্তে দেওবন্দে বাবে কাসিম দিয়ে প্রবেশ করি।

দেওবন্দে পৌঁছার পরদিন থেকে ভর্তি পরীক্ষার জন্য পস্তুতি গ্রহণ করি। আল্লাহর অশেষ দয়া-অনুগ্রহে ভর্তি পরীক্ষায় ২য় হই। মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নিয়মিত বাংলাদেশি ছাত্র হিসেবে স্টুডেন্ট ভিসায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে যাই।

হযরত নাসির আহমদ খান রহ. এর দরসে বুখারির মাধ্যমে শুরু হয় দরস- তাদরিস। বিলিয়ে দেয়া শুরু হয় কাসিমি দরসগাহে ইলমে ওহীর শরাবান তাহুরা। শায়খুল ইসলাম মাদানী রহ.-এর ফয়েজপ্রাপ্ত নব্বই বছর বয়সি এই প্রাজ্ঞ শায়খুল হাদিসের সুস্পষ্ট বাগ্মিতায় মুখরিত হতো দরসে বুখারি। মনমুগ্ধকর এক দরস। ছাত্রদের প্রফুল্ল রেখে পড়ানোর সুকৌশল ছিল হযরতের প্রধান বৈশিষ্ট। কাসিমি কাননের ভ্রমরেরা আনন্দে আন্দোলিত হতো। হযরতের নিকট থেকে জানতে থাকে বুখারির সুগভীর ইলমি সুক্ষতা-তীক্ষ্মতাসহ ইমাম বুখারি রহ.-এর তরজে কালাম, মাসআলা নির্গত করার সুনিপুণ কৌশল।

কিন্তু তালিবে ইলমরা অপেক্ষায় ছিল হযরত মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরি রাহ.-এর তিরমিযি শরিফের দরসের জন্য। আমাদের তরজুমান ভাই আব্দুল্লাহ আজমিকে সাথে নিয়ে তাকমিলের দরসগাহে প্রবেশ করলেন ছাত্রদের কাঙ্খিত উস্তায হযরত মুফতি পালনপুরি সাহেব রহ.। তিনি প্রবেশ করতেই পুরো দরসে নেমে এলো পিনপতন নিরবতা। হাদিসের প্রারম্ভিকার উপর এক নাতিদীর্ঘ আনন্দায়ক, মনমোগ্ধকর আলোচনা দিয়ে শুরু করলেন দরসে তিরমিযির ক্লাস। তন্ময় হয়ে তার প্রতি তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করে রেখেছিল কাসেমি কাননের পুষ্পরা। বিরল এক দরসে তিরমিযি। হাদিস থেকে উসূল বের করার পদ্ধতি শিক্ষার এক বেমিসাল ক্লাস।

তার দরসের অন্যতম বৈশিষ্ট ছিল উপস্থাপনার সৌন্দর্য।একটা জটিল বিষয় সহজেই ছাত্রদের বুঝিয়ে দিতেন। অধিক কঠিন বিষয় দু-চার মিনিটেই ছাত্রদের সামনে সহজ করে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয় ব্যক্তি। কিছুদিন ক্লাস করার পর তার সাথে পরিচয় হয়। প্রতিদিন বাদ আসর তার বাসায় হাজির হতাম। এবং কিছুদিন হযরতের খেদমত করার তাওফিকও হয়েছে।

দারুল উলুম দেওবন্দের প্রাজ্ঞ আসাতিযায়ে কেরামের নিকট দীর্ঘ এক বছর হাদিস পড়ার পর তাদের দোয়া নিয়ে বাড়িতে চলে আসি। তারপর ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর আমার শিক্ষকতা জীবনের প্রথম পথচলা শুরু করি। হযরত মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা আতহার আলি রাহ.-এর স্মৃতিবিজড়িত জামিয়া ইসলামিয়া সেহড়া মোমেনশাহী হয় আমার প্রথম কর্মস্থল।

২০১১ সালে আমি তখন উক্ত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল উস্তায। আমার সাথী বন্ধুবর মাও. হা. রুহুল আমিনের কাছ জানতে পারলাম, হযরত পালনপুরি রহ. বাংলাদেশ সফরে আসবেন। সফরের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন হযরত মুসলিহে উম্মাহ সন্দ্বীপি রাহ.-এর বড় জামাতা হযরত মাও. ওমর ফারুক সন্দ্বীপি। জামিয়াতে হযরত পালনপুরি রাহ.-এর প্রোগ্রামের জন্য সফরের ব্যবস্থাপক এবং মাও.রুহুল আমিনের সাথে যোগাযোগ রাখতে শুরু করলাম। মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা আতহার আলি রাহ.-এর স্মৃতিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হওয়ার বদৌলতে একটি শর্ত সাপেক্ষে মুফতি পালনপুরি রাহ.-এর প্রোগ্রাম পেয়ে গেলাম। শর্তটি ছিল জামিয়ার জন্য অনেক নিয়ামত লাভের সুবর্ণ সুযোগ। মোমেনশাহিতে কেবল একটি প্রোগ্রাম হবে, আশপাশে কোথাও কোন প্রোগ্রাম হবে না। আমরা মাথা নত করে শর্তটি মেনে নিলাম।

আমরা হযরতের মরজি মোতাবেক আসাতিযায়ে কেরামের সাথে পরামর্শ করে বাদ মাগরিব একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করলাম। আশপাশের ওলামা তলাবাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হলো। নির্ধারিত দিনে হযরতের আগমনের পূর্বেই আতহারি কানন লোকে লোকারণ্য। জামিয়ার বার্ষিক মাহফিলের চেয়ে ওলামা তলাবার উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। হযরত পালনপুরি রহ. নির্ধারিত তারিখে আসরের সালাতের কিছুক্ষণ পূর্বে জামিয়াতে আগমন করেন। বাদ মাগরিব হযরত মুফতি সাহেবের সাথে বৃহত্তর মোমেনশাহির সিনিয়র ওলামায়ে কেরাম সাক্ষাত করেন। হযরতুল আল্লাম গিয়াস উদ্দিন শায়খে বালিয়া রহ.ও উপস্থিত ছিলেন।

আসরে একামাত যখন শুরু হবে, মুআযযিন মুসল্লিদের তাড়া দিতে লাগলো, দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করুন। বিষয়টি লক্ষ্য করে পালনপুরী রহ. বললেন, ‘মুআযযিন কেন এই কথা বলবে। একামাত-ই তো দাঁড়ানোর আহ্বান। মুআযযিনের দায়িত্ব নয় এটা বলা। এটা বললে বলবেন ইমাম সাহেব।’

বাদ মাগরিব কারী আবু মুসার কুরআন তেলাওয়াত ও হযরত আযহার আলি আনোয়ার শাহ সাহেব রাহ.-এর উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে দোয়া মাহফিল শুরু হয়। এশার সালাতে ইমামতি করেন জামিয়ার মুহাদ্দিস হযরত মাও.মুস্তাফিজুর রহমান। সালাতে তেলাওয়াত করেন সুরা নাজিআতের শেষাংশ। হযরত মুফতি সাহেব রাহ. বাদ এশা ইমাম সাহেবের তেলাওয়াতকৃত আয়াতের বিষয়বস্তুর উপর এক গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করেন।নসিহত শুনে উপস্থিত জনতা সবাই মুগ্ধ, ভক্ত, অনুরক্ত হতে বাধ্য হন এবং সকলেই হযরত পালনপুরি রাহ.র ইলমি গভিরতা বিষয়ে স্বীকৃতি প্রদান করেন। এবং হযরতের আগমন উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করায় জামিয়া কর্তৃপক্ষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মুফতি পালনপুরি রহ.বয়ানের পর জামিয়াতেই রাত্রিযাপন করেন। ফজরের সালাতের সুন্নাত জামিয়ার মেহমান খানায় আদায় করেন। তখন আমি এবং পালনপুরি রহ. ব্যতিত অন্যকউ উপস্থিত ছিল না । আমি তখন সুবর্ণ সুযোগ মনে করে জামিয়ার পক্ষ থেকে একটি ছোট্ট হাদিয়ার খাম হযরতের দস্ত মোবারকে তুলে দেই। হযরত নির্জনে দেওয়ার কারণে বিষয়টি পছন্দ করে নির্দ্বিধায় গ্রহণ করেন। খামে কী আছে একটু খুলেও দেখেননি। অথচ আমাদের ইলমি অঙ্গনের অনেক ব্যক্তির আর্থিক আচরণ দৃষ্টিকটু।

এই সময় হাদিয়ার খাম বের করতেই মনে হয় পাজামার পকেটে হাত দিয়েছিলাম। মুফতি সাহেব দেখে ফেললেন। বিষয়টি তার পছন্দ হলো না। তিনি আমাকে বললেন, ‘আকাবীরগণ পাজামায় পকেট রাখতেন না। তুমিও রাখবে না। এটা শোভন দেখায় না।’

ফজরের সালাতের পর হযরত মুফতি সাহেব নিজ আগ্রহে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করেন। জামিয়ার তালিবুল ইলমরা পুনরায় মূল্যবান নসিহত শুনার তাওফিক পাওয়া এদারার মাকবুলিয়াতের প্রমাণ বহন করে। হযরত পালনপুরি রহ. এক প্রতিষ্ঠানে অতিথি হয়ে একদিনে দুবার নসিহত পেশ করেছেন এর নজির মেলানো বাহুত কঠিন।

বাদ ফজর বয়ানের পর জামিয়ার মেহমানখানায় হালকা নাস্তা করেন। বিদায় বেলায় হযরত পালনপুরি রহ. নিজ দস্ত মোবারকে বুখারি শরিফের ব্যাখাগ্রন্থ তুহফাতুল কারি ১ম খণ্ড এবং ইলমি খুতুবাত নামক দুটি মূল্যবান কিতাব আমার হাতে হাদিয়া স্বরুপ তুলে দিলেন এবং বললেন ‘তুমহারে আন্দর এক খুবি হ্যায়, বড়াঈ নেহি হ্যায়, দোয়া করতা হু আল্লাহ তুজসে কাম লে’; মর্মার্থ হলো যে, তোমার মাঝে একটি গুণ রয়েছে, অহংকার নেই, দোয়া করি আল্লাহ তোমাকে দ্বীনের খেদমত করার তাওফিক দান করেন। এই বলে হযরত পালনপুরি রহ. গাড়িতে চড়লেন এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে হযরতকে বিদায় দিলাম। বিদায়ের সময় হজরত পাজামার পকেট না রাখতে নসিহত করলেন সবাইকে। বললেন, ‘মাওলানা ফয়সালকেও বলেছি। আকাবীরগণ পাজামায় পকেট রাখতেন না। এটা শোভন দেখায় না। আপনারাও রাখবেন না।’

গত ২৫ রমজানুল মোবারক, ১৪৪১ হিজরি, রোজ মঙ্গল বার চাশতের সময় হযরত পালনপুরি রহ. চলে গেলেন মওলার ডাকে লাব্বায়েক বলে ।আজ হযরতের সেই স্মৃতিরগুলোর কথা বার বার মনের গহিনে জাগ্রত হচ্ছে। চলে গেলেন আমাদের ইয়াতিম করে। তার বিদায়ে ইলমি যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা অপূরণীয়। তিনি তো ছিলেন শায়খুল হিন্দ, মাদানী, থানবি, কাশ্মীরি প্রমুখ কীর্তিমান মহান আকাবিরদের ইলমি-আমলি সিলসিলার যোগ্য উত্তরসূরি এবং ইলমি জগতের এক অদ্বিতীয় মহান ব্যক্তি।

আমরা আইনি, আসকালানি, কাসতাল্লাানি রাহ.-কে দেখিনি। কিন্তু আল্লামা মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরি রাহ.-কে দেখার ও অধ্যায়ন করার তাওফিক হয়েছে। তিনি ছিলেন বাস্তবে এ যুগের আইনি, আসকালানি, কাসতাল্লানি। তার দরসের তাকরির সম্বলিত বুখারি ও তিরমিযির ব্যাখ্যা গ্রন্থদ্বয় পড়েই পাঠকগণ তার স্বীকৃতি দেবেন। তিনি ছিলেন শাহ ওলী উল্লাহ রাহ.-এর দর্শনের বাস্তবিক বিশ্লেষক। এ জন্য হযরত শাহ সাহেব রাহ.-এর বিশ্ব বিখ্যাত গ্রন্থ হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগার সমাদৃত ব্যাখ্যাগ্রন্থ রাহমাতুল্লাহিল ওয়াসিআ লেখার সৌভাগ্য অর্জন করেন তিনি। হযরত পালনপুরি রাহ.বলেছেন, ‘যে আয়াতের আলোকে শাহ সাহেব রহ. কিতাবটির নাম হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা নাম করণ করেছেন, আমি সেই আয়াতের আলোকে তার ব্যাখ্যা গ্রন্থের নাম করণ করেছি রাহমাতুল্লাহিল ওয়াসিআ’।

আমার জন্য হযরতের হাদিয়া ‘তুহফাতুল কারী’ বড় প্রাপ্তি ছিল । ঐ বছর আমি দরসে ছাত্রদের সামনে বুখারি শরিফ ১ম খণ্ড নিয়ে বসার তাওফীক পেয়েছিলাম। হযরতের মতো মহান ব্যক্তি আমার মত গুনাগারকে কিতাব হাদিয়া দেয়া অনেক বড় খুশকিসমতের ব্যাপার। দোয়া করি মহান রব্বে কাবা হযরতকে জান্নাতের আলা মাকাম দান করেন। আমাদেরকে তাদের আদর্শ মোতাবেক চলার তাওফিক দান করুন। আমীন।

লেখক: মুহাদ্দিস, দারুল উলুম মাদানীনগর মাদরাসা