হাইআতে লালখান বাজারের পরীক্ষা-স্থগিতের সিদ্ধান্ত, যেভাবে মুকাবেলা করবে মাদরাসা-কর্তৃপক্ষ

রাগিব রব্বানি

চট্রগ্রামের লালখান বাজার মাদরাসার মুহতামিম মুফতি ইজহারুল ইসলাম তাবলিগের বিতর্কিত মুরব্বি সাদ কান্ধলভির পক্ষাবলম্বন করে বক্তব্য প্রদান করায় সম্মিলিত কওমি শিক্ষাবোর্ড হাইআতুল উলয়া মাদরাসাটির তাকমিল জামাতের পরীক্ষা স্থগিত করেছে। হাইআ বলছে, মুফতি ইজহার তাঁর বক্তব্য থেকে সরে না এলে এবং জমহুর উলামায়ে কেরামের সঙ্গে একাত্ম না হলে তাঁর মাদরাসার পরীক্ষা হাইআর অধীনে নেওয়া হবে না।

কিন্তু লালখান বাজার মাদরাসার কর্তৃপক্ষ বলছে, ইজহার সাহেবের বক্তব্য এবং সাদ কান্ধলভির পক্ষে অবস্থান একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত, এর সঙ্গে মাদরাসা-কর্তৃপক্ষ এবং মাদরাসার ছাত্র-উস্তাদ কারোরই কোনো সম্পর্ক নেই। মাদরাসার সবাই জমহুর ওলামায়ে কেরামের পক্ষে আছেন এবং ওলামায়ে কেরামের সমস্ত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তাঁরা আস্থার সঙ্গে একমত।

মাদরাসা-কর্তৃপক্ষ আরও বলছেন, তাঁদের এই অবস্থান আগে থেকেই বারবার তাঁরা পরিস্কার করে আসছেন, তারপরও হাইআ তাঁদের মাদরাসার পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করায় তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন। এদিকে হাইআ কর্তৃপক্ষ বলছে, হাইআকে ইতিপূর্বে কেউ অফিসিয়ালিভাবে এ ব্যাপারে অবগত করেনি। তাছাড়া জমহুর ওলামাদের পরিচালিত বোর্ড হাইআর অধীনে তাঁদের চিন্তা-চেতনার বিপরীত-মেরুর কোনো আলেমের পরিচালিত মাদরাসা থাকতে পারে না, এ দিক বিবেচনা করেই লালখান বাজারের পরীক্ষা তাঁরা স্থগিত করেছেন।

লালখান বাজার মাদরাসা এ বিষয়ে এখন কী পদক্ষেপ নেবে, তারা কি হাইআতে এসে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করবে? জানতে চেয়েছিলাম মাদরাসাটির নির্বাহী পরিচালক ও মুফতি ইজহার সাহেবের ছেলে মুফতি হারুন ইজহারের কাছে। তিনি জানান, হাইআতের এই সিদ্ধান্ত অফিসিয়ালিভাবে এখনও আমাদের জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যম মারফত আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। আসলে আমরা এখানে ষড়যন্ত্রের শিকার। হাইআ বলুন, বেফাক বলুন আর হেফাজত বলুন, এসবের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছাকাছি থাকা বড় একটা গ্রুপ আছে, যারা এই ষড়যন্ত্রের মূল চাবিকাঠি ঘোরাচ্ছে।

কিন্তু হাইআর গতকালের বৈঠকে উপস্থিত থাকা একাধিক নেতা তো জোর দিয়ে বলেছেন, হাইআর শীর্ষ নেতৃত্বের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমেই আপনাদের মাদরাসার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে! এমন কথার জবাবে মুফতি হারুন ইজহার বলেন, গতকাল যাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে আল্লামা আবদুল কুদ্দুস তো আমার আব্বার সরাসরি ছাত্র। তিনি কীভাবে উসতাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন? তাছাড়া হাইআ ও বেফাকের যে কমিটি, বিশেষত বেফাকের যে বিশেষ কমিটি, সে ব্যাপারে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের অনাস্থা আছে। এমন কমিটির সিদ্ধান্তকে আমরা স্বৈরতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছি।

লালখান বাজার মাদরাসা-কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেবে, তারা হাইআর সঙ্গে বোঝাপড়া করে কি বিষয়টির সুরাহা করবে? জানতে চাইলে মুফতি হারুন ইজহার বলেন, হাইআ তো আমাদের জানায়ই নি তাদের সিদ্ধান্ত। জানালে না আমরা তাদের কাছে গিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করব? আমরা আসলে এখন বেফাক ও হাইআতে যে স্বৈরতন্ত্র চলছে, এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবো। বাংলাদেশের অসংখ্য আলেম এই কমিটির ব্যাপারে অনাস্থাবান। আমরা তাঁদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে নামব। প্রয়োজন হলে আইনিভাবে এসবের মুকাবেলা করব।