হুমাইরা—দিলরুবায়ে সারওয়ারে কায়েনাত (১ম পর্ব)

সুমাইয়া মারজান:

সে যে এক মরুগোলাপের গল্প

মক্কা নগরী। দিগন্তবিস্তৃত ধু ধু মরুভূমি। নীল আকাশ ছুঁয়ে আছে ধূসর মরুপ্রান্তর। চারদিকে বালি আর বালি। মরুভূমির খোলা প্রান্তরে ধূলিকণারা রোদে চিকমিক করছে। বালুকাময় এই মরুপ্রান্তরের মাঝে মাঝে মক্কাবাসীর খেজুর বাগান। সারি সারি খেজুর গাছ লাগানো বাগানগুলো দেখতে খুবই মনোরম। একটা শীতল বাতাস ঘুরে বেড়াচ্ছে খেজুর পাতার ফাঁকে ফাঁকে। বাতাসে দোল খেয়ে খেজুরপাতা তিরতির করে নড়ছে। গাছের পাতায় রোদের খেলা। সুন্দরম এক প্রহর। হলুদাভ রোদে ঝলমল করতে থাকা প্রাচীন শহরটিতে তখন প্রায় দ্বিপ্রহর। ছায়াঘেরা খেজুর বাগানে বসে খেলছে একটি বালিকা। তার সখীদের নিয়ে। তাদের হাসিকল্লোল্লে মুখরিত হয়ে আছে খেজুর বাগান। বালিকার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন কয়েকজন যুবক। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের উপর সদ্য নাজিল হওয়া আয়াত মুখস্থ করতে করতে। একটু উচ্চস্বরেই তেলাওয়াত করছিলেন তারা। খেলায় মত্ত থাকা বালিকার কান তা এড়ালো না। তার কানে বাজলো সূরা ক্বামারের ৪৬ নম্বর আয়াতখানি।

بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَىٰ وَأَمَرُّ—

(বরং কেয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং কেয়ামত ঘোরতর বিপদ ও তিক্ততর।)

শোনার সাথে সাথে মুখস্ত হয়ে গেলো তার। আয়াত মুখস্ত করে বালিকা দৌড়ে ঘরে গেলো। বাবাকে বললো আয়াতের কথা। বললো—বাবা আয়াতখানি আমার মুখস্থ হয়ে গেছে। শুনিয়েও দিলো। যা কয়েকজন যুবক উচ্চস্বরে ঢুলে ঢুলে পড়ে তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।

গোলাপের জন্মকথন

বালিকার পিতা কন্যার স্মৃতিশক্তির এমন প্রখরতা দেখে বিস্ময়াভিভূত হয়ে গেলেন। আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে গেলো মন। স্নেহের কন্যাকে জড়িয়ে ধরেন। শুকরিয়া আদায় করেন মহান রবের।

বিস্ময়কর এ বালিকার নাম আয়েশা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের প্রিয়ভাজন হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কনিষ্ঠ কন্যা। কন্যার দিকে তাকিয়ে বিস্ময়াভিভূত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর মনে পড়লো কন্যার জন্মের সময়ের কথা। ৬১৪ ঈসায়ী সনের জুলাই মাসের হলুদ সর্ষের মতো ঝলমলে রৌদ্রজ্জল, সুন্দর এক দিনে তার এ কন্যার জন্ম। উম্মে রুমান বিনতে আমিরের গর্ভে। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু শখ করে নাম রাখেন আয়েশা। যার অর্থ সুখী জীবনযাপনকারিনী। সচ্ছল, সমৃদ্ধশীল। পিতার দিক থেকে তার ও মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের বংশ এক বংশ। আয়েশা বিনতে আবু বকর সিদ্দীক ইবনে আবু কুহাফা ইবনে উসমান ইবনে আমের ইবনে উমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তাইম ইবনে মুররা ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক।

মায়ের দিক থেকে তার বংশধারা হলো—আয়েশা বিনতে উম্মে রুমান বিনতে আমের ইবনে উয়াইমের ইবনে আবদে শামস ইবনে ইতাব ইবনে উযাইনা ইবনে সাবি ইবনে অহমান ইবনে হারিস ইবনে গুনাইম ইবনে মালিক ইবনে কিনানা। আয়েশা বিনতে আবু বকর সিদ্দিক তাই পিতার দিক থেকে কুরাইশিয়া তাইমিয়া। মায়ের দিক থেকে কিনানিয়া। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ও তার বংশকুলের ধারা পিতার দিক থেকে সপ্তম বা অষ্টম পুরুষে মিলিত হয়। আর মায়ের দিক থেকে মিলিত হয় একাদশ বা দ্বাদশ পুরুষে।

রঙিন মখমল দিনগুলো

আবু বকর তনয়ার অসাধারণত্ব প্রকাশ পেয়েছিলো শিশুকাল থেকেই। তার আচার-আচরণ, মেধার প্রখরতা, চিন্তার গভীরতা, চোখেমুখে বুদ্ধিদীপ্ততার ছাপ থেকেই বুঝা যেতো এই বালিকা একদিন মহান ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠবেন। হয়েছিলেনও তাই। অর্জনের আঁকিবুকিতে সমৃদ্ধ ছিল তার জীবনের খেরোখাতা।

অসাধারণ এই মরুমহিয়সীর শৈশবও ছিলো বেখেয়ালী, আত্মভোলা এক মধুর শৈশব। চঞ্চলা, চপলা, উচ্ছল ছোট আয়েশাপাখিটাও উড়ে বেড়াতেন প্রজাপতির মতো। খেলাধুলা-প্রিয় তার অনেকগুলো সখী ছিল। যাদের সাথে দলবেঁধে ছোট আয়েশাপাখিটা খেলতেন। দোলনায় দোল খেতেন। পুতুলবিয়ে খেলতেন। দোলনায় দোল খাওয়া, আর পুতুলবিয়ে ছিল তার সবচে প্রিয় খেলা। বিয়ের পরেও বেশ কিছুকাল পর্যন্ত সখীদের সাথে খেলাধুলা করতেন। কারণ বিয়ে তো হয়েছিলো রঙিন মখমল শৈশবেই। যে বয়সটা খেলাধুলা আর প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ানোর। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষটির প্রিয়তমা হলেও খেলাধুলা বাদ পড়েনি তার। কারণ মনটা তো এখনও সেই চপলা হরিণীর মতোই রয়ে গেছে। নবীজি তাই খুব করে বুঝে নিতেন ছোট্ট বঁধূয়ার ফড়িঙের মতো মনখানি। যে মনটি হেসেখেলে বেড়ায় ফুলের সাথে, পাখির সাথে, রঙবেরঙের প্রজাপতির সাথে। ঘাসে-ঘাসে, বুনো ফুলের লতায়-পাতায়। মরুদ্যানে লুটিয়ে পড়া উদ্দাম হিল্লোলে। তার উচ্ছলতা, কিশোরীমনের চপলতাকে নবীজি অবহেলা করতেন না মোটেও। নবীজির কাছে প্রশ্রয় পেতো তার শিশুমনের সকল আবদার। বিয়ের পরেও আয়েশাপাখির সখীদের নিয়ে দিনমান খেলা আর চঞ্চলতাকে উম্মে রুমান খুব একটা পছন্দ করতেন না। মেয়েকে বলতেন তার অবস্থানের কথা। দোজাহানের সর্দারের স্ত্রী হওয়ার কথা। বুঝাতেন রাসুলের সহধর্মিণী হওয়ার গুরুদায়িত্বের কথা। নবীজি বিষয়টি খেয়াল করে উম্মে রুমান রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলে দিয়েছিলেন অন্তত আমার খাতিরে হলেও তাকে কিছু বলো না। একদিন মা রেগে গিয়ে বকাঝকা করলেন। মন খারাপ করে দরজার কপাট ধরে কাঁদছিলেন অভিমানিনী। নবীজি এসে দেখলেন প্রিয়ার মন ভার। নবীজির মনটাও কেমন করে উঠলো যেন। উম্মে রুমানকে অভিযোগের সুরে বললেন—তুমি আমার কথাটা রাখলে না! উম্মে রুমান রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন—আল্লাহর রাসুল! সে তার বাবার কাছে আমার নামে নালিশ দেয়। নবীজি বললেন সে যা-ই করুক। তুমি তাকে বকো না। তাকে তার মতো থাকতে দাও।

যদিও তার বয়সটা ছিল শিশুর। খেলাধুলায় মত্ত থাকার দিন। তিনি তা তো করতেনই। সাথে খেলাচ্ছলে প্রকাশ হতো তার বুদ্ধিদীপ্ততা, চিন্তার অনন্যতা ও মেধার প্রখরতা। একবার আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সখীদের নিয়ে বাড়ির আঙিনায় পুতুল খেলছিলেন। এসময় নবীজি তাদের বাড়িতে আগমন করলেন। তার খেলার পুতুলগুলোর মধ্যে একটি পাখাওয়ালা ঘোড়াও ছিল। ঘোড়ার পাখা দেখে নবীজি জিজ্ঞেস করলেন—আয়েশা! ঘোড়ার পাখা হয় নাকি? বুদ্ধিমতী ছোট আয়েশা জবাব দিলেন কেন হতে পারে না? সুলাইমান আলায়হিস সালামের ঘোড়ার তো পাখা ছিল। তার এমন বুদ্ধিদীপ্ত জবাব শুনে নবীজি হেসে ফেললেন। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা পরে এ ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন—আমি সেদিন নবীজির হাসিতে তার ঝলমলে দাঁতের মাড়িও দেখতে পেয়েছিলাম।

সুবাস ছড়ানো পুষ্প

আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন প্রথম কাফেলার মুসলমান। তার কুটিরেই সর্বপ্রথম ইসলামের আলো পড়েছিলো। তাই আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন আপাদমস্তক পবিত্রসত্তায় মোড়ানো। জন্মলগ্ন থেকে পরিবারকে মুসলমান হিসেবে পাওয়ায় তাকে আর নতুন করে ইসলামের দীক্ষা নিতে হয়নি। পিতা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বংশবিদ্যা ও কাব্যজ্ঞানে পারদর্শীতার কারণে সারা কুরাইশে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাই ওইসব জ্ঞানও যেন তার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু শিষ্টাচারের ব্যাপারে ছিলেন খুবই সচেতন। তাই তিনি সন্তানদের কঠোর তরবিয়াতের মাধ্যমে বড় করেছেন। নবীজির সান্নিধ্যে এসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার জ্ঞান পরিপূর্ণ হয়েছিলো ষোলকলায়। নবীজীবনের অনিন্দ্য সৌন্দর্যের পরশপাথরের ছোঁয়ায় আয়েশা রাদিয়াল্লাহু পরিণত হয়েছিলেন খাঁটিসোনায়। জ্ঞানের স্বরূপ ও জীবনে মহিমান্বিত হবার পথের দেখা পেয়েছিলেন তিনি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি সাল্লাম নিজে তাকে কোরআন পড়তে শিখিয়েছেন। দিনরাতের পুরোটা সময়ই তিনি রাসুলের নিকট থেকে জ্ঞানার্জন করতেন। নবীজির থেকে শুনে শুনে। তাকে প্রশ্ন করে। তাকে দেখে দেখে। ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি ইতিহাস, চিকিৎসা বিদ্যায়ও তিনি পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন। নবীজীর সকল তালীম, এরশাদ ও যাবতীয় মজলিস অনুষ্ঠিত হতো মসজিদে নববীতে। আর মসজিদে নববী ছিলো তার ঘরের সাথে লাগানো। তিনি সবগুলো মজলিসে ঘরে বসে পর্দার আড়াল থেকে শরীক হতেন। দূরত্বের কারণে কোন কথা বুঝতে অসুবিধা হলে পরে নবীজিকে প্রশ্ন করে জেনে নিতেন। জ্ঞানার্জনে ছিল তার প্রবল আগ্রহ। নবীজি থেকে বিভিন্নসময়ে যে কোন মাসআলা প্রশ্ন করে জেনে নেওয়া ছিল তার অভ্যাস। স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ক্ষান্ত হতেন না। সাহাবিয়াদের সাপ্তাহিক তালিম তালকিনের বৈঠক থেকেও নানানবিষয়ের জ্ঞানার্জন করতেন।

স্বপ্নে দেখা প্রেম

নবুওয়াতের দশম বছর তখন। সমস্ত মাখলুকাতের সান্ত্বনার আধার যে মহামানব তার মন ভারাক্রান্ত ,ব্যাথিত। শোকের আঘাতে জর্জরিত তার কোমলপ্রাণ। রাতে ঘুমাতে গিয়ে বুকটা কেমন হাহাকার করে শূন্যতায়। অলক্ষ্যে দুফোঁটা অশ্রুও গড়িয়ে পড়ে। দুনিয়ার কেউ দেখে না। কেউ জানে না। বুঝে না তার মনের ব্যথা। হৃদয় অলিন্দে বয়ে যাওয়া শূন্যতার ঝড়। তার মনের ভেতর চলা মরু সাইমুমের কারণ তার প্রাণের প্রিয়া গত হয়েছেন কিছুদিন। আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন তার দুঃসময়ের সাথী। কষ্টের ভাগীদার।

সারাদিন দাওয়াতের কাজে কাটে। দিনশেষে ঘরে ফিরে দেখেন নিষ্ঠুর শূন্যতায় হাহাকার করছে তার ঘর। যেদিকেই তাকান কেবল খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার স্মৃতি চোখে ভাসে জীবন্ত জলছাপ হয়ে। মনের মধ্যে বেজে উঠে বিষাদের করুণ একটা সুর। খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার অন্তিম প্রয়াণের শোকে তার মন বেদনায় ভারাক্রান্ত। চোখ বুজলেও দেখতে পান প্রিয়াকে। স্মৃতির সাগরে হাতড়ে বেড়ান। অশান্ত মন নিয়ে। বুক ভরা কষ্ট আর শূন্যতা নিয়ে ক্লান্ত দেহে সঁপে দিলেন ঘুমের কোলে। চোখের কোণে যেন বেদনার অশ্রু।

ঘুমের ঘোরে স্বপ্নে দেখেন এক ঐশীদূত। তার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন ঠোঁটে একটুখানি হাসির ঝিলিক মেখে। হাতে কী যেন একটা! ফেরেশতা দেখালেন রেশমি রুমাল। কী আছে তাতে? জিজ্ঞেস করলেন রহমতের নবী। ফেরেশতা মিষ্টি হেসে বললেন, আপনিই দেখুন না খুলে। কিছুটা দ্বিধা সংশয় যেন মনে। ফেরেশতা অভয় দিলেন। মনের দ্বিধা – সংশয় ঝেড়ে খুলে দেখলেন রেশমি রুমাল। কী আছে তাতে? চোখের সামনে ভালো করে মেলে ধরতেই দেখা গেল তাতে এক বালিকার মায়াবী মুখচ্ছবি। বালিকাটি তার খুব চেনা। তার প্রিয় বন্ধু আবু বকরের কন্যা। আয়েশা বিনতে আবুবকর রাদিয়াল্লাহু আনহা।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম কিছুটা অবাকই হলেন! জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন ঐশীদূতের মুখের দিকে। ফেরেশতা হেসে বললেন, এই ভাগ্যবতীই হবেন আপনার প্রিয়তমা। আপনার হৃদয়েশ্বরী। দোজাহানে। অবাক বিস্ময়ে নবীজির মুখ থেকে কথা সরলো না যেন। বিস্ময় কাটিয়ে ওঠার আগেই ঐশীদূত হাওয়ার মতো মিলিয়ে গেলেন। নবীজির ঘুম ভেঙে গেলো। কী দেখলাম স্বপ্নে! একটা ভাবনা যেন গেঁথে গেলো মাথায়। দিনের বেলা স্বাভাবিকভাবে সবকিছু করলেও নবীজির বারবার মনে পড়ছে স্বপ্নের কথা। মনের ভেতর সংশয়। এ কী করে সম্ভব! এইটুকুন একটা মেয়ে! সারাদিন হইচই আর হুল্লোড়ে কাটায়। দিনমান পুতুল খেলা আর দোল খাওয়াতেই কাটায় সময় ! সে আমার জীবনসঙ্গিনী হবে! কী বুঝবে সে সংসারের? ভালোবাসার কতটুকু বুঝবে সে..!

কারো কাছে নবীজি তা-ই স্বপ্নের কথা প্রকাশ করলেন না। চেপে রাখলেন মনে। দেখি শেষতক কি হয়!

দ্বিতীয় রাতে আবারো সেই স্বপ্ন। অদৃশ্যালোকের কণ্ঠে যেন ধ্বনিত হলো “আপনার জীবনসঙ্গিনী,আপনার অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে তাকে। এই ছোট বালিকাই আপনার হৃদয়ের ক্ষতে লাগিয়ে দেবে প্রেমের মলম। খাদিজার শোক ভুলিয়ে দেবে ভালোবাসার শীতল পরশ দিয়ে।

এবারও নবীজি কারো কাছে কিছু বললেন না। মনের ভেতর লুকিয়ে রাখলেন স্বপ্নের কথা। ভেবে কূল পাচ্ছেন না। এ কি সত্যিই মহান রবের পক্ষ থেকে কোন অদৃশ্য ইঙ্গিত না কেবলমাত্র স্বপ্নই! কিন্তু তা তো হবার কথা না। ফেরেশতার মাধ্যমে তাকে দেখানো হয়েছে। বিষয়টি তাকে ভাবাচ্ছে খুব।

তৃতীয় রাতে আবারও ঘুমের ঘোরে সেই ঐশীদূত। সেই আগের কথা। আগের ছবি। রেশমি ঝালরওয়ালা দোপাট্টার ভেতর চঞ্চলা বালিকার মায়াবী মুখচ্ছবি।

আজকের স্বপ্ন দেখার পর নবীজির মন থেকে কেটে গেল সৃষ্টিগত সব দ্বিধা-সংশয়। মনের গহীনে স্পষ্টভাবে যেন কেউ বলে উঠলো, হ্যাঁ! এই মায়াবী,নিষ্পাপ মুখাবয়বের অধিকারিনীই হবে আমার জীবনসঙ্গিনী। আমার দিলরুবা। আমার মেহবুবা!

আর এটা নিশ্চয়ই আল্লাহর ফায়সালা। আমি সাদরে গ্রহণ করে নিলাম মহান রবের এ পয়গাম।

তথ্যসহায়িকা:

১.সহীহ বুখারী।
২.সহীহ মুসলিম।
৩.আবু দাউদ।
৪.মুসতাদরাকে হাকীম।
৫.তাবাকাতে ইবনে সাদ।
৬.মিশকাতুল মাসাবীহ।

বিজ্ঞাপন