মুসান্না মেহবুব :
ওয়াজ মাহফিলের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। সেকুলার ও নাস্তিক শ্রেণি একাট্টা হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত দীনি দাওয়াতের এ ধারাকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে মাহফিলগুলোর আলোচক ও আপামর শ্রোতামণ্ডলিকেও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে।
অনলাইনে সেলিব্রিটি পর্যায়ের নাস্তিক ও সেকুলার অ্যাক্টিভিস্টদের প্রত্যেকেই ওয়াজ মাহফিল নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে সমানতালে। তাদের ভাষ্য, ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ‘পেছনের দিকে’ ঠেলে দিচ্ছেন এ দেশের ওলামায়ে কেরাম।
শুধু অপপ্রচার চালিয়ে ক্ষ্যান্ত নয়, ওয়াজ মাহফিলে প্রদত্ত বক্তব্যগুলোকে নানাভাবে কাটছাট করে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে তারা। একই সঙ্গে ওয়ায়েজিন আলেমদের নামেও নানা ধরনের বানোয়াট অভিযোগ উত্থাপন করছে।
সেকুলার ঘরানার অ্যাক্টিভিস্টদের বড় একটি অংশ সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ও বহুল সমাদৃত একজন বক্তাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি প্রতি মাহফিলে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা ‘ইনকাম’ করেন বলেও ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ইউটিউবে ওয়াজ প্রচার করে মাসে ১০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত তিনি আয় করছেন বলেও দাবিও করছে তারা। কিন্তু এসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ কেউই দিতে পারছে না।
বক্তা আলেম ছাড়াও দেশের আপামর জনতাকে এসব ওয়াজ মাহফিলগুলোতে অংশগ্রহণের কারণে তারা নানাভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে। সরলপ্রাণ এসব মানুষ সম্পর্কে তারা নানা ধরনের কটাক্ষমূলক কথার অবতারণা করে প্রতিনিয়ত।
জার্মানিতে বসবাসকারী বহুল সমালোচিত এক উগ্র নাস্তিক সম্প্রতি তার ফেসবুক টাইমলাইনে ওয়াজে অংশগ্রহণকারী আপামর জনসাধারণ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘এসব ওয়াজে যারা যায় তারা পাগলের মত নাচানাচি করে। মাঝে মাঝে আকাশবাতাস কাঁপিয়ে হুঙ্কার দেয়। এত লক্ষ লক্ষ নেশায় আসক্ত মানুষের মত এরা প্রতিদিন অসংখ্য সাম্প্রদায়িক, নারী বিদ্বেষী, কুৎসিত, জঘন্য, অশ্রাব্য, অসভ্য, অবৈজ্ঞানিক এবং মিথ্যা কথা শুনে ছোভানাল্লাহ বলে চিৎকার দেয়। এরকম লোকেদের দিয়ে যেকোন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটিয়ে নেয়া যায়। একটা কথাই আছে, বিশাল পরিমান নির্বোধ জনগোষ্ঠীর ক্ষমতাকে তাচ্ছিল্য করো না। তারা যত নির্বোধ, তার চেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর।’
এ ছাড়া ইউটিউবে প্রচারিত ওয়াজগুলো যারা শোনেন, তাদেরকেও নিতান্ত তুচ্ছ ভাষায় হেয় করে নাস্তিক ও সেকুলার ভাবাপন্ন এই শ্রেণিটি। ইউটিউবের শ্রোতাদের সম্পর্কে বিষোদগার করতে গিয়ে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক শ্রেণির লোকজনকেও নিতান্ত তুচ্ছতার সঙ্গে ম্যানশন করে থাকে তারা।
সেকুলার পরিচয়দানকারী একজন উগ্র অ্যাক্টিভিস্ট অনলাইনে ওয়াজ শ্রবণকারীদের সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেছেন, ‘আজহারী (মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী) এক ওয়াজে ফেসবুকরে হালাল বইলা ফতোয়া দিছেন। ফেসবুকিংও ইবাদত। সেইখানে তিনি আহবান জানাইছেন ওয়াজের ভিডিওতে লাইক দিতে, শেয়ার দিতে। তাইলে সওয়াব পাইবেন। আমাদের মুমিনরা বিশেষ কইরা মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ার কামলা ভাইরা এই ইবাদতে দিনরাত মশগুল। সেই হাইপে ইদানিং যোগ দিছে দেশীরাও। বিনিময়ে আজহারির মনিটরি একাউন্টগুলায় প্রতি ১০০ ক্লিকে এক ডলার কইরা ঢুকতেছে।’
ইউটিউব এবং ফেসবুকে নাস্তিক ও সেকুলার শ্রেণির এমন আরও অনেক তাচ্ছিল্যতাপূর্ণ মন্তব্য আছে এ দেশের সাধারণ নাগরিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে। ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ এবং অনলাইনে ওয়াজ শোনার জন্যই কেবল এই ধরনের তাচ্ছিল্যতার শিকার হন সরলপ্রাণ এসব মানুষ।
