আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামি বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি এখানে সাধারণ বিষয়গুলোও পাঠদান করা হয়। তাই বেশির ভাগ মুসলিম অভিভাবক সন্তানদের এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন।
‘অস্ট্রেলিয়ান কারিকুলাম অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড রিপোর্টিং অথরিটি’র ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-সংখ্যা ছয় গুণ বেশি বেড়েছে। ভিক্টোরিয়ার ইসলামি বিদ্যালয়গুলোতে গত ১০ বছরে ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বেড়েছে। ২০১০ সালে রাজ্যটির ৮টি ইসলামি প্রতিষ্ঠানে ৬ হাজার ৬৮৪ জন শিক্ষার্থী ছিল। ২০১৮ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে ১২ হাজার ৩১৮-তে উন্নীত হয়।
গেল আট বছরেই ভিক্টোরিয়ার ইসলামি বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রসংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ায় নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। ‘আত-তাকওয়া কলেজ’ নামে পরিচিত এসব বিদ্যালয় একটি কর্তৃপক্ষের অধীনে ১৯৮৬ সাল থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভিক্টোরিয়ার ট্রোজানিনায় এর প্রধান কার্যালয়। এটিই অস্ট্রেলিয়ার সর্ববৃহৎ ইসলামি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
‘অস্ট্রেলিয়ান কারিকুলাম অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড রিপোর্টিং অথরিটি’ পরিচালিত ‘মাইস্কুল’ সাইটে বলা হয়, ভিক্টোরিয়ার ‘ইলম কলেজ’ নামে পরিচিত ইসলামি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। ২০১০ সালে ১১০২ জন শিক্ষার্থী থাকলেও ২০১৮ সালে তা ২৩৪০ জনে উন্নীত হয়।
ইলম কলেজের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা কারিম বাওয়াদাই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ইসলামি মূল্যবোধ ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে আমাদের প্রতিষ্ঠান সদা সচেষ্ট। অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ কারিকুলামের আলোকেই আমরা সিলেবাস প্রণয়ন করেছি। তবে ইসলামি বিষয়গুলোও আমরা পাঠ্যভুক্ত করেছি। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আমাদের রয়েছে গভীর যোগাযোগ ও শক্তিশালী বন্ধন। আমাদের স্কুলের সব শিক্ষার্থীই জোহরের সময় মসজিদে এসে নামাজ আদায় করে। এতে তারা ধর্মপালনে উদ্বুদ্ধ হয়। প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম হলেও অমুসলিমদের ভর্তির সুযোগ আমরা রেখেছি।’
ভিক্টোরিয়া ইসলামিক কাউন্সিলের সহসভাপতি আদিল সালমান বলেন, ‘ইসলামি মূল্যবোধে গড়ে তুলতে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের ইসলামি বিদ্যালয়গুলোতে পাঠাচ্ছেন।’
