
ফাতেহ ডেস্ক:
ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে বাংলাদেশ সরকারের কেনা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা ‘কভিশিল্ড’ বাংলাদেশে আসছে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দেশের বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও সেরাম ইনস্টিটিউটের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির তিন কোটি টিকার প্রথম চালান ৫০ লাখ টিকা আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
টিকা আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেক্সিমকোর মার্কেটিং বিভাগের পরিচালক রিজভি উল কবির। তিনি গতকাল রবিবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামীকাল (আজ সোমবার) বেলা সাড়ে ১১টায় এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ বিমানে বাংলাদেশে এই টিকা আসবে। আমরা টিকা আসার খবরটি সরকারকে জানিয়েছি। আগামীকাল বিমানবন্দরে বেক্সিমকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে টিকা গ্রহণ করবেন।
এর আগে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক অনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ভারত থেকে সরকারিভাবে কেনা ৫০ লাখ টিকা আজ সোমবার দেশে আসছে বলে জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল (২৫ জানুয়ারি) চুক্তি অনুযায়ী আরও ৫০ লাখ ভ্যাকসিন দেশে আসবে। আগের উপহারের ২০ লাখসহ এই ৭০ লাখ ভ্যাকসিন রাখা ও বিতরণের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে।
পরে গতকাল রাতে রাজধানীর গুলশানের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন আজ টিকা আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রথম লটের ভ্যাকসিন যেহেতু আসছে, আমি নিজেই যাব এয়ারপোর্টে রিসিভ করতে। ভারতের মুম্বাই থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট সকাল ৮টায় রওনা হবে। আমাদের এখানে সাড়ে ১১টায় পৌঁছাবে। এয়ারপোর্ট থেকে ভ্যাকসিনগুলো বেক্সিমকোর টঙ্গীর ওয়্যারহাউজে নেওয়া হবে। এই ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য নতুন করে বিশেষভাবে এই ওয়্যারহাউজ তৈরি করা হয়েছে।
এই কর্মকর্তা বলেন, ভ্যাকসিন হাউজে স্টোর করার পর সেটার প্রতিটি ব্যাচের ড্রাগ টেস্ট হবে। ড্রাগ টেস্টের ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর সরকার যেভাবে বলবে, আমরা সেভাবেই ৬৪ জেলায় বিতরণ শুরু করব। সরকার বলার পর ৬৪ জেলার সিভিল সার্জনের কাছে আমরা ভ্যাকসিন পৌঁছে দেব। কিন্তু এখানে একটি মেজর বিষয় হচ্ছে— সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে শুরু করে এয়ারপোর্ট, তারপর আমাদের ওয়্যারহাউজ, সেখান থেকে সিভিল সার্জনের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত কোথাও কোল্ডচেইন ব্রেক হয়েছে কি না, সেটি আমাদের প্রমাণ করতে হবে। এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।
তারও আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আমরা যেটা টাকা দিয়ে কিনেছি, সেটা ২৫ বা ২৬ তারিখ এসে পৌঁছাবে। এই ভ্যাকসিন কীভাবে দেওয়া হবে, সব বিষয়ে পরিকল্পনা আমরা নিয়ে রেখে দিয়েছি। করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবিলায় সরকার সব ধরনের পদক্ষেপই নিয়েছে বলে সেদিন জানান প্রধানমন্ত্রী।
