
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আফগানিস্তানে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছে তালেবান। তবে সরকার গঠনে সকল পক্ষকে নিয়ে একটা ঐক্যবদ্ধ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে রাজি তারা। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ থাকলেও এর মূল ভিত্তি শরিয়ার ওপর রাখার ব্যাপারেও তারা আপোষহীন। কাতারের দোহায় অবস্থিত তালেবানদের রাজনৈতিক অফিসের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন এ কথা জানান।
দীর্ঘ এক বছর ধরে কাতারের মধ্যস্থতায় আমেরিকার সঙ্গে আফগানিস্তানের যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে এলেও আফগানিস্তানের বর্তমান পুতুল সরকারকে তালেবান স্বীকৃতি দেয়নি এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি এককভাবে কোনো ধরনের আলোচনায় যেতে তারা রাজি নয়।
আমেরিকার সাথে আলোচনার পর আফগান সরকারের সাথে তালেবানরা আলোচনায় বসবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শাহীন জোর দিয়ে বলেন, অবশ্যই তারা সকল আফগান পক্ষের সাথে আলোচনা করবেন। এদের মধ্যে আফগান প্রশাসনও থাকবে। তবে সেখানে তারা সঙ্ঘাত পরিস্থিতির একটা পক্ষ হিসেবে থাকবে, সরকার হিসেবে নয়।
তালেবান জানিয়েছে আমেরিকার সাথে চুক্তি হওয়ার পর তারা সকল আফগান গ্রুপকে সরকারে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাবে।
তালেবানদের রাজনৈতিক মুখপাত্র সুহাইল শাহীন বলেন, ‘অবশ্যই আফগানিস্তানে আমরা একটা ইসলামি সরকার চাই, যেখানে আফগানিস্তানের সবকয়টি পক্ষ ও জাতিগোষ্ঠি এবং সকল পর্যায়ের মানুষ অংশ নেবার সুযোগ ও আহ্বান থাকবে। তবে সরকারের মূল ভিত্তি হবে ইসলামি শরিয়াহ।’
এদিকে আফগান তালেবান সোমবার জানিয়েছে যে, কাতারের রাজধানী দোহায় চলমান আলোচনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটা চুক্তির কাছাকাছি চলে গেছেন তারা।
সুহাইল শাহীন বলেন, এ পর্যন্ত কোন পক্ষই চূড়ান্ত পর্যায়ে যায়নি, যদিও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আলোচনা শেষ হওয়ার আশা করছে উভয় পক্ষ।
শাহীন বলেন, ‘আমেরিকা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে রাজি হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে আফগান ইস্যু সমাধানের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।’
তবে কোন সময়ের মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার হবে, সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানদের মধ্যে নবম দফা আলোচনা শুরু হয়েছে কাতারের রাজধানী দোহাতে। আফগানিস্তানের দীর্ঘ যুদ্ধের ইতি টানার জন্য এই আলোচনা চলছে।
সূত্র : আনাদুলু
