ফাতেহ ডেস্ক :
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরই মধ্যে চার্জশিট লেখাও শেষ হয়েছে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে বুয়েটের ২৪ ছাত্রের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। তাদের সবাইকেই চার্জশিটভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
যেকোনো দিন আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলে তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অবশ্য অপর একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, সোমবার তদন্ত কর্মকর্তারা সংশ্নিষ্ট আইনজীবীদের নিয়ে চার্জশিট পর্যালোচনা করেছেন। আজ মঙ্গলবার তা আদালতে জমা দেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে এত বড় ঘটনায় চার্জশিট দেওয়ার আগে তদন্ত তদারকি কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর অনুমতি নিতে চান। কিন্তু পুলিশপ্রধান দেশের বাইরে থাকায় আজ চার্জশিট জমা দেওয়া নাও হতে পারে। ৭ নভেম্বর পুলিশপ্রধানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি ফিরলে ওই দিনই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হতে পারে।
চার্জশিটে যে ২৪ জনকে আসামি করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে ২১ আসামি কারাগারে রয়েছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৬ জন এবং এজাহারের বাইরে পাঁচজন আসামি রয়েছে। এজাহারভুক্ত তিন আসামি এখনও পলাতক।
তদন্ত-সংশ্নিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে এজাহারভুক্ত আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে অপর আসামিদের সম্পৃক্ততাও উঠে এসেছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দু’জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এর বাইরে তদন্ত কর্মকর্তারা বুয়েটের শিক্ষক, শেরেবাংলা হলের প্রভোস্ট, চিকিৎসক, নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্নজনের সাক্ষ্য নিয়েছেন। চার্জশিটে তাদের সাক্ষী হিসেবে রাখা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, চার্জশিটের সঙ্গে আলামত হিসেবে আবরারের রক্তমাখা জামা-কাপড়, মেসেঞ্জারে আসামিদের লিখিত যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত অন্যান্য যোগাযোগ, শেরেবাংলা হলের সিসিটিভি ফুটেজসহ ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামতও জমা দেওয়া হচ্ছে।
চার্জশিটভুক্ত আসামি হচ্ছে যারা: মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, অনিক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অমিত সাহা, মাজেদুল ইসলাম, মুজাহিদুর রহমান, তাবাখারুল ইসলাম তানভীর, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. জিসান, আকাশ হোসেন, শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, এহতেশামুল রাব্বি তানিম, মো. মোর্শেদ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, মুনতাসির আল জেমি, মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না এবং এস এম মাহমুদ সেতু। তাদের মধ্যে মুন্না, অমিত সাহা, মিজান, রাফাত ও সেতুর নাম এজাহারে ছিল না।
আসামিদের মধ্যে রাসেল ছিল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক, ফুয়াদ সহসভাপতি, অনিক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, রবিন সাংগঠনিক সম্পাদক, সকাল উপ-সমাজসেবা সম্পাদক, মনির সাহিত্য সম্পাদক, জিয়ন ক্রীড়া সম্পাদক, রাফিদ উপদপ্তর সম্পাদক, অমিত সাহা উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং তানিম, মুজাহিদুর ও জেমি সদস্য।
এখনও পলাতক যে তিনজন: তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামি মো. জিসান, মোর্শেদ ও এহতেশামুল তানিম এখনও পলাতক।
যে ৮ জন স্বীকারোক্তি দিয়েছে: এ মামলায় এজাহারভুক্ত আট আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা হলো নাজমুস সাদাত, ইফতি মোশাররফ, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অনিক সরকার, মুজাহিদুর রহমান, মেহেদি হাসান রবিন, তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর ও মনিরুজ্জামান মনির।
