
আন্তর্জতিক ডেস্ক:
মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। দেশটিতে আবার কে ক্ষমতায় আসছে তা নিয়ে চলছে জল্পনা কল্পনা। অং সান সু চিই কি পাচ্ছেন ক্ষমতা? নাকি হতে যাচ্ছে ক্ষমতার পালাবদল? এসব প্রশ্নই ঘুরে বেড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।
বিবিসি ও সিএনএন জানিয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে অং সান সু চির ‘জনপ্রিয়তা’ বিবেচনায় তার দল এনএলডি আবারও ক্ষমতায় আসবে।
এবারের নির্বাচনে ৯৩টি দল অংশ নিলেও, অং সান সু চি’র দল- এনএলডি এবং প্রধান বিরোধী- ইউএসডিপি সবচেয়ে জনপ্রিয়।
দেশটির ৫০ লাখ তরুণ ভোটার৷ ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি এনএলডি সরকার সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলন দমাতে শক্তি প্রয়োগ করেছিল৷ ফলে অল বার্মা ফেডারেশন স্টুডেন্টস ইউনিয়ন আসন্ন নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছে৷
মিয়ানমারে এই নির্বাচনে দেশটির প্রায় তিন কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচনে নব্বইটির বেশি দলের ছয় হাজার প্রার্থী ৬৬৪টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেনা-সমর্থিত ক্ষমতাসীন ইউনিয়ন সলিডারিটি ডেভেলপমেন্ট পার্টিও নির্বাচনের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিদ্বন্দ্বী দল।
তবে বিরোধী নেত্রী অং সান সুচির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে পার্লামেন্টে বিজয়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সরকার গঠন করতে হলে তাদের অবশ্যই দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেতে হবে। কিন্তু দেশটির সংবিধান অনুসারে নির্বাচনে সংসদীয় আসনের ২৫ শতাংশ সামরিক বাহিনীর জন্য সংরক্ষিত থাকছে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় রবিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। রাজধানী নেপিডোসহ সাতটি রাজ্য ও সাতটি অঞ্চলে একযোগে ভোট চলছে। সোমবার নির্বাচনের ফল পাওয়া যেতে পারে।
এবারের নির্বাচনে ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কিন্তু রাখাইন-শান-কাচিন-মন ও বাগো এলাকায় বাতিল করা হয়েছে ভোটগ্রহণ। এতে, ভোটাধিকার প্রয়োগ বঞ্চিত হচ্ছেন ১৫ লাখ মানুষ। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাখাইনের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তাই মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নির্বাচনকে ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে রাখাইন রাজ্যসহ ৫৬টি শহরে নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে না৷
রাখাইন ও চিন রাজ্যের আটটি শহরে ইন্টারনেট সংযোগ এরইমধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে৷ ফলে কেবল নির্বাচন নয়, করোনা নিয়ে তথ্য পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে গেছে এসব এলাকায়৷ ২০১৯ সালের ২১ জুন সরকার রাখাইন স্টেটের আটটি টাউনশিপে ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করে, যা এখনও বহাল রয়েছে৷
