আমরা ভুললেও তারা ভোলেনি, খ্রিষ্টান সন্ত্রাসীর বন্দুকে লেখা ছিল নব্যক্রুসেডের ইশতেহার

ছবি কৃতজ্ঞতা : মাওলানা আবদুল্লাহ আল ফারুক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে কমপক্ষে চারজন খ্রিষ্টান জঙ্গি দুটি মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন ৪৮ জন মুসল্লি। আরো একজন মারা যান হাসপাতালে।

হামলার ঘটনা ফেসবুকে লাইভ করেছিল হামলাকারীদের মূল হোতা ব্রেন্টন টারান্ট। অথচ হামলার ২০ মিনিট পর পর্যন্ত এ ব্যাপারে নীরব ছিল নিউজিল্যান্ড প্রশাসন। নিউজিল্যান্ডের মতো একটা উন্নত রাষ্ট্রে হামলাকারী লাইভ সম্প্রচার করে হামলা পরিচালনা এবং হামলার পর ২০ মিনিট পর্যন্ত প্রশাসনের নীরবতা জনমনে সন্দেহের উদ্রেক করেছে। তবে কি ইসলামোফোবিয়ায় আক্রান্ত এই লোকগুলোর বীভৎস এ হামলায় নিউজিল্যান্ড প্রশাসনের নীরব সমর্থন ছিল? সবার যৌথ পরিকল্পনায়ই কি সংগঠিত হলো এ গণহত্যা?

সৈয়দ মাজহারউদ্দীন নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলার সময় মসজিদের এক তরুণ খাদেম রুখে দাঁড়ান। ওই খাদেম সামনে গিয়ে একজন হামলাকারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং বন্দুক কেড়ে নেন।

উদ্ধারকৃত বন্দুকে বেশ কিছু নাম লেখা ছিল। উদ্ধারকৃত নামগুলো হলো, অ্যান্টন লানডিন পেটারসন, আলেক্সান্দ্রে বিসোনেট, স্ক্যান্ডারবেগ, অ্যান্টোনিও ব্রাগাডিন, চার্লস মার্টেল। এছাড়াও আলাদাভাবে উল্লেখ করা ছিল ১৬৮৩ সালের কথা।

অ্যান্টন লানডিন পেটারসন তলোয়ার হাতে ২০১৫ সালে সুইডেনের এক স্কুলে হামলা করে। তার হামলায় দুজন ঘটনাস্থলে নিহত হন। একজন শিক্ষক পরে হাসপাতালে মারা যান। হামলার সময় অ্যান্টন পুলিশের গুলিতে আহত হয়। পরে সে মারা যায়।

আলেক্সান্দ্রে বিসোনেট ২০১৭ সালের এক সন্ধ্যায় কানাডার কুইবেক শহরের এক মসজিদে হামলা চালায়। তার হামলায় ছয়জন প্রার্থনাকারী ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আরো উনিশজন আহত হন। বিসোনেটকে আটক করা হয় এবং অজামিনযোগ্য আজীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

স্ক্যান্ডারবেগ ছিল একজন আলবেনিয়ান নেতা। সে উসমানি এবং মুসলিম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেয়।

মার্কো অ্যান্টোনিও ব্রাগাডিন ছিল ভেনিসের এক মিলিটারি অফিসার এবং উকিল। সে তুরস্কের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে সাইপ্রাসের সাথে তুরস্কের যুদ্ধের সময় তাদের বন্দীদের হত্যা করেছিল।

চার্লস মার্টেল ছিল ফ্র্যাংক সাম্রাজ্যের এক সামরিক কর্মকর্তা। আন্দালুসিয়াতে হওয়া ত্যুর-এর যুদ্ধে সে মুসলিমদের পরাজিত করে।

এছাড়া ব্রেন্টন টারান্টের বন্দুকের গায়ে লেখা ছিল ১৬৮৩ সালের কথা। ১৬৮৩-তে উসমানি সাম্রাজ্য দ্বিতীয়বারের মতো ভিয়েনা দখল করে বলে জানা যায়।

তার বন্দুকে এই নাম সমূহ এবং সালের উল্লেখ থেকেই বোঝা যায়, এটা নিছক কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদীর হামলা নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে মুসলিম নিধনের নব্য এক ক্রুসেড, যার ভয়াবহ প্রকাশ ঘটেছে গতকালের নৃশংস ঘটনায়।

এইচ আর/

আগের সংবাদইবনে খালদুনের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, মৃত্যুর ছয়শ বছর পরেও কেন তাঁকে নিয়ে এত আলোচনা?
পরবর্তি সংবাদঅবরুদ্ধ গাজায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের শতাধিক বোমা হামলা